Main Menu

বসুরহাট পৌরসভার যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থা জরুরী

 

প্রশান্ত সুভাষ চন্দ :

 

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। ভৌগোলিক বলছি এ কারনে এটি জেলার একটি উপকূলীয় উপজেলা। প্রতিবছর বিভিন্ন ঝড় জলোচ্ছাসের সাথে লড়াই করে এ উপজেলার হাজারো মানুষ বেঁচে থাকতে হয়। অন্যদিকে এ লড়াই করা মানুষ গুলোই আমাদের দৈনন্দিন মাছের চাহিদার ৮০ভাগ যোগান দেয়। অপরদিকে রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বুপূর্ণ হওয়ার কারণ এ উপজেলাতেই জন্ম আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির স্থায়ী কমটির অন্যতম সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদের। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী এ দু’নেতার কারনে উপজেলাটি আলাদা গুরুত্ব বহন করে আসছে। অপরদিকে জামায়াত ইসলামের আন্তুর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আবু নাছের মু: আব্দুর জাহেরেরও বাড়ি এ উপজেলায়। এ উপজেলার একমাত্র পৌরসভা বসুরহাট পৌরসভা ১৯৯০সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে পৌরসভার কার্যক্রম। সমস্যা গুলোর মধ্যে অন্যতম হল, মাদক, জলাদ্ধতা, হকার রাজত্ব ও যানজট।

 

৩৫ হাজার জনসংখ্যার এ পৌরসভা ২০১১সালে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হলেও এর সেবার মান নিয়ে এখনো জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এ পৌরসভার ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষমতাবান ও জনপ্রিয় মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা দ্বায়িত্ব পালন করলেও  সঠিক তদারকির অভাবে মানুষ বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকারসহ বিশেষ বিশেষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে যানজট সমস্যা এখন বসুরহাট পৌরসভার প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছো।

 

পৌরসভাটি কাগজে কলমে প্রথম শ্রেণী হলেও যানজট নিরসনে পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর মত কাজ করতে পারছেনা।  সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে যখন বেড়ে চলেছে গণপরিবহন তখন তা নিয়ন্ত্রন ও পরিচালনায় নেই কোন তদারকি। যে কারনে পৌরসভায় প্রতিদিন প্রতিনিয়ত লেগে থাকে অসহ্য যানজট। এখানে নেই কোন বাইপাস সড়ক, নেই কোন ট্রাফিক পুলিশ। এ দুয়ের অভাবে ধুকছে পৌরসভাটি। অথচ পৌরসভা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরনের কোন চেষ্টাও করছেনা। বাংলাদেশে ট্রাফিক আইন দিয়ে যেখানে যানজট নিরসন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়, সেখানে যদি কোন ধরনের তদারকি না থাকে তাহলে সেস্থানে যে অবস্থা হওয়ার কথা তাই হচ্ছে বসুরহাট পৌরসভায়। উপজেলা গেইট থেকে পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত যেতে যেখানে স্বাভাবিক নিয়মে ৫-৬মিনিটি লাগার কথা সেখানে এখন লাগছে, ৪০-৪৫মিনিট।

 

অপরদিকে প্রেসক্লাব(সাবেক নিত্যান্দ মোড় মোড়) থেকে কালামিয়া ম্যানশন হয়ে হক মার্কেট এবং কালামিয়া ম্যানশন হয়ে কলেজ গেইট পর্যন্তও হকার ও ট্রাক থেকে মালামাল লোড আনলোড করার কারনে লেগে থাকে অসহনিয় যানজট। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বসুরহাট এ.এইচ.সি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারী মুজিব কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের উপর। অন্যদিকে বসুরহাট পৌরসভায় গড়ে উঠা বেসরকারী কিন্ডারগার্টেন ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও এ যানজটের শিকার হচ্ছে। অথচ যানজট নিরসনে নেই কোন পদক্ষেপ। সাধারণ মানুষের মতে অচীরেই এ পরিস্থিতির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে পৌরসভা কার্যকর ভূমিকা না নিলে ভবিষ্যতে মানুষ স্বাভাবকি কাজকর্মও করতে পারবেনা।

 

এদিকে বসুরহাট পৌরসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল জিরো পয়েন্ট। উপজেলার দিক্ষনাঞ্চলের চৌধুরী বাজার, বাংলা বাজার, বামনী বাজার, পেশকারহাট, চাপ্রাশিরহাট, চরএলাহী এবং পশ্চিমাঞ্চলের পাটওয়ারী হাট, চাঁড়াভিটা, দিনার দোকান, লোহারপুল ও পাশ্ববর্তী উপজেলা কবিরহাটের ভূঞারহাট, ওটারহাট, ও কবিরহাট সদরের লোকজন বাসে ও সিএনজিতে করে এসে এ জিরো পয়েন্টে নামে। বাস গুলো এখানে থামে। পৌরসভার নির্দেশ অনুযায়ী এখানে প্রতিটি বাস ১মিনিট করে দাঁড়ানোর কথা থাকলেও কোন তদারকি না থাকার কারনে বাসগুলো অনেক সময় ১০-১৫মিনিট করেও থেমে থাকে। ফলে প্রতিনিয়ত লেগে থাকে যানজট। অপরদিকে পৌরসভা মিনি বাসষ্ট্যান্ড হিসেবে জায়গাটিকে স্বীকৃতি দিলেও এখানে কোন যাত্রী ছাউনির ব্যবস্থা নেই। বর্ষা মৌসূমে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি হলেও যারা বিষয়টি দেখার কথা সেই জেলা পরিষদ বা পৌরসভা কেউ সাধারণ মানুষ(যাত্রী) গুলোর এ ভোগান্তি লাগবে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা।  ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মতে জরুরী ভিত্তিতে বসুরহাট পৌরসভার কিছু স্থানে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুবা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরন সম্ভব নয়। এ জন্য বসুরহাট পৌরসভার মেয়র উপজেলা চেয়ারম্যানের আন্তরিকতা লাগবে। তাঁরাই পারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর মাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করতে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *