Main Menu

প্রশ্নফাঁসের কলঙ্ক থেকে মুক্তি চায় জাতি : সরকারের বলিষ্ঠ উদ্যোগ | বাংলারদর্পন 

আজিজ পাশা: গত কয়েক বছর ধরেই প্রশ্ন ফাঁস বাংলাদেশে একটি আলোচিত বিষয়। নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরও সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যাচ্ছিল না। অভিযোগ আছে ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে পাঠানোর সময় বা কেন্দ্র থেকেও ফাঁস হয় প্রশ্ন। প্রশ্ন ফাঁস বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, সরকারের বদনাম করতে এই কাজটি করছে একটি চক্র। এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ জড়িত বলেও অভিযোগ তার। প্রশ্ন ফাঁসকারী এই চক্রকে ঠেকাতে কঠোর হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। গত কয়েক দিনের দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবককে এই অভিযোগে আটক করা হয়েছে।

শেরপুরে প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে ৱ্যাব। মঙ্গলবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা নিশ্চিত করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় ৱ্যাব-১৪ এর একটি টিম। পরে নালিতাবাড়ি থেকে ফরহাদ নামের ওই যুবককে আটক করা হয়। এ সময় জব্দ করা হয় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে আটক ফরহাদ প্রশ্নপত্র বিতরণ ছাড়াও নম্বর পত্র বদলে দেয়ার কাজ করতো বলে জানিয়েছে ৱ্যাব। এর বিনিময়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিতো বলে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে সে। মূলত সে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রশ্ন পেত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই প্রশ্ন বিতরণ করতো।

পাবনাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে ৱ্যাব-১২ সদস্যরা। বুধবার সুজানগর থানার ভিটবিলা এলাকার তার নিজ বাড়ি থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ ৱ্যাব-১২ সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে স্বীকার যে, সে তার ব্যবহৃত মোবইলে হোয়াটস্ এ্যাপ এর মাধ্যমে গ্রুপ তৈরি করে টাকা বিনিময়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তনের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিকট ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রদানের মাধ্যমে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দীতে এইচএসসি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে ৱ্যাব-০৮। ৱ্যাব-০৮, সিপিসি-০২ ফরিদপুর ক্যাম্প সুত্রে জানা গেছে, ৱ্যাব এর কোম্পানী অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রইছ উদ্দিন এর নেতৃত্বে ৩ এপ্রিল ২০১৮ইং সন্ধ্যায় বালিয়াকান্দি উপজেলার পাইককান্দি গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়কারী প্রতারক চক্রের সদস্য হাবিবুর রহমানকে আটক করেন। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১ সেট কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান পেশায় একজন কম্পিউটার অপারেটর। সে প্রতারণার উদ্দেশ্যে নিজেই এইচএসসি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করার নিমিত্তে অনলাইন ভিত্তিক একটি ওয়েব পেইজ চালু করে। ইতিমধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অগ্রিম প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার লোভ দেখিয়ে প্রতারণামূলক ভাবে নিজের বিকাশ এ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়।

বগুড়ায় এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের সদস্য সামিউল ইসলামকে (১৬) আটক করেছে ৱ্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। সোমবার দুপুরে ৱ্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৱ্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে ৱ্যাব এর একটি দল শাজাহানপুর উপজেলার হরিণগাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নিজ বাড়ি থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনসহ সামিউল ইসলামকে আটক করা হয়। মেজর মোর্শেদ জানান, সামিউলকে জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে তার মোবাইলে হোয়াটস্ এ্যাপ এর মাধ্যমে গ্রুপ তৈরি করে। পরে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র বিতরণ ও পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তনের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্রের নামে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য প্রশ্নপত্র বানিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে।

এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানী থেকে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে চক্রটি জড়িত বলে জানা গেছে। রবিবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পাঠানো এক ক্ষুদেবার্তায় জানানো হয়, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ উত্তরের একটি দল রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

এছাড়াও, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে খুলনায় নয়জনকে আটক করা হয়েছে। ৱ্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার মো. এনায়েত হোসেন মান্নানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

কিশোরগঞ্জে এইচএসসির প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে ৱ্যাব। তার নাম জাকির হোসেন ওরফে হৃদয় ওরফে জয় খান। ৱ্যাব-১৪, সিপিসি-২ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক এম. শোভন খান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক জাকির প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত প্রতারক চক্রের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। যারা একটি প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের ব্যাপারে সতর্ক আছে সরকার। ছাড়া পাবে না কোন প্রশ্নফাঁসকারী। সাধারণ জনগণ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই রুখে দিবে প্রশ্নফাঁস, জাতি মুক্ত হবে এক ভয়ানক ব্যধি থেকে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *