Main Menu

প্রশ্নফাঁস রোধে ফেসবুকে ছদ্মবেশে  আইন শৃঙ্খলা বাহিনী : সতর্কীকরণ 

 

ডেস্ক রিপোর্ট :

আসছে এইচএসসি পরীক্ষা। শিক্ষাঙ্গন আর ক্যাম্পাস জুড়ে শিক্ষার্থীদের যখন শেষ সময়ে নিজেকে পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুত করার সময়, ঠিক সেই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছে এক দল অসাধু মানুষ। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্ৰুপ আর পেজ খুলে আহ্বান করা হচ্ছে ঐসব গ্ৰুপ আর পেজে যুক্ত হওয়ার। বলা হচ্ছে, তারা পরীক্ষার আগেই দিবে প্রশ্ন। এদের মধ্যে কেউ আবার দিচ্ছে ‘গ্যারান্টি’, আউট হবে শতভাগ প্রশ্ন!

এসব গ্ৰুপ আর পেজ গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, HSC Question Out 2018, HSC Question Out-2018, HSC Exam 2018 100% Common suggestion All Board Out Question, JSC , SSC , HSC Question Out, HSC Question Out 2018 Helping Center ইত্যাদি সহ আরো অসংখ্য গ্ৰুপ ও পেজ।

সব মিলিয়ে সব গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ইতোমধ্যেই অর্ধ লক্ষ ছাড়িয়েছে। ক্লোজ গ্রুপের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত চলছে প্রশ্ন নিয়ে দরদাম। অসচেতন অভিভাবক আর শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় এ যেন এক নিষিদ্ধ ভার্চুয়াল ক্যাম্পাস! আর এর মাঝেই শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, উদ্দেশ্য প্রশ্নফাঁসের মূলহোতাদের আটক করা। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে মহামারী সমস্যায় রূপ নেয়া এই প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হয়ে এই কাজ করছে সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

কেবল প্রশ্নফাঁসকারীদের পিছনে নয়, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবার লেগেছে শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিবাবকদের পিছনেও। এসব গ্ৰুপ বা পেজের পোস্টে যারা লাইক কমেন্টস কিংবা শেয়ার করছে, তাদের সাথে কোনো শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। ফেসবুক আইডি ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে এদের কথোপকথন, প্রতিনিয়ত ভার্চুয়াল সকল কর্মকান্ড পর্যালোচনা করছে তারা। ইতোমধ্যেই ঢাকা মহানগর পুলিশ ১২ জনকে আটক করেছে বিকাশ এর মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার দায়ে। এছাড়া আটক হয়েছেন ছাত্র অভিভাবক সহ আরো ১৮ জন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন জানান, ফেসবুকে আসল বা নকল যাই হোক- প্রশ্নপত্র নিয়ে কোনো পোস্ট দেওয়ায় জড়িতকে ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। ইতিপূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্তকর্তাদের এক বৈঠকে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ১১ টি ধারা গ্রহণ করার প্রস্তাব করা হয়। এর আওতায় রয়েছে, ফাঁস প্রশ্নে পরীক্ষার ফল বাতিল, চিহ্নিত অভিভাবক দের গ্রেফতার, ফাঁস এবং নকলে সহায়তার দায়ে চিহ্নিত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা ইত্যাদি। উক্ত ১১ টি ধারার ১০ নাম্বার ধারাটি ছিল ‘ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও থাকবে নজরদারিতে’।

ধারণা করা হচ্ছে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে ছদ্মবেশে ঘুরতে থাকা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এই ১০ নাম্বার ধারারই বাস্তবায়ন করছে। আর তাই সরকারি ভাবে সকলকে সচেতন করা হচ্ছে ফেসবুক সহ সকল যোগাযোগ মাধ্যমে এই গ্ৰুপ সমূহ এড়িয়ে চলার জন্য। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে নয়, যোগ্যতায় গড়ে উঠুক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *