বাহরাইনে জামাতপন্থী রাষ্ট্রদূতের মেয়াদ বাড়াতে বিএনপি-জামাত তৎপর – বাংলারদর্পন

 

বাংলারদর্পন >>>

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত কে এম মমিনুর রহমানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে শুরুর দিকে। কিন্তু তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে বাহরাইনে রাখতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বাহরাইন বিএনপি-জামাতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ,  ইতিমধ্যে তারা রাষ্ট্রদূতের মেয়াদ বাড়ানোর লবিংয়ের জন্য বাহরাইনের শীর্ষস্থানীয় বাঙালী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বড় অংকের ফান্ড ও সংগ্রহ করা হয়েছে, বাহরাইন বি এনপি প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশ স্কুলের পরিচালক মোহাম্মদ আইনুল এর মাধ্যমে।

বি এন পি জামাতের এ কূটনৈতিক তৎপরতার মূলে কাজ করছে বাহরাইনে সরকার দলীয় বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা, বিভিন্ন সূত্রমতে এ কূটনীতিক তৎপরতায় নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাহরাইন শাখার একাংশের সভাপতি শাহ জালাল এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, বাহরাইন শাখার সভাপতি মোহাম্মদ কয়েস।  তাদের তৎপরতায় সায় রয়েছে বাহরাইনের অন্য সরকারদলীয় সংগঠনগুলোরও, জানা যায় বাহরাইন আওয়ামী লীগের আরেকাংশের সভাপতি আলাউদ্দিন নূর, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, বাহরাইন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আব্দুল করিমসহ অন্যান্য নেতারাও তাদের সাথে একত্রিত হয়েছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ সমাজ এর সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফজলুল করিম, বাংলাদেশ সমাজের সাধারণ সম্পাদক,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমাম হোসেন বাবুল, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দও আছেন। জামাত-বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন ঐক্যকে নীতি ও আদর্শহীনতা বলেই দেখছেন বাহরাইনে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িতরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাহরাইন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একজন নেতা বলেন “যেখানে কেন্দ্রীয়  আওয়ামী লীগ নেতারা প্রতিনিয়ত  জামাত-বি এন পির সাথে সবধরনের লিয়াজু ত্যাগ করার কথা বলছেন, সেখানে বাহরাইনের আওয়ামী পরিবারের কর্তাদের এমন আচরণে আমরা লজ্জিত, তারা একজন দূর্নীতিগ্রস্থ ও স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির মদদদাতা ব্যক্তিকে বাহরাইনে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বাহরাইনের ইতিহাস তার ব্যর্থ দূত আর নেই, টাকার লোভে পরে তিনি ও তার কর্মকর্তারা গতবছর প্রায় ৭৫ হাজার ভিসা ইস্যু করেছেন, যেখানে প্রতিবছর আসে মাত্র ২০-২৫ হাজার বাঙালী। গতবছর আসা এ ৭৫ হাজার লোকের প্রায়ই অর্ধেক লোক আসার মাসখানেকের মাথায় এখন অবৈধ হয়ে পড়েছে, এছাড়া দেশে ফেরত যাওয়াদের সংখ্যাও ১০-১৫ হাজারের কম হবে না। বাহরাইনের বাঙালীরা গাল্ফের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় ছিলো,  অথচ আজ তাদের কাজ নাই, কাজ করলে আবার পারিশ্রমিকের কোন নিশ্চয়তা নাই।

 

বর্তমান দূতাবাস ভিসা বন্ধ করলেও বাংলাদেশী টাকায় ৫০-৬০ হাজার টাকা দিলে হরহামেশা ভিসার অনুমোদন দিচ্ছে দূতাবাস বলে জানান ঐ আওয়ামী লীগ নেতা।

 

উল্লেখ্য রাষ্ট্রদূতের মেয়াদ বাড়ানের সুপারিশ করতে একটি দল ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অবস্থান করছে এবং তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শীর্ষ নেতার সাথে দেখা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত জানা যায়, ঢাকা রিজেন্সী হোটেলে তারা মোহাম্মদ কয়েস এর সাহায্যে বর্তমান অর্থমন্ত্রীর ভাই, জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী দূত এম, এ মোমেন এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। ঐ সাক্ষাতে বি এন পি ও জামাতের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতির কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া তারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডঃ দিপু মণি, সাবেক আইন মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরুর সাথে সাক্ষাতের চেষ্টা চালাচ্ছে বলা জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *