মন্তব্য প্রতিবেদনঃ ২৮ জানুয়ারি ২০১৮।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, ছিনতাইকারীরা হিংস্র হয়ে উঠেছে। তারা মানুষের কাছ থেকে শুধু টাকাপয়সা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য জিনিস ছিনিয়ে নিচ্ছে না, মানুষকে আঘাতও করছে। ছিনতাইকারীদের হাতে মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে।
এর সর্বশেষ দৃষ্টান্ত ঢাকার গ্রিন রোডের বাসিন্দা হেলেনা বেগম। গত শুক্রবার ভোরে বরিশাল থেকে ঢাকায় পৌঁছে তিনি বাসায় যাওয়ার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। তিনি হেঁটে রাস্তা পার হওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা একটি চলন্ত প্রাইভেট কার থেকে তাঁর হাতের ব্যাগ টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ওই গাড়ির চাকার নিচে পড়ে মারা যান।
তার কিছু আগে পুরান ঢাকার টিকাটুলীতে মো. ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তি কয়েকজন লোকের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে এমন গুরুতরভাবে জখম হন যে হাসপাতালে পৌঁছার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ও নিহত ইব্রাহিমের স্বজনেরা ধারণা প্রকাশ করেছেন যে তিনি ছিনতাইকারীদের নৃশংসতার শিকার হয়েছেন।
উভয় ঘটনা সাম্প্রতিক কালের ছিনতাইয়ের সাধারণ অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে। চলন্ত প্রাইভেট কার বা মোটরসাইকেল থেকে লোকজনের ব্যাগ, মোবাইল ফোন ইত্যাদি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। এই ছিনতাইকারীদের একটা নামও ইতিমধ্যে চালু হয়েছে: ‘টানা পার্টি’। পুলিশ কর্তৃপক্ষ এই টানা পার্টির সদস্যদের সম্পর্কে অবগত আছে। গোয়েন্দা পুলিশ গত মাসে ঢাকায় এদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু তারপরও এদের দৌরাত্ম্য কমেনি।
গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ছুরি, চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল ইত্যাদি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। এ থেকেই অনুমান করা যায়, ছিনতাইকারীরা কত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তারা ছিনতাই করতে গিয়ে বাধা পেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, কখনোবা বাধা পাওয়া ছাড়াই ঘটনার একদম শুরুতেই আঘাত
করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছিনতাইয়ের মুহূর্তে ছিনতাইয়ের শিকার মানুষটি পুলিশের সাহায্য পায় না। ছিনতাইয়ের পরও পুলিশের তেমন কিছু করার থাকে না। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মামলা হয় না।
তাহলে ছিনতাইকারীদের বিপজ্জনক উপদ্রব থেকে জনসাধারণ কীভাবে রক্ষা পেতে পারে? পুলিশ কর্তৃপক্ষের আন্তরিক তৎপরতার দ্বারা। ছিনতাইকারীদের তৎপরতা সম্পর্কে পুলিশের ধারণা আছে, পুলিশের সূত্রেই আমরা জানতে পারি কোন কোন এলাকায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেশি। পুলিশের টহল বাড়ানোর মাধ্যমে পুলিশি সক্রিয়তার দৃশ্যমানতা বাড়ানো দরকার। ঘন ঘন গ্রেপ্তার অভিযান চালানো এবং গ্রেপ্তার লোকদের বিচার করে শাস্তি দেওয়া দরকার।