Main Menu

কোটা প্রথা সংস্কার আন্দোলন ভুল পথে যাবার শঙ্কা সৃষ্টি

নিউজ ডেস্ক: ২০১৩ সালের পর কোটা প্রথা সংস্কার আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়লেও গত বছর থেকে আন্দোলনটি নতুন মাত্রা পেতে শুরু করলে চলতি বছর তা আরো বেগবান হতে থাকে। অতি সম্প্রতি আন্দোলনটির ধারাবাহিকতায় ৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে আন্দোলন কিছুটা সহিংসতায় রূপ নেয়ার প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে বর্বরতম হামলার ঘটনায় বিস্মিত হয় দেশের সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ। নতুনভাবে সন্দেহের শুরুটা এখান থেকেই।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ হতে হামলার ঘটনার সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করলে সন্দেহের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পায়। সন্দেহকে আরো উস্কে দেয় যখন আন্দোলনকারীদের মাঝে সন্দেহজনক কিছু অছাত্র এবং মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশ দেখা যায়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পূর্বে ২০১৩ সালে প্রথম কোটা প্রথা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলেও সেসময় সন্দেহজনক কিছু কর্মকাণ্ডের বহি:প্রকাশ ঘটেছিল। কোটা প্রথা সংস্কারের আন্দোলনকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ দেয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন হালে পানি পায়নি। সেসময় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘কোটা-পদ্ধতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে যারা ভাঙচুর, নৈরাজ্য ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে, তাদের পিএসসির অধীনে কোনো চাকরি হবে না।’

বিগত কয়েক বছর কোটা প্রথা সংস্কার নিয়ে আলোচনা -সমালোচনার মাঝে গত ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা সংরক্ষণ বাতিল চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান মীর, বাসসের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক দিদারুল আলম ও দৈনিক আমাদের অর্থনীতির জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক আব্দুল ওদুদের পক্ষে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এখলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া।

এরপর গত মাসের ১৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে বিক্ষোভ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি পেশ করা হয়। গত ৫ মার্চ কোটা প্রথা সংস্কার চেয়ে করা আবেদনটি খারিজ করে দেন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। কিন্তু ৪ এপ্রিল হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হয়। একইদিনে ২৫ ফেব্রুয়ারিতে দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী পুনরায় শাহবাগে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।

কিন্তু চলমান এই আন্দোলনকেও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভিসির বাসভবনে হামলার ঘটনার আগে থেকেই ছাত্রদল ও ছাত্র শিবির বাঁশের কেল্লাসহ তাদের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে আন্দোলন তীব্র করতে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালাতে শুরু করে। এমনকি ৯ এপ্রিল আন্দোলনকারীদের সাথে সরকার পক্ষের ফলপ্রসূ আলোচনার প্রেক্ষিতে এক মাসের জন্য আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা আসলেও তারা তা না মানতে উস্কানিমূলক প্রচারণা অব্যাহত রাখে। ফলে আন্দোলনকারীদের একটি ক্ষুদ্র পক্ষ এখনো বিভ্রান্তিতে পড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেয়।

প্রসঙ্গত: অনেকেই মনে করে থাকেন বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘ সময়ে জনসমর্থিত কোনো ইস্যু না পেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো অন্দোলন গড়ে তুলতে না পেরে এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে তাকে সরকার বিরোধী রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা বুঝতে না পেরে তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ছাত্রনেতা বলেন, কোটা পদ্ধতিতে কয়েকটি ক্যাটাগরি থাকলেও কৌশলে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটাকে সমালোচনা করে হাইলাইট করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদেরকে মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির হাত রয়েছে। ২০১৩ সালের আন্দোলনের সময় মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু অভিমান করে ফেসবুকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে যেনো মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া না হয়।’ প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা হোক। তবু যেনো তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করানো না হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতে না পারি, তাদের অপমান করার কোনো অধিকার আমাদের নেই।’

জানা যায়, পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে সবদিক বিবেচনা করে সমস্যা সমাধানকল্পে সরকারের দৃঢ় আশ্বাসের পর আন্দোলনকে শুধুমাত্র একটি ইস্যুতে সীমাবদ্ধ রেখে এবং আন্দোলনকে বিতর্কমুক্ত রেখে তাকে সফল করতেই আপাতত এক মাসের জন্য স্থগিত করলেও উস্কানিদাতা সেই পক্ষের প্ররোচনায় কিছু ছাত্রের বিরোধীতার কারণে জনমনেও এদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই কারো উস্কানি ও প্ররোচনায় ভুল পথে পা না দিতে প্রকৃত আন্দোলনকারীদেরকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের অভিভাবকবৃন্দের অনেকেই।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *