Main Menu

আমরা কি ব্যর্থ হয়েছি, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ কেন : মওদুদ

নিউজ ডেস্ক :

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাসহ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা ৩৬টি মামলায় লড়তে ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে নিয়োগ দেওয়ায় নাখোশ এবং অপমানিত বোধ করছেন খালেদা জিয়ার মামলার অন্যতম আইনজীবী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, আমরা কি খালেদা জিয়ার মামলা লড়তে ব্যর্থ হয়েছি? তাহলে ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে কেন নিয়োগ দেওয়া হলো? এখন মানুষ কী ভাববে? তারা ভাববে, আমরা (আইনজীবীরা) খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যথাযথ চেষ্টা করিনি। আমাদের ব্যর্থতার কারণেই খালেদা জিয়া এতদিন কারাগারে আছেন। আমাদের চেষ্টায় কি কোনো কমতি ছিল? ছিল না।

ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। এমনকি আমরা বিএনপি চেয়ারপার্সনের জামিনের অর্ডার পর্যন্ত পেয়েছি। কিন্তু এরপর যা হলো তা দেশবাসী খুব ভালো করেই জানে। সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপে কুমিল্লার একটি আদালত থেকে পরোয়ানা জারি হলো। এরপর আবার েউচ্চ আদালত খালেদা জিয়ার জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করলেন। তিনি কিন্তু জামিন পাওয়ার যোগ্য ছিলেন বলেই প্রথমে জামিন দেওয়া হয়েছে। পরে সরকারের হস্তক্ষেপে জামিন ক্যান্সেল করা হয়েছে।

‘আমরা আমাদের চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখিনি। সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করে যদি জামিন ক্যান্সেল করতে আদালতকে বাধ্য করে, তাহলে লর্ড কার্লাইল কেন বিশ্বের কোনো আইনজীবী তার জামিন করাতে পারবে না। তাহলে এখন জনগণ বুঝবে কী? লর্ড কার্লাইলকে নিয়োগ দেওয়ায় তারা বুঝবে, আমরা বিএনপির আইনজীবীরা ব্যর্থ হওয়ায় বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে! এই মূহুর্তে তাকে নিয়োগ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নাই। মামলার শুরুতে তাকে নিয়োগ দিলে কোনো কথা থাকতো না’, বলেন ব্যারিস্টার মওদুদ।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

আর খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে এই মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

একইসঙ্গে খালেদা তারেকসহ দণ্ডিত সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা জরিমানা করা হয়।

এই রায়ের পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। পরে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল ও জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া।

গত ১২ মার্চ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। এরপর জামিন স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল গ্রহণ করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ তার জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *