বান্দরবান সংবাদদাতাঃ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির পোশাকে সেনা টহল অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার। এর জবাবে বাড়তি সদস্য মোতায়েন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
গত ২ মার্চ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে পতাকা বৈঠকের পরও বিজিপির টহলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে সীমান্তে। এ ছাড়া সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য মিয়ানমারের পক্ষ থেকে হুমকি ও চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, তুমব্রু সীমান্তের জিরো পয়েন্টে কোনার পাড়ায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের স্থান ত্যাগ করে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য এখনো হুমকি দিচ্ছে মিয়ানমার সেনারা।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ. কে জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, শূন্যরেখার ওপারে সব সময় বিজিপি, মিয়ানমার সেনা ও নাটালা বাহিনীসহ রাখাইন যুবকেরা ঘোরাঘুরি করছে।
তুমব্রু সীমান্তের ওপারে এখনও মিয়ানমারের সেনা সমাবেশ রয়েছে বলে জানান ৫০ বিজিবির উপঅধিনায়ক মেজর মঞ্জুরুল হাসান খান। তিনি বলেন, ‘ভয়ের কারণ নেই। দেশ রক্ষায়, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বিজিবি। কেউ আক্রমণ চালালে সমুচিত জবাব দেওয়ার প্রস্ততি রয়েছে।’
গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনা অভিযানের মুখে রাখাইন প্রদেশ থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ফেরত নেওয়ার আলোচনার মাঝেই গত ১ মার্চ মিয়ানমার হঠাৎ তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি বাড়তি সেনা মোতায়েন ও ভারী অস্ত্র জড়ো করতে থাকে।
পরদিন ঘুমধুম সীমান্তের কাছে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা পতাকা বৈঠক করেন। এরপর ভারী অস্ত্র ও সেনা সমাবেশ বন্ধ করলেও একদিন পরই মিয়ানমার আবারও বাড়তি সেনা মোতায়েন ও ভারী অস্ত্র জড়ো করতে থাকে।