Main Menu

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের এমামের বাড়িতে ‘মিট দ্যা প্রেস’

ফেনী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের বাড়িতে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো ‘মিট দ্যা প্রেস’। বুধবার সকাল ১১টায় হেযবুত তওহীদের এমামের নিজ বাসভবনের কনফারেন্স হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘অপপ্রচার ও গুজব সৃষ্টি করে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে হত্যাকান্ড, জ্বালাও-পোড়াও ও লুটপাটের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে অবহিতকরণ’ প্রসঙ্গে এই ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে নোয়াখালীসহ আশপাশের জেলার গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে চলা অন্যায়, অবিচার, অপপ্রচার ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন হেযবুত তওহীদের এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।

বিশেষ করে ২০১৬ সালের ১৪ই মার্চ তাঁর বাড়িতে নির্মাণাধীন মসজিদকে গীর্জা বলে গুজব রটিয়ে যারা হামলা চালিয়েছিল এবং দু’জন হেযবুত তওহীদের সদস্যকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করেছিল, সেই রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা ও তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয় সাংবাদিকদের সামনে। হেযবুত তওহীদের সর্র্বচ্চ নেতা হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম উল্যেখ করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী মানুষের ধর্মীয় অনুভ‚তিকে হাইজ্যাক করে এই ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটিয়েছে এবং আরেকটি গোষ্ঠী পারিবারিক পূর্ব শত্রæতার জের ধরে এই হামলার নেপথ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইন্ধন যুগিয়েছে।

যার ফলে ইতিহাসের জঘন্য্যতম ভয়াবহ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। অথচ এমন একটি ঘটনাকে পরবর্তীতে স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করেছে। ফলে সেই ঘটনায় জড়িত আসামীরা যথাযথ শাস্তির আওতায় আসছে না। তারা সহজেই আইনী ধরাছোঁয়ার বাইরে গিয়ে দম্ভভরে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। নতুন করে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হেযবুত তওহীদ
শত্রæতার বদলে ভ্রাতৃত্বের, হিংসার বদলে সম্প্রীতির, ধ্বংসের বদলে নির্মাণের ও অজ্ঞতার বদলে শিক্ষার আলো জ্বালাচ্ছি।

গত ২৬ বছর হেযবুত তওহীদ একটিও অন্যায় করেনি বা আইনভঙ্গের কাজ করেনি। হেযবুত তওহীদের এমাম আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় উগ্রপন্থার উত্থান ঘটছে। মানুষের ধর্মীয় অনুভ‚তিকে
ব্যবহার করে দেশে দেশে অপরাজনীতি করা হচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সাধারণত সরকারগুলো শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই সঙ্কট মোকাবেলার চেষ্টা করে। বিশ্লেষকরা বলছেন শুধু শক্তিপ্রয়োগ করে ধর্মান্ধতা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি সঠিক আদর্শও লাগবে। এমতাবস্থায় ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরতে হবে এবং জনগণকে সচেতন করতে হবে। একইসাথে উগ্রবাদ মোকাবেলায় ইসলামের সেই প্রকৃত ব্যাখ্যা বা সঠিক আদর্শ (কাউন্টার ন্যারেটিভ) তুলে ধরছে হেযবুত তওহীদ। তিনি উল্যেখ করে বলেন ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা এবং আদর্শ ধর্মপ্রাণ মানুষদের সামনে তুলে ধরতে পারলে ইসলামের নামে চলা এ ধরনের উগ্রবাদ, ধর্মান্ধতা, ধর্মব্যবসা দূর করা সম্ভব।

অথচ বর্তমানে ধর্মব্যবসায়ী একটি গোষ্ঠী ব্যক্তিস্বার্থে, গোষ্ঠীস্বার্থে, রাজনৈতিক স্বার্থে ইসলামকে ব্যবহার করে নানা ধরনের হীন অভিসন্ধি বাস্তবায়ন করছে, এতে মানবতার কোনো কল্যাণ হচ্ছে না। হেযবুত তওহীদের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে আবারও যদি
ধর্মের নামে চলা এসকল অধর্ম বন্ধ করতে হয় তাহলে ইসলামের প্রকৃত রূপ মানুষের সামনে তুলে ধরার
বিকল্প নেই। এই কাজটিই সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে, মানবতার কল্যাণে সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থব্যয়ে
করে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদ।

তিনি আরও বলেন, কতগুলো সুস্পষ্ট নীতিমালার উপরে হেযবুত তওহীদ দাঁড়িয়ে আছে যা হেযবুত তওহীদের সদস্যরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করে, সেগুলো হলো- হেযবুত তওহীদ কখনো কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করবে না, কোনো অবৈধ অস্ত্রের
সংস্পর্শে যাবে না, ইসলামের কোনো কাজ করে স্বার্থ উদ্ধার করবে না, যারা হেযবুত তওহীদের সদস্য
নয় তাদের কাছ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করা হবে না, সক্ষম কোনো মানুষ বেকার থাকবে না, কোনো
ধরনের মাদক সেবন ও মাদক-ব্যবসার সংস্পর্শেও যাবে না, রাষ্ট্রীয় আইন পরিপন্থী কোনো কাজ করবে
না।

এ সময় হেযবুত তওহীদের এমামের বাড়িতে সংঘটিত হামলার সাথে বিভিন্নভাবে জড়িত ব্যক্তিদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয় অনুষ্ঠানে। এছাড়া এলাকার উন্নয়নের জন্য ও লকডাউন পরিস্থিতিতে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় হেযবুত তওহীদের গৃহীত ৪২টি উন্নয়ন প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে হেযবুত তওহীদের এমাম সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং হেযবুত তওহীদের চলমান কার্যক্রম
সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে অবহিত করেন। আলোচনা শেষে তিনি চাষীরহাট উন্নয়ন প্রকল্পের গরুর খামার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস, তৃপ্তি ফুড এন্ড বেভারেজ কোম্পানির কারখানাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গণমাধ্যমকর্মীদেরকে ঘুরে দেখান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হেযবুত তওহীদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় আমির জনাব নিজাম উদ্দীন।

এ ছাড়াও এ সময় ১৪ই মার্চ হামলায় শহীদ পরিবারের সদস্যগণসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হেযবুততওহীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসান, হামলায় ভুক্তভোগী নুরুল হক মেম্বারসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *