Main Menu

সভানেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করে যাবো – কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা অাবুল বাশার

একান্ত সাক্ষাৎকারে ফেনী-৩ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আবুল বাশার————

 

 

 

ফেনী-৩ আসনে দুই বার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত দাগনভূঞার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট শিল্পপতি আবুল বাশার আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে কথা হয় আপদমস্তক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবুল বাশার এর সাথে, তিনি বলেন- এলাকার জনগণকে নিয়ে তার স্বপ্ন ও পরিকল্পনার কথা।

 

প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের দুই বারের প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

 

আবুল বাশার : ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পেলেও নতুন প্রার্থী হিসেবে সব দিক সামলে উঠতে পারেনি বলে নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল ফলে বিজয়টা অনিশ্চিত হয়ে যায়। আর ২০১৪ সালেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন জোটবদ্ধ নির্বাচনের কারণে পরবর্তীতে আসনটি জাতীয় পার্টিকে দেয়া হয়েছিল। আমি নেত্রীর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম। দুইবার আ.লীগ আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল, আমি দলীয় সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দল অতীতের কর্মকান্ড বিবেচনা করে আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে আমি আশাবাদি। তবে সভানেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করে যাবো। আমি মনে করি জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটবে।

 

প্রতিবেদক : মনোনয়ন পেলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগীতা পাবেন কিনা?

আবুল বাশার : অবশ্যই সহযোগীতা পাবো। কারণ এবারের নির্বাচন দল ও দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন। দলীয় প্রার্থীকে জিতিয়ে আনা দলীয় নেতাকর্মীদের নৈতিক দায়িত্ব। উন্নয়নের স্বার্থে, দেশের কল্যাণে আ.লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনতে হবে।

 

প্রতিবেদক : অতীতে এলাকার উন্নয়নে কি কি কাজ করেছেন?

 

আবুল বাশার : স্বাধীনতা পরবর্তী দাগনভূঞা-সোনাগাজীর জনগন অবহেলিত। এই অবহেলিত জনতার পাশে থেকে আমি ব্যক্তি উদ্যোগে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা স্থাপন করেছি। সাধ্যমতো দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থিক সহযোগীতা ও কল্যাণে কাজ করেছি। আমার উদ্যোগে ২০১২ সালে দুই উপজেলায় ১০টি স্কুল ভবন ও ২৫টি রাস্তা অনুমোদন করিয়ে দিয়েছি। এলাকার মানুষ যখনই কোন প্রয়োজনে আমার কাছে হাজির হয়েছে তখনি তাদের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেছি।

 

প্রতিবেদক : ধরুন, মনোনয়ন ফেলেন নির্বাচিত হলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন মনে করে কোন কাজগুলো সম্পন্ন করবেন?

 

আবুল বাশার : সরকারী ভাবে এলাকার জনগণের যা পাওয়া উচিত ছিল তা পূরন করবো। মাদকের ভয়াবহতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবো, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ নিমূলে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাবো। সুষ্ঠু, সুন্দুর পড়ালেখার পরিবেশ তৈরি করবো। বেকারত্ব দূরীকরণে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করবো।

 

প্রতিবেদক : স্বাধীনতা পরবর্তী দাগনভূঞা থেকে এমপি নির্বাচিত হয়নি, এবার দাগনভূঞা থেকে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন আসবে বলে আপনি মনে করেন?

আবুল বাশার : এটি নির্বাচনী বোর্ডের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। বোর্ড যাকে মনোনয়ন দেবেন আমরা তার পক্ষে কাজ করবো। এবিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ই চুডান্ত।

 

প্রতিবেদক : মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও ইভটিজিং এর ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি?

আবুল বাশার : জিরো টলারেন্স, সামাজিক এসব ব্যাধি নিমূলে সবোর্চ্চ প্রচেষ্টায় কাজ করে যাবো। মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবী পরিবার ও সমাজের জন্য অশান্তি। এসব বিষয়ে দল-বিদল কাউকে ছাড় দেবো না।

 

প্রতিবেদক : দল থেকে মনোনয়ন না পেলে আপনী কি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন?

আবুল বাশার : জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চুডান্ত। আমার কাছে ব্যক্তির চাইতে দল অনেক বড়। তাই দলের স্বার্থে ত্যাগ অতীতেও করেছি।

 

প্রতিবেদক : ব্যক্তিস্বার্থ, জনগণের স্বার্থ, দলের স্বার্থ কোনটিকে কিভাবে দেখেন?

আবুল বাশার : দল ও জনগণের স্বার্থ আমার কাছে অনেক বড়। আমি ও আমার পরিবার স্বাবলম্ভী, তাই আমাদের চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই।

 

প্রতিবেদক :  আপনি এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার অবহেলিত মানুষের জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?

 

আবুল বাশার : স্থানীয়দের সাথে নিয়ে বিশেষ্জ্ঞ নিয়ে সমস্যা চিহ্ণিত করবো। প্রয়োজন হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা নেবো। জনগণের যা পাওয়া উচিত ছিল তা পূরন করবো। মাদকের ভয়াবহতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবো, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ নিমূলে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাবো।  স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকারী হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নিত করবো, ডাক্তারের সংখ্যা বাড়াতে কাজ করবো। দুই উপজেলায় মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করবো। সুষ্ঠু, সুন্দুর পড়ালেখার পরিবেশ তৈরি করবো। বেকারত্ব দূরীকরণে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করবো। যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবো। শিল্প এলাকা প্রতিষ্ঠা করবো। খেলাধুলার জন্য দুইটি স্টেডিয়াম তৈরিতে কাজ করবো। দুই উপজেলার ব্রিজ-কালর্ভাট, রাস্তাঘাট এর উন্নয়নে কাজ করে যাবো।

প্রতিবেদক : দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধিতে আপনার শিল্প প্রতিষ্ঠানে কত লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে?

 

আবুল বাশার : আমার শিল্প-কারখানায় কর্তকর্তা পর্যায়ের ৯০% লোক আমাদের এলাকার। ভবিষ্যতে বেকারত্ব দূরীকরণে বেকের বাজারে শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা নেয়া আছে। আশাকরছি বছর দুয়েকের মধ্যে কাজ শুরু করবো।

 

প্রতিবেদক: জনশ্রুতি আছে আপনাকে ঢাকা থেকে মনোনয়ন দিবে?

আবুল বাশার : জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চুডান্ত।

 

প্রতিবেদক : স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আপনার কি কোন দুরত্ব আছে?

 

আবুল বাশার : কথাটি সত্য নয়। আওয়ামী লীগে কোন গ্রুপিং নেই। আমাদের সবার মিশন উন্নয়নের রাজনীতি। সবাই মিলে মিশে দেশের উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

 

 






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *