Main Menu

ল্যাব টেস্টে শনাক্ত হলো তরমুজের রোগ | বাংলারদর্পন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে তরমুজ ক্ষেতের রোগ শনাক্ত করা গেছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করে জানা গেছে এটি গামোসিস ও ঢলেপড়া রোগ। গত মঙ্গলবার কৃষি বিভাগের চার সদস্যের একটি গবেষক দল মাঠ পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন। দলটি উপজেলার ৭৮ একর তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শন করেছে।

সম্প্রতি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় তরমুজ ক্ষেতে অজানা নিয়ন্ত্রণহীন রোগ দেখা দিয়েছে মর্মে গনমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গবেষক দলটি মাঠ পরিদর্শনে আসে। তারা কৃষকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে নানা পরামর্শও দেন। একই সঙ্গে আগামী মৌসুম থেকে ফসলের মাঠে সরেজমিন কাজ করার আশ্বাসও দেন তারা। এ সময় উচ্চতর পরীক্ষার জন্য রোগাক্রান্ত তরমুজ গাছের নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা।

গবেষক দলের সদস্যরা হলেন, বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ও বারির সাবেক পরিচালক ড. তপন কুমার দে, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (হর্টিকালচার) ড. শাহাবুদ্দীন আহমদ, বারির উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহফুজ আলম ও নোয়াখালী সরেজমিন গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আমির ফয়সল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাসিব আবদুল্যাহ ও পিকেএসএফের অর্থায়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সাগরিকার কৃষি কর্মকর্তা শিবব্রত ভৌমিক।

গত মঙ্গলবার বিকালে গবেষক দল জানান,  প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়সহ কৃষি বিভাগের নজরে পড়ার পরই বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে যাচাই ও গবেষণার সিদ্ধান্ত হয়। সে আলোকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে চলে আসেন তারা।

বারির ল্যাব সূত্র জানায়, আগে সংগৃহীত নমুনার প্রাথমিক পরীক্ষায় রোগটি ছত্রাক ও পোকার আক্রমণজনিত যথাক্রমে গামোসিস ও ঢলেপড়া রোগ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরও গবেষক দল উচ্চতর পরীক্ষার জন্য আরো কিছু নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে।

গবেষকরা জানান, এ রোগ নতুন নয়। তবে এ অঞ্চলে কিছুটা বিরল, তাই কৃষকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এ জাতীয় ছত্রাক ও পোকা মাটির নিচে থাকে। যেকোনো ফসলেই এ রোগ হতে পারে। তবে সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করলে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কৃষকদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ডিলার, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ভুল ওষুধ দিয়েছেন। দেখা গেছে একেকজন কৃষক জমিতে একাধিক ওষুধ ১০-১৫ বার প্রয়োগ করেছে। কোথাও ২০ বারও প্রয়োগ করা হয়েছে। অথচ সঠিক ওষুধ এক থেকে দুবার প্রয়োগ করে যারা অপেক্ষা করেছেন, তারা সুফল পেয়েছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ও বারির সাবেক পরিচালক ড. তপন কুমার দে এবং কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (হর্টিকালচার) ড. শাহাবুদ্দীন আহমদ বণিক বার্তাকে বলেন, তারা আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনে মড়কের কারণ, উত্তরণ ও ভবিষ্যতে করণীয় বলা থাকবে। তরমুজ আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও প্রশিক্ষিত নতুন প্রকল্পও প্রস্তাব দেয়ার কথাও জানান তারা।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *