ফেনী প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট অনিয়ম দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য, অর্ধকোটি টাকা লোপাট

 

ফেনী প্রতিনিধি : ফেনী প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট অনিয়ম দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। উন্নয়নের নামে সরকারী বরাদ্দের প্রায় অর্ধকোটি টাকা ভূয়া-বিল ভাউচার দিয়ে আত্মসাত করছেন ইনস্টিটিউট সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ শাহাদাৎ হোসেন সিকদার ও সিনিয়র ইনিসট্রেক্টর মোঃ ইসরাফিল । পলে পরিক্ষন বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী সুপেয় পানি ও নিরাপদ টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় জরুরী প্রয়োজনে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। পরিক্ষন বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জরুরী এ সকল সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বার বার লিখিত আবেদন দেওয়া হলেও সুপারিনটেনডেন্ট বিষয়টি আমলে নেয়নি। এদিকে পরিক্ষন বিদ্যালয় ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট মেরামতসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের বরাদ্দে টাকা ভুয়া-বিল ও ভাউচার তৈরী করে হাতিয়ে নিচ্ছে সুপারিনটেনডেন্ট এর নেতৃত্বে একটি সিন্ডেকেট। শিক্ষার্থীর অভিবাকেরা চাঁদা তুলে বিদ্যুত মেরামত, বাথরুম পরিস্কার ও পানি পাম্ম কিনেদিলেও তত্বাবধানের অভাবে অল্পসময়ের মধ্যে তা অকেজো হয়ে পড়ে।

ফেনী প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট সিনিয়র শিক্ষক ও অফিস সুত্রেজানা যায়, সরকার আইসিটি ল্যাব রক্ষনা বেক্ষনের জন্য প্রতি ৩ মাসের জন্য প্রায় লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়। বরাদ্ধের কোন টাকা উন্নয়নের কাজে খরচ করা হয়না। ট্রেসিন শিক্ষার্থী ও ইনিসট্রাকদের নিজ টাকায় ইন্টানেট বিলও পরিশোধ করে ক্লাস করতে হয়। এদিকে বর্তমান সরকার কোটি টাকা ব্যায়ে সারাদেশের মত ফেনী প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটএর জন্য একটি আধুনিক মাক্রোবাস উপহার দেন। সুপারিনটেনডেন্ট মাক্রোবাসের তৈলের বিল উত্তোলনে জন্য ফেনীর ছাদিয়া এন্টার প্রাইজ থেকে ভূয়া বিল ভাউচার ছাপিয়ে ৫ লাখ টাকা তৈলের বিল উত্তোলন করে নেন। চলতি অর্থ বছরে ডিপিডিএড তহবিল থেকে ফেনী প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আওতায় ১৭ টি স্কুল থাক লেও ২০টি স্কুলের জন্য শিক্ষা উপকরন ক্রয় বাবত ২লাখ টাকা ও ইনস্টিটিউট এর জন্য এক লাখ টাকা সহ ৩লাখ টাকার শিক্ষা উপকরন ক্রয়ের বরাদ্ধ দেয়। এসকল মালামাল ক্রয়ের জন্য কোটেশান দরপত্রে অংশগ্রহকারী ঠিকাদার ছাদিয়া এন্টার প্রাইজকে ১০হাজার টাকা লভ্যাংশ দিয়ে ঢাকা থেকে মালামাল ক্রয়ের নামে সুপারিনটেনডেন্ট নগদ টাকা নিয়ে নেয়। একই সাথে পরীক্ষন বিদ্যালয় মেরামতের জন্য ৪৫ হাজার টাকা ও মাঠ উন্নয়নের জন্য বরাদ্ধের ৪৮ হাজার টাকর ভুয়া বিল বাউচার তৈরী করে কোন কাজ ছাড়াই পুরো বিল উক্তলন করে নেন। ১৮ আগস্ট শুক্রবার সুপারিনটেনডেন্ট কোয়াটার,মহিলা হোস্টল ও একাডিমি ভবনের ৩টি পানির ট্রাংক, এক ট্রাক পরীক্ষার্থীর খাতা বই, হোস্টেলের ৫টি পিতলের বড় পাতিল সহ প্রায় ৫লাখ টাকার পুরাতন মালামাল নিজে বিক্রিকরে সরকারী কোষাগারে টাকা জমা না দিয়ে সুপারিনটেনডেন্ট ও এক সিনিয়র শিক্ষক ভাগাভাগি করে নেন। অনুসন্ধানে অফিসের একাধিক শিক্ষক ও অফিস সহকারী জানান বছরের পর বছর স্কুল সংস্কার, মেরামত, নানান কাজে কোটি কোটি টাকা খরচ কাগজে কলমে দেখানো হয়। কিন্তু কোন কাজই করা হয়না। প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট একাডিমি সভায় শিক্ষকদের পক্ষথেকে এ সকল বিষয়ে একাধিকবার আপত্তি দেওয়া হলেও সুপারিনটেনডেন্ট কর্ণপাত করতে রাজী নয়। সর্বশেষ স্কুল মাঠ উন্নয়নের ৫০হাজার টাকা দিয়ে ইনিসট্রেক্টরদের ৩টি টেবিল তৈরীর প্রস্তাব করা হলে সুপার ফেনী পিটিঅই উন্নয়নে এক টাকাও ব্যয় করতে রাজীনয় বলে জানিয়ে দেন। পরের সভায় জানান উক্ত টাকা দিয়ে সুপারিনটেনডেন্ট নিজকাজে ব্যবহারের জন্য ফ্রিজ ক্রয় করে অফিস কক্ষে রাখেন। শিক্ষক পরিষদ নেতারা জানা সুপারিনটেনডেন্ট প্রতি মাসে ৯ থেকে ১০দিন ফেনীতে অবস্থান করন। বাকী সময় তিনি তার ঢাকার বাসায় থাকেন। তিনি সপ্তহের সোমবার এসে এক সাথেই ৬দিনের সাক্ষর শেরে নেন। সিনিয়র শিক্ষক পরিষদ জানান সুপারিনটেনডেন্ট ঢাকার বাসা থেকে ফেনীতে ৩দিন অবস্থান করবেন তার খাবার রাখার জন্য মাঠ উন্নয়নের টাকা দিয়ে নিজের জন্য ফ্রিজ করে করে অফিস কক্ষে রেখেদিয়েছেন। টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ইনিসট্রেক্টর মোঃ ইসরাফিল বিদ্যালয়টির দুর আবস্থা ও অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন বিদ্যালয় উন্নায়নের বরাদ্দের টাকা কোন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে তা তাদের জানানেই। বরাদ্ধকৃত টাকা দিয়ে অনেক জরুরী সমস্য সমাদান করা যেতো। ইনিসট্রেক্টর মোঃ আমিনুল জানান স্টাফ মিটিংয়ে সুপারিনটেনডেন্টকে জরুরী কাজের প্রস্তাব না রাখার কথা বলেন,তিনি সকলের উপস্থিতিতে ঘোষনা করেছেন ফেনী পিটিঅই উন্নায়নের কোন কাজ তিনি করবেন না। এমন কোন প্রস্তাব কোই যাতে না রাখেন। তার এসকল কাজে সহযোগিতা করেন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ইনিসট্রেক্টর।

গত ২৩ আগস্ট থেকে সুপারিনটেনডেন্ট কতৃপক্ষকে পাস কাটিয়ে সরকারী পরিপত্রকে অবেজ্ঞা করে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অফিসের গাড়ী নিয়ে ঢাকায় প্রমোদ ভ্রমনে ব্যস্তসময় পার করছেন। এ বিষয়ে গাড়ী চালক বাবলু জানায় গাড়ীটি সামান্য মেরামতের জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে, মেরামত কাজ শেষে। সুপারিনটেনডেন্ট পরিবারের সদস্যরা তা ব্যবহার করছেন। ঈদের পর গাড়ী নিয়ে ফিরে আসবেন। ফেনী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) পরীক্ষন বিদ্যালয়ের অভিবাবক লাকি আক্তার, ফোরকান মিয়া, জয়ানাল আবেদিন জানান প্রতিদিন শিশু শিক্ষার্থীরা বাথ রুমের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রতিটি ফ্যান অকেজো ও বিদ্যুত সুইজ বোর্ড গুলি বিপদজন অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বার বার সুপারের সাথে সাক্ষাত করে বমস্যা সমাদানের চেষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে নিজরা চাঁদাদিয়ে ২০১৬  ও ২০১৭ সালে অভিবাবকেরা তুরে ফ্যান,লাইট,টিউবওয়েল,বাথরুম ও শ্রেনী কক্ষ পরিস্কার করিয়ে দিয়েছে।

এ সকল অনিয়মের বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোলতান মিয়ার দৃষ্টি আকর্শন করা হলে তিনি বলেন শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের পক্ষথেকে বিপুল পরিমান অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফেনী পিটিআই স্কুলের অনিয়ম বিষয়টি তার জানা ছিলোনা। তিনি বলেন ফেনী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এর গাড়ী ঢাকায় থাকার কোন নিয়ম নেই। এটি সরকারী পরিপত্রের পরিপন্তি। সুপারিনটেনডেন্ট স্টেশানের বাইরে যেতে হলে কতৃপক্ষথেকে অনুমতি নিতে হয়। তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন বিষয়টি বিভাগীয় অফিসের জানানেই।

ফেনী প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ শাহাদাৎ হোসেন সিকদার অনিয়মের বিষয়ে বলেন এ সকল অভিযোগ সঠিক নয়। ঢাকায় গাড়ীটি মেরামতের জন্য নিয়ে আসাহয়েছে,কতৃপক্ষের কাছে ছুটির জন্য ই-মেইল করেই ঢাকায় চলে আসি। কাজ শেষ মঙ্গলবার ফেনী ফিরে যাবো।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *