Main Menu

স্পিন উইকেটে বাংলাদেশেরই বিপদ ?

 

ডেস্ক রিপোর্ট :

বাংলাদেশের স্কোয়াডে থাকা মূল বোলারদের উইকেটসংখ্যা ১৫৫। টেস্টে রঙ্গনা হেরাথের উইকেট ৪১১টি। পেস কিংবা স্পিন—দুই ক্ষেত্রেই শ্রীলঙ্কা এগিয়ে।

এবার আর স্পিনের মুলো ঝুলিয়ে ফ্ল্যাট উইকেট নয়। মিরপুরে নাকি আসলেই স্পিনবান্ধব উইকেট বানানো হয়েছে। সে উইকেট দেখে স্পিনারদের চোখ চকচক করে উঠতে পারে। ইতিবাচক, সাহসী ক্রিকেট খেলতে চাইছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জেতার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না দল।

এই যে ইতিবাচক খেলার চিন্তা, এটা বাংলাদেশের জন্য ভালো। কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন ভাবনা নিয়ে নামলেই হয়তো সিরিজটা ড্র হতো না। প্রথম টেস্টে জেতার পর দ্বিতীয় টেস্টেও যখন সবাই স্পিনবান্ধব উইকেটের আশা করছিল, তখন চট্টগ্রামে ব্যাটিংবান্ধব এক উইকেট বানানো হলো। নেতিবাচকভাবে টেস্ট ড্র করতে গিয়ে ম্যাচ হেরে সিরিজ ড্র। এবার বাংলাদেশ তো উল্টোটাই করছে।

এসব ইতিবাচক চিন্তার মাঝে কাঁটা হয়ে আসছেন সাকিব আল হাসান। দলের অধিনায়ক যে দলের সঙ্গেই নেই। বাঁ হাতের আঙুলের চোটে টেস্ট সিরিজ তো বটেই টি-টোয়েন্টি সিরিজেও না থাকার সম্ভাবনা বেশি তাঁর। তাই স্পিনবান্ধব উইকেট বানানোর কথাবার্তায় মাথায় নেতিবাচক চিন্তা আসছেই। শ্রীলঙ্কার হাতে সিরিজ বাংলাদেশ তুলে দিচ্ছে না তো!

প্রশ্নটা তুলতে হচ্ছে বাংলাদেশের স্কোয়াডের দিকে তাকিয়ে। স্পিনবান্ধব উইকেটের সুবিধা নেওয়ার জন্য দলে তিন স্পিনারকে রাখা হচ্ছে। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গা পাওয়াটা মোটামুটি নিশ্চিত। তৃতীয় স্পিনার হিসেবে কে থাকবেন, এটাই একটু আগ্রহ জাগাচ্ছে। কাঁটায় কাঁটায় চার বছর পর টেস্টে রাজ্জাকের প্রত্যাবর্তন হবে, নাকি তানভীর হায়দার কিংবা নাইম হাসানের অভিষেক ঘটবে, সেটাই আসলে দেখার বিষয়। পেস বোলার হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান তো আছেনই।

শঙ্কাটা তো এ নিয়েই, এ বোলিং আক্রমণ নিয়ে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট তুলে নেওয়া সম্ভব কি না, এ নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। চট্টগ্রামের মরা উইকেটে প্রায় ৪০০ রান খরচ করে ৭ উইকেট পেয়েছেন তাইজুল-মিরাজ। টেস্টে দুজনের মিলিত উইকেটসংখ্যাও সেঞ্চুরি পেরিয়েছে অবশেষে (তাইজুলের ৫৮ উইকেট, মিরাজের ৪৬)। ৯ টেস্টে মোস্তাফিজ পেয়েছেন ২১ উইকেট। স্কোয়াডের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি মাহমুদউল্লাহর হাতে বল দেখার সম্ভাবনা খুব কম।

অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অফ স্পিনার নাইম ও লেগ স্পিনার তানভীরের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার খুব একটা আশা দেখাচ্ছে না। মাত্র ৪টি ম্যাচ খেলে ৯ উইকেট—এ পরিসংখ্যানের চেয়ে চিন্তার বিষয় বাংলাদেশের স্থানীয় ক্রিকেটেই উইকেটপ্রতি ১২০ বল খরচ করতে হয়েছে নাইমকে। তানভীরের উইকেটপ্রতি এর অর্ধেক বল লেগেছে, কিন্তু ৫৮ ম্যাচে মাত্র ৯৭ উইকেট কিন্তু বোলিং-সক্ষমতার খুব বড় কোনো সার্টিফিকেট নয়!

সে ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণিতে ৫০০ উইকেট পাওয়া রাজ্জাকই ভরসা হতে পারেন। কিন্তু চার বছর পরে টেস্টে ফেরা রাজ্জাক কখনোই সাদা পোশাকে জাতীয় দলের ভরসা হতে পারেননি। ১২ টেস্টের ১৮ ইনিংসে কখনোই ৪ উইকেট পাননি। ২৩ উইকেট কিংবা ১২২.৪ স্ট্রাইক রেট তো এরই প্রমাণ। স্থানীয় ক্রিকেটে ভালো ফর্ম দেখিয়ে দলে ফিরেছেন। কিন্তু এটাও ঠিক সর্বশেষ যে ইনিংসে বল করেছেন সেখানে তাঁর বোলিং ফিগার ছিল ২৯.৩-১-১৭৫-১! রাজ্জাকের বাঁহাতি স্পিন ঢাকা টেস্টে আসলেই কতটা কাজে লাগবে, সেটা সময়ই বলে দেবে।

বাঁহাতি স্পিনের প্রসঙ্গ যখন এলই, রঙ্গনা হেরাথকে টানতেই হচ্ছে। বাংলাদেশের পুরো স্কোয়াডের যেখানে ২০০ উইকেট পাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই সেখানে হেরাথের ঝুলিতেই আছে ৪১১ উইকেটের অভিজ্ঞতা। দিলরুয়ান পেরেরার অফ স্পিন কিংবা লক্ষ্মণ সান্দাকানের চায়নাম্যান যে স্পিনিং উইকেটে কতটা ভয়ংকর, সেটা অস্ট্রেলিয়া দল ধবলধোলাই হয়ে বুঝেছিল। সুরঙ্গা লাকমল ও লাহিরু কুমারা কিন্তু শর্ট বল আর বাউন্সার দিয়ে স্পিন উইকেটেও ভালোই কার্যকরী।

শতচেষ্টা করেও তাই বাংলাদেশের বোলিংকে এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না। তাই স্পিনিং উইকেট বানিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করাটা প্রশংসনীয়, কিন্তু বোলিং শক্তিতে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার চেয়ে ঢের পিছিয়ে। এ তো আর অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড নয়। বাংলাদেশ অবশ্য এটাকেই মূলমন্ত্র ভাবতে পারে। নো রিস্ক, নো গেইন!






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *