Main Menu

কোটা সংস্কারে সরকার যা করছে | বাংলারদর্পন 

নিউজ ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে মোট ৫৬ শতাংশ বিভিন্ন কোটায় সংরক্ষণের প্রচলিত নিয়ম বাতিল করে কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে লাগাতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণার পর এ বিষয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি এ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত অনুমোদনের পর সার্কুলার জারি করে কোটা সংস্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরপরই কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে কমিটিতে জনপ্রশাসন সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ছাড়াও কয়েকজন শিক্ষাবিদকে রাখার চিন্তাভাবনা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে শিগগিরই ওই কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবেন। কিন্তু এখনও কমিটি গঠন না হওয়ায় ওই কমিটির কাজের ধরণ ও বিবেচনার বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণার পর তা বাস্তবায়নে আইনি কোনো বাধা আছে কিনা এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, কোটা চালু করার সময় কোনো আইন বা বিধান দিয়ে তা করা হয়নি। সময় সময় সার্কুলার জারি করে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন সার্কুলার দিয়েই কোটা পদ্ধতির সংস্কার, সংযোজন-বিয়োজন বা বাতিল করা যাবে। এজন্য নতুন করে কোনো আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। এছাড়া এতে কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও নেই। সংবিধানে কোটা প্রথাকে স্বীকৃতি দিলেও তা রাষ্ট্রের প্রয়োজন মোতাবেক সরকারের ইচ্ছের উপর বর্তানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলী খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন নির্দেশ দিয়েছেন, তখন সরকার তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, কোটা নিয়ে কি কোনো আইন আছে? নাকি এর জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হয়েছিল? কোটা পদ্ধতি চালু করাই হয়েছিল সার্কুলার দিয়ে। যেটা সার্কুলার দিয়ে করা যায় সেটা সার্কুলার দিয়ে উইথড্রও করা যায়।

অন্যদিকে, কোটা ব্যবস্থা না থাকলেও ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১১ এপ্রিল সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। কাজেই কোটা প্রথা বাতিলের কারণে রাষ্ট্রের অনগ্রসর বা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অধিকারী কোনো গোষ্ঠীর জন্যই কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ।

প্রসঙ্গত: সরকারি চাকরির ৩০ শতাংশ পদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য, নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, জেলা কোটায় ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ সংরক্ষিত রাখার প্রথা বিদ্যমান ছিল।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *