Main Menu

সত্য, সভ্যতা ও মনুষ্যত্বের চর্চা করতে হবে

মানুষ সামাজিক জীব। তাদেরকে একে অপরের সাথে সহযোগিতা ও সাম্যের মনোভাব নিয়ে চলতে হয়। সভ্যতা ও মনুষ্যত্বের চাষাবাদের চর্চা করতে হয়। অথচ বড়ই পরিতাপের বিষয় – অতীতের সেই সামাজিক সখ্য ও অধিকার-আন্দোলন এখন আর চোখে পড়ে না। আগেকার সামাজিক অবকাঠামো তথা সংগঠনগুলো ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ছে, ব্যবসায়িক হিসেব-নিকাষে মগ্ন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আশ্রয়ে গণমাধ্যমের মত সমাজের দর্পনও ভাড়া খাটছে। এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বপ্নহীন হয়ে পড়েছে। তাদের নিয়ে চিন্তা করার কিংবা তাদের জীবনমান উন্নত কারার মতো নি:স্বার্থ সেবকের আজ বড়ই অভাব। একে অপরের সাথে মানুষ হিসেবে সম্পর্ক বা সহানুভূতি করার চেষ্টা করেনা। চিন্তা করে,  কোন ধর্মের,  কোন বর্নের,  কোন দলের, কোন পোশাকের, কোন গোত্রের, অর্থ বিত্তত কেমন। 

অনিয়মের ক্ষেত্রগুলো ক্রমেই বড় বড় আকার ধারণ করছে। সবকিছুতেই ‘সিস্টেম লস্’ প্রক্রিয়াটি ঝেঁকে বসেছে। যারা ন্যূনতম নিয়ম মেনে চলেন, গঠনতন্ত্র, সংবিধান বা ধর্মীয় বিধান মেনে চলেন , এখন সবচেয়ে বেশি শত্রু তাদেরই। তাই আমজনতা তথা জনসাধারণের জন্য টিকে থাকার সংগ্রামটা নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষিতে দেখা যায়, কারো উপকার করা তো পরের কথা ঠিক আচরণটাই আশা করা যাচ্ছেনা।

একজন আরেকজনের সাথে ট্রিট করছেন ফিড্ব্যাক (ফিরতি বিনিময়) মাথায় রেখে। কাউকে সাহায্য করার আগেও হাজারবার ভেবে নিচ্ছেন ফিরতি বিনিময়ের কথা। শুধু মানবকল্যাণ বিবেচনায় কারো বিপদের সময় কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে না। নিজের আখের গোছাতে অপরকে নি:স্ব করতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করছেন না। মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ দিন থেকে দিন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। দায় নেয়ার বেলায় কাউকে পাশে পাওয়া যায় না। সবার ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অন্যের কাঁধে দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়ার নানারূপী কৌশল। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে অতিচিন্তা ফলে মানুষ পশুশ্রেণীতে পরিণত হচ্ছে। সহকর্মী,  সহোদর ও সমজাতীয় গোত্রের বেলায়ও কোনো ছাড় নেই। আর এই পরিস্থিতিতে নৈতিক মানদন্ডগুলো যেন নীরবে কাঁদে। মানুষ যে মরণশীল প্রাণী, সেই চিরন্তন প্রমাণিত সত্য বাণীটি কেউ মনে রাখছেনা। নিজেদের কর্তব্যজ্ঞানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটার পর একটা নিয়মভঙ্গ করে যাচ্ছেন, অথচ এসব সমাজপতি তথা দলনেতাদের প্রধান কাজ হলো সমাজে নিয়ম-নীতির প্রতিষ্ঠা করা। অর্পিত কাজের ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক মূল্য বিচার করে জনমত গঠন করা। চলমান জীবনযাত্রাকে সহজ ও সমৃদ্ধ করার জন্য সর্বাত্মক কর্মপ্রচেষ্ঠাকে অব্যহত রাখা। বিচারব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে চরমভাবে। ক্ষমতাধর ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে সুবিচারকে নানাভাবে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সুবিচার হলো প্রধানতম ভিত্তি। ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্রের রন্দ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করছে অবিচারের তথাকথিত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন।

সমাজের আরেকটি ক্ষতিকর দিক হলো স্বজনপ্রীতি, যেভাবে হোক পদ রক্ষা  ও গদি-দখলের মোহ। চাকরি ও থোক বরাদ্দ সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি যেন এক ধরনের মহামারী ব্যাধিতে গিয়ে ঠেকেছে। এমন কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া নেই যেখানে স্বজনপ্রীতির অনভিপ্রেত হামলা তথা অন্যায়-অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে না। ‘তিনি আমার লোক’ এই সনদে যদি কারো যোগ্যতার ভিত্তি দাঁড় করানো যায়, তবে দেশের হাজার হাজার প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোগুলো গুঁড়িয়ে দেয়া যেতে পারে। কেবল টাকা ও মামা (প্রভাবশালী ব্যক্তি) ’র বলে যারা আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত তারা হলো পরজীবী শ্রেণির অপদার্থ। তাদের নেই কোনো সম্মানবোধ, নেই ভবিষ্যতের যোগ্যতম ভাবনা। আবার গদি রক্ষা ও দখলের রাজনীতি হলো সমাজের অনেক পুরোনো অসুখ। এ রোগ সারতে হলে আমাদেরকে জীবনমানের প্রথম থেকে (শিকড়) আগাছা উপড়ানোর কাজ শুরু করতে হবে। ভেঙ্গে ফেলতে হবে অনিয়মের আঁখড়া, প্রতিবাদের ভাষা আয়ত্ব করতে হবে। সমতা ও সাম্যের প্রতিষ্ঠায় জনমত গঠন করতে হবে। জীবনে শুদ্ধতার চর্চা করতে হবে। টাকা-কড়ির চেয়ে জ্ঞান, মনন ও আত্মসম্মানবোধকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নৈতিক মূলবোধকে কখনো অবমূল্যায়ন করা যাবেনা। জীবনে চলার পথে সত্য, সভ্যতা ও সুন্দরকে মননে ধারণ করতে হবে।

 

সৈয়দ মনির আহমদ,

সভাপতি-  সোনাগাজী প্রেসক্লাব।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *