নিজস্ব প্রতিবেদক :
শেখ খবির গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর। বয়স ৭০ এর কম না। রাজধানীল মগবাজারে দিনে রিক্সা চালান, রাতে রিক্সার গ্যারেজেই থাকেন। সম্প্রতি এক মধ্যদুপুরে রাজধানীর রামপুরায় কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
এই বয়সে রিক্সা চালান কেনো?
বাবাজি, রিক্সা না চালালে খাব কী?
ছেলে মেয়ে নাই?
চার ছেলে। ওরা ভাত দেয় না। তাই নিজের কাজ নিজে করে খাই।
রিক্সা চালিয়ে দিনে কত পান?
দিনে ৫০০ টাকার ক্ষেপ মারলে ৩০০ টাকা পাই। ২০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়।
একটা রিক্সা কিনলে তো আর ভাড়া লাগে না?
তা ঠিক, কিন্তু রিক্সা কিনলেও যা পামু, এখন ভাড়া রিক্সা চালিয়েও তা পাই।
এমন কেনো?
রিক্সা কিনতে ঝামেলা আছে। লাইসেন্স করতে হবে। রাস্তার খরচ। আবার রাতে রিক্সা রাখার জন্য আবার খরচ সব মিলিয়ে খরচ আরও বেশি হয়ে যায়।
জীবনটাকে কিভাবে দেখছেন?
একটা যুদ্ধ। বয়স ৭০ বছরের কম হবে না। তবুও রিক্সা চালিয়ে খেতে হয়। না হলে উপাস।
স্ত্রী আছে আপনার?
আছে। গ্রামে থাকে। কিছু দিন পর পর টাকা পাঠাই। ছেলেরা আমার বউটাকে খাইতে দেয় না। আমি টাকা পাঠাই তা দিয়েই চলে। এই বয়সে মানুষেরা মরার চিন্তা করে। আর আমি ভাতের চিন্তা করি আমার চার ছেলে থাকার পরও।
জীবন খুবই কষ্টের…
কষ্টের তো আর শেষ নাই বাবাজি। নিজে রিক্সা চালিয়ে খাই। এতে আমার কোনো দুঃখ নাই। কারণ আমি নিজে রুজি করে খাই। আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া মরার আগ পর্যন্ত যেনো কাজ করে খেতে পারি।