Main Menu

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বাল্যবিবাহ নিয়ে সমালোচনার ঝড় : ১২ বছরের শিশুর জন্মনিবন্ধনে ১৮

নাঈম তালুকদার >>

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্বপাগলা ইউনিয়নের দামোধরতপী গ্রামে বিয়ের ৪দিন পর ১২ বছরের এক নাবালিকা শিশুবধূকে ১৮ বছর বানিয়ে উৎকোচের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন নিলেন একই গ্রামের দুবাই প্রবাসী ৫০ উধর্ব বছর বয়সী বিয়ে পাগল বর মোঃ সাধু মিয়া । তিনি প্রশাসনের অগোচরে গত ৪ এপ্রিল অসহায় শিশুকন্যার পরিবারকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করেই বিয়ে কাজ সেরে নিয়েছেন বিয়েপাগল সাদু মিয়া। ঐ আলোচিত বাল্যবিবাহের খবরটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেন সাধু মিয়াসহ তার আত্মীয় স্বজনরা। এ নিয়ে স্থানীয় হাটবাজারসহ গ্রামেগঞ্জে যখন আলোচনা আর

সমালোচনার ঝড় উঠে ঠিক তখনও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ও দামোধরতপী গ্রামের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান ঐ সাধু মিয়া তার প্রতিপত্তির জোরে বাল্য বিবাহের রোষানল থেকে বাচঁতে গিয়ে তিনি গত ৮ এপ্রিল পূর্বপাগলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আজির উদ্দিনকে ম্যানেজ করে ১২ বছরের তার বিবাহিতা নাবালিকা শিশু ন্ত্রীকে ১৮ বছর বানিয়ে জন্ম নিবন্ধনের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন তিনি । বাল্যবিবাহের জন্য সরকার কঠোর আইন প্রনয়ন করলেও আইনের প্রয়োগ কি সঠিক বাবে হচ্ছে। কিভাবে একজন বয়স্ক লোক হিসেবে সাধুমিয়া তার ঘরে প্রথম ন্ত্রী ২ ছেলে ও ৪ মেয়ে নাতি নাতনী থাকার পর ও তিনি আবারো বাল্যবিবাহের সিড়িঁতে বসলেন ।

বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পরও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা জেনে ও যেন না জানার ভান করছেন । ঐ বাল্যবিবাহটি নিয়ে যখন সমালোচনার ঝড় উঠে তখন ঐ বাল্যবিবাহকারী সাধু মিয়া দামোধরতপী পয়েন্টে গ্রামের কিছু নিরীহ সন্দেহভাজন লোকজনকে প্রকাশ্যে দিবালোকে গালিগালাজ করে বলেন সাংবাদিকরা শুনে এবং পত্রিকায় লিখে নাকি তার কিছুই করতে পারবে না। তিনি নাকি টাকা পয়সা দিয়ে পুলিশের মুখ ও বন্ধ করে দিবেন বলেও হুশিয়ারী দেন। তার এমন অশালীন কথাবার্তায় গ্রামের অসহায় মানুষজন আতংঙ্কে আছেন । তিনি প্রকাশ্যে নতুন নাবালিকা শিশুটিকে বধু করে নিয়ে তার

নিজ গ্রামে বসবাস করলেও গত কয়েকদিনেও বিষয়টি আইন শৃংখলা বাহিনীর নজরে পড়েনি এমন প্রশ্ন সবার।

সরকার বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করার জন্য আইন প্রয়োগ করলেও তা কেন নজরে পড়েনি। তিনি সরকারের আইন অমান্য করে কিভাবে একটি ১২ বছরের শিশুকে বিয়ে করলেন । এখন তার এই অপকর্ম জায়েজ করতে গিয়ে স্থানীয় পূর্বপাগলা ইউপি সদস্যকে ম্যানেজ করে ১২ বছরের শিশুকণ্যাকে ১৮ বছরের বানিয়ে নিবন্ধন নিলেন। বিবাহিতা শিশুকন্যাটির (নববধু) নাম রিপা

বেগম(১২)। সে দামোধরতপী গ্রামের মৃত কালা মিয়ার মেয়ে। আর বিয়ে বর সাধু মিয়া

একই গ্রামের মৃত সামাদ আলীর ছেলে।

এ ব্যাপারে সাধু মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের

বলেন প্লিজ আমার নিউজটি করবেন না আমার লোকজন আপনাদের সাথে যোগাযোগ করবে

বলে জানান। বাল্যবিবাহের কারণটি জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনের লাইনটি কেটে

দেন।

এ ব্যাপারে পূর্বপাগলা ইউপি ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আজির উদ্দিন বলেন,সাধু

মিয়া আমার নিকট হতে রিপা বেগম(অর্থাৎ) এর বড়বোনের কথা বলে জন্মনিবন্ধন নিয়ে এখন নাবালিকা শিশুকন্যা(নববধূ) রিপার নামে ব্যবহার করেছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হারুণ অর রশিদ জানান বিষয়টি আমি এই প্রথম শুনলাম,তবে জন্ম নিবন্ধনের বিষয়টিতে জালিয়াতি করা আইনগতভাবে দন্ডনীয় অপরাধ। তিনি খোজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানান। 






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *