Main Menu

খাগড়াছড়িতে “বারি মাল্টা-১চাষ” সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

 

আব্দুর রহিম,খাগড়াছড়ি সংবাদাতা:

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আঁধার, পার্বত্য খাগড়াছড়ির পাহাড় গুলো সেজে উঠেছে নতুন সাজে। মাল্টার মৃদু স্নিগ্ধ ঘ্রানে ভরে উঠেছে পাহাড়ি বাতাস।

এখানকার আবহাওয়া ও জলবায়ু অনুকূলে থাকায় ২০১৫ সাল থেকে এখানকার কৃষকরা ঝুকছে বারি মাল্টা-১চাষে।

মিষ্টি কমলা(citrus sinensis) যা আমাদের দেশে মাল্টা নামে পরিচিত।কমলার সাথে এর পার্থক্য হল কমলার খোসা ঢিলা আর মাল্টার খোসা লাগানো।

দেশের চাহিদা পূরণের জন্য প্রতি বছর মাল্টা আমদানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। এত দিন আমাদের কাছে চাষ উপযোগি জাত না থাকায় উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি।কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট বারি মাল্টা-১ নামক অত্যান্ত সুস্বাদু ও মিষ্টি একটি জাত উদ্ভাবন করেছে। জাতটি ২০০৩ সালে উদ্ভাবিত হলেও পাহাড়ি এলাকায় ২০১৫ সাল থেকে উপজেলা কৃষি অফিস গুলো পরিক্ষা মূলক ভাবে বারি মাল্টা-১জাতটি বিতরণ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। এর চাষ সম্প্রসারিত হলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি আর্থিক ভাবে ব্যাপক লাভবান হবে কৃষকরা। এমনটায় আশাবাদ ব্যাক্ত করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

কথা হয় গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক গ্রামের মাল্টা চাষী আবদুল মালেক(৩০) এর সাথে, তিনি বলেন আমি ২ একর জায়গাতে ৬শত বারি মাল্টা-১ চারা লাগিয়েছি। বাগানের বয়স দুই বছর এখন প্রায় সব গাছ গুলোতে ফল এসেছে।আশা করি এ বছর প্রায় ৩টন ফলন পাবো।
যার বাজার মূল্য বর্তমানে প্রায়
১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

একই উপজেলায় মোঃ শাহাজ উদ্দিনের গ্রীন টাচ এগ্রো নামক ৪০ একরের রয়েছে এক বিশাল বাগান।
অন্যান্ন গাছের পাশা পাশি সে বাগানে রয়েছে প্রায় ৫৫০টি বারি মাল্টা-১ গাছ। যার সব কটিতেই ঝুলছে ফল। তিনি বলেন বাগানের বয়স প্রায় ৫ বছর। গাছ গুলোতে যে হারে ফলন এসেছে তাতে প্রায় ১১টন মাল্টা পাবো বলে আসা করি এ বছর। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

শুধু আব্দুল মালেক, শাহাজ উদ্দিন নয়, খাগড়াছড়ির গুইমারা, রামগড়, মানিকছড়ি, মাটিরাংগা, তবলছড়ি, দিঘীনালা, মহালছড়ি সহ প্রায় সকল উপজেলায় শুরু হয়েছে মাল্টা চাষ। জনপ্রিয়তার শিখরে পৌছেছে বারি মাল্টা-১

হাফছড়ি ইউনিয়নের উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রহিম মজুমদার বলেন, রসালো সুস্বাদু এই বারি মাল্টা-১ যা পার্বত্য খাগড়াছড়িতে মাল্টা চাষে বিপ্লব ঘটাচ্ছে। এটি এমন একটি ফল যখন অন্যান্ন ফল গুলো শেষ হয়ে যায় ঠিক তখনই এ ফলটি বাজারে বের হয়। বলতে গেলে এটি একটি গেফ ফসল। উঁচু জায়গায় সুনিষ্কাশিত উর্বর মধ্যম থেকে হালকা দো-আঁশ মাটিতে এটি ভাল জন্মে।

মাটিরাঙা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম মিয়া বলেন, এটি একটি লেবু জাতিয় ফসল।একটি প্রাপ্ত বয়ষ্ক গাছে ৩০০-৪০০টি ফল ধরে। হেক্টর প্রতি এর ফলন প্রায় ২০ টন। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা  বিবেচনা করে আমরা আমাদের কৃষকদেরকে বারি মাল্টা-১ চাষে উদ্বুদ্ধ করছি ও প্রশিক্ষন দিচ্ছি। এবং কৃষকদের মাঝে মাল্টার চারা বিতরণ করেছি। আমার উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে মাল্টার বাগান রয়েছে। এতে এ বছর প্রায় ৩৭৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা প্রায়।যেভাবে আমরা কৃষকদের থেকে সাড়া পাচ্ছি তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পার্বত্য অঞ্চল গুলোতে মাল্টার বিপ্লব ঘটবে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *