ছাগলনাইয়ার ত্রাস রনি বাহিনী আরো বেপরোয়া :অাতঙ্কে মামলার বাদীরা > বাংলারদর্পন 

 

ফেনী প্রতিনিধি : বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়ার ঘোপালের ত্রাস ‘ রনি বাহিনী’। খুন, চুরি, মহাসড়কে ডাকাতি, নাশকতা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, লুটপাট, সরকারি সম্পত্তি দখল আর মাদক ব্যবসায় মহোৎসবে মেতে ওঠেছে দুর্ধর্ষ এ সন্ত্রাসী বাহিনী। বাপ ছেলের নেতৃত্বে গঠে ওঠা রনি বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ছাগলনাইয়ার দক্ষিন অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। অর্ধশত মামলার আসামি হয়েও নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধ কর্মকান্ড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের কুকর্মের লাগাম টেনে ধরতে  হিমশিম খাচ্ছেন। পুলিশের খাতায় রয়েছে তারা পলাতক। গ্রেফতারের পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবার তারা জড়িয়ে যাচ্ছে অন্ধকার জগতে। এসকল অপরাধের সাহস দিচ্ছেন রনি বাহিনীর প্রধান রনির মা ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কহিনুর। কহিনুর এতই বেপরওয়া যে তার কথা না শুনায় নিজ ছেলেকে ঘরের মধ্যে আটকে পুড়িয়ে মারতেও বুক কাঁপেনি। মায়ের চাঙ্গা মনবলের কারনে পেছনে তাকাচ্ছেনা ছেলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী বাহিনী।

ছাগলনাইয়া থানা সূত্র ও স্থানীয়দের সরেজমিন কথা বলে জানা যায়, ঘোপাল ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের সন্ত্রাসী রনি বাহিনীর প্রধান হচ্ছে মোশারফ হোসেন রনি। রনি  তালিকা ভুক্ত সন্ত্রাসী মহি উদ্দিনের ছেলে। রনির ভাই আনোয়ার হোসেনও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তিন বাপবেটার নামে ফেনী ও ছাগলনাইয়া থানা ৫২ টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি লুটপাটসহ নানা অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে এসব মামলা দায়ের হয়। তন্মধ্যে মোশারফ হোসেন রনির নামে ২৭ টি, আনোয়ার হোসেনের নামে ১৫ টি এবং মহি উদ্দিনের নামে ১০ টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ারা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ফিতরা যাকাতের ওপর নির্ভরশীল কহিনুর মেম্বারের পরিবার এখন কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। জবরদখল করে সরকারি সম্পত্তিতে বড় বড় স্থাপনাও গড়ে তুলেছেন। সূত্র জানায়, রনি বাহিনীর সঙ্গে এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছাড়াও চট্টগ্রাম,খাগড়াছড়ি ফেনী ও নোয়াখালী এলাকার দাগি সন্ত্রাসীদের যোগসাজস রয়েছে। তারা মহাসড়ক সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে টার্গেট করে অপারেশন চালান। তাদের বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দ করলেই তার ওপর চালাচ্ছে হামলা নির্যাতন। আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী রনি বাহিনীর সদস্যদের ভয়ে অনেক প্রভাবশালী পরিবার এখন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। অনেক মামলার বাদীকে অপহরন করে অস্ত্রঠেকিয়ে আদালতে পাঠিয়ে এভিডএভিট দিয়ে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে।

 

রনির মা কহিনুর বেগম জানান ইতি মধ্যে অধিকাংশ মামলার বাদী আদালতে এভিডএভিট দিয়ে অনেক মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে আরোকয়েকটি মামলা এভিডএভিট দিয়ে প্রত্যাহার করে নিবে। ইতিপূর্বে র‌্যাবেও তার সন্ত্রানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিলো। অধিকাংশ মামলা ছিলো পরিকল্পিত ও সাজানো নাটক।

 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিক জানান কহিনুর বেগমের পরিবারের সকল সদস্যের বিরুদ্ধে প্রায় ৬০/৬২টি মামলা রয়েছে। এনিয়ে কোন প্রকার মন্তব্য করতে তিনি রাজীনন।

 

ছাগলনাইয়া থানার ওসি এমএম মোর্শেদ জানান কয়েক দিন পূর্বে উক্ত থানায় যোগদান করেছে। রনি,আনোয়ার ও মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধশত মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *