সাধু সাবধান – জালাল উদ্দিন চৌধুরী পাপ্পু

ফেনীর আওয়ামী সংস্কৃতি। দলীয় অনুষ্ঠানে দলীয় পদবী গুরুত্বহীন। এখানে ব্যাক্তির জনপ্রতিনিধিত্বের প্রভাব প্রকট। পরশুরামে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আর সাধারন সম্পাদক পরিষদের চেয়ারম্যান। তাই আওয়ামীলীগের বিভিন্ন ইউনিটের প্রোগ্রামে উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার কারনে সাধারন সম্পাদক প্রধান অতিথি আর ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার কারনে সভাপতি বিশেষ অতিথি এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর মেয়র হওয়ার কারনে বিশেষ অতিথি।

 

ডেকোরাম কোথায়? ফুলগাজী উপজেলায় আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার কারনে দলীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ায় বিশেষ অতিথি এবং জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হওয়ায় বিশেষ অতিথি আবার এখানে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হয়েও অর্থবিত্তের কারনে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির চেয়ার অলংকৃত করেন। ডেকোরাম মানেন না।

ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় প্রধান অতিথি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বিশেষ অতিথি আবার জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য সম্পাদক হয়েও অনুষ্ঠানে অতিথির তালিকায় নাম থাকে না। পৌর মেয়র পৌর আওয়ামীলীগের সভপতির নাম থাকে না। এখানে আরো নাম থাকে না জেলা পরিষদ সদস্য এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদকের।

 

জনমনে প্রশ্ন থেকেই যায় আওয়ামীলীগের মত পুরোনো ঐতিহ্যবাহী সংগনের নেতৃবৃন্দ যদি দলীয় অনুষ্ঠানের ডেকোরাম কি হবে না জানে তাদের অবস্থান দলের কোথায় থাকা উচিত? আগে আমাদের নেতাদের নেতার প্রতি সম্মান দেওয়ার শিক্ষা নেওয়া উচিত। কোথাও কোথাও  দেখা যায় দলীয় অনুষ্ঠানে দলীয় পদহীন জনপ্রতিনিধির  আধিক্য এবং দলীয় গুরুত্বপূর্ন পদে থাকা নেতারা পদবী অনুযায়ী সম্মান তো দুরের কথা  বসার জায়গা ও পায় না। একই অবস্থা ফেনী জেলার সর্বত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে এই সব ছবি দেখে মনে প্রশ্ন জাগে এই বুঝি বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ আর এই দলের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন জননেত্রী বঙ্গকন্যা। আর আমরা শিখতেছি এবং জুনিয়রদের শু শিক্ষার বদলে দিচ্ছি কুশিক্ষা।

তারা শিখতেছে দলীয় ডেকোরাম ভঙ্গ করে চেয়ার কুক্ষিগত করার ডেকোরাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *