ডেস্ক রিপোর্ট :
১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারী পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান অাসাদ।
১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুবখান সরকারের বিরুদ্ধে বাঙালি ছাত্রদের ১১ দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দেন ছাত্রনেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ শহীদ হওয়ার পর তিন দিনের শোক পালন শেষে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ারে ঢাকাসহ সারা বাংলা
অচল হয়ে যায়। সংঘটিত হয় উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান।
১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ পতন ঘটে আইয়ুব খানের। ঐদিনই আরেক স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
সত্তর সালের সেই অভূতপূর্ব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু পাকি সামরিক জান্তার নায়ক ইয়াহিয়া খান অাওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় একাত্তর সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু সুকৌশলে স্বাধীনতা ঘোষনা দেন, “এবারের সংগ্রাম অামাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার
সংগ্রাম” তারই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদ আসাদ এদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের মাঝে চির জাগরুক থাকবেন। তার আত্মত্যাগ ভবিষ্যতেও আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পথ দেখাবে।
তিনি আরও বলেন, ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার সব শ্রেণী পেশার মানুষ জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করে। সে দিনের সেই আন্দোলন পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অাহবানে
মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।