মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় দরকার আধ্যাত্মিক জাগরণ – অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুনির উল্লাহ্

 

মোঃ আলাউদ্দীন ঢাকা থেকে :

 

আধ্যাত্মিক শক্তিতে জাগরিত ছিল বলেই ইসলামের সোনালী যুগের মুসলমানদের মধ্যে ছিল দৃঢ় ইমানি চেতনা ও একতা। আত্মিকশক্তির এই দর্শন থেকে সরে আসাতে বর্তমান মুসলমানদের মাঝে বিরাজ করছে অনৈক্য ও হতাশা। আর এ সংকট থেকে উত্তরণে ইসলামী আধ্যাত্মিকতার জাগরণের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টির পথ দেখিয়েছেন কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা হযরত গাউছুল আজম (রাঃ)।

আজ ২৭ জানুয়ারি শনিবার রাজধানী ঢাকার গুলিস্থানের কাজী বশির মিলনায়তন সম্মুখস্থ ময়দানে ঐতিহাসিক এশায়াত সম্মেলনে উপস্থিত লাখো মুসলমানের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদ আওলাদে রাসূল হযরতুলহাজ্ব অধ্যক্ষ আল্ল¬¬ামা শায়খ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্ল¬¬াহ্ আহমদী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী এসব কথা বলেন।

তিনি বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, আল্লাহ ও নবীজীর প্রতি আনুগত্যতার অভাব, নবীজির সুন্নাত ও আদর্শ হতে বিচ্যূতি এবং সর্বোপরি কোরআন-সুন্নাহ্র আমল হতে দূরে সরে যাওয়াতে মুসলমানরা আজ সর্বত্র লাঞ্চিত ও অপমাণিত। ফিলিস্তিন, মিয়ানমারসহ বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে মুসলমানরা চরমভাবে নির্যাতিত হচ্ছে, চলছে মুসলিম নিধন। এ সংকট মোকাবেলায় মুসলিম বিশ্বকে একতাবদ্ধ হতে হবে, মুসলমানদের বিশেষত মুসলিম যুব সমাজকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা শরীয়ত ও তরিক্বতের অনুশীলন করতে হবে এবং কুরআন-সুন্নাহ্র পূর্ণ অনুসারী হতে হবে।

পবিত্র জশ্নে জলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) উদ্যাপন ও কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুল্লাহ আওলাদে মোস্তফা খলিফায়ে রাসূল হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রাঃ) স্মরণে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ তরিক্বতের এ সম্মেলনের আয়োজন করে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ।

প্রধান অতিথি কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম (রাঃ)’র বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, এ মহামনীষী ইসলামের খেদমতে, সুন্নাতে মোস্তফার প্রচারে, ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারসহ সকল ক্ষেত্রেই রেখেছেন সমান অবদান। যিনি মুসলিম মিল্লাতের কল্যাণে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ তরিক্বতের প্রবর্তন করেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর এর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দিন, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর এ. কে. এম. ছায়েফ উল্যা, রাজশাহী মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা অধ্যক্ষ হযরতুলহাজ¦  আল্লামা মোকাদ্দছুল ইসলাম, ভবানীপুর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা অধ্যক্ষ হযরতুলহাজ¦ মোহাম্মদ হাসান মাসুদ, মোমেন শাহী ডি. এস. কামিল এম. এ. মাদরাসা অধ্যক্ষ হযরতুলহাজ¦ আল্লামা ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস খাঁন, মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ কানাডা শাখা সচিব আলহাজ্ব মীর মোহাম্মদ কায়কোবাদ, কানাডা আল-ফজল মুনিরী গাউছুল আজম জামে মসজিদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ।

সম্মেলনে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, পীর-মাশায়েখ, জাতীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও বহু আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ দেশ-বিদেশের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহীম হানফি, আল্লামা মুফতি আনোয়ারুল আলম সিদ্দিকী, আল্লামা মোহাম্মদ আশেকুর রহমান, আল্লামা এমদাদুল হক মুনিরী, আল্লামা মোহাম্মদ সেকান্দর আলী ও আল্লামা মুহাম্মদ ফোরকান।

মিলাদ-কিয়াম শেষে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম (রাঃ)’র ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *