Main Menu

সোনাগাজীতে ধর্মীয় শিক্ষার নামে চলছে শিবিরের কার্যক্রম: কয়েকটি স্কুল ছাত্রদের হাতে জিহাদি বই

 

বাংলার দর্পন  ডেস্ক :স্বাধীনতার পর থেকে সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়ন রাজাকার,জামায়াত -শিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ ইউনিয়নে একাত্তরের ভয়ঙ্কর রাজাকার ওবায়দুল হক সহ কয়েকজন রাজাকারের জম্ম। জম্মসূত্রে রাজাকার,রাজাকারের বংশধর জামায়াত- শিবিরের দখলে এ ইউনিয়নটি।

জানাযায়, এ ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার জনগণের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার জামায়াত- শিবির সমর্থক।স্বাধীনতার পর থেকে এ ইউনিয়নের জনগণকে শাসন করে আসছেন রাজাকার ওবায়দুল হক ও তার সহযোগীরা । রাজাকার ওবায়দুল হক  মারা গেলেও ইউনিয়নটি রাজাকার, রাজাকার বংশধর, জামায়াত- শিবিরের নিয়ন্ত্রনে।

অনুসন্ধানে জানাযায়, সোনাগাজীর প্রাচীনতম বিদ্যালয় বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা করেন সাবেক সাংসদ এ বি এম তালেব অালী। আওয়ামীলীগের নেতা স্কুলটি প্রতিষ্ঠাতা করলে ও রাজাকার ওবায়দুল হক ছিল কর্তা ব্যাক্তি। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ছাত্ররা বাধ্যতামূলক ভাবে শিবিরের সংগঠন করতে হত।ফরম পূরন করে ছাত্ররা শিবিরের সংগঠনে যোগ দেয়া ছিল বাধ্যতামূলক। প্রতিমাসে স্কুলে ছাত্র শিবিবের মিটিং চলতো। ১৯৯০ সালের পর এ বি এম তালেব অালী স্কুলটিকে ছাত্র শিবির মুক্ত করেন। কিন্তু ছাত্র শিবির মুক্ত করলে ও ভিতরে -ভিতরে চলছিল তাদের কার্যক্রম। তবে,২০১৭ সালের প্রথম থেকেই ফের সক্রিয় হয়ে উঠে ছাত্র শিবির। ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ ম শ্রেণী পর্যন্ত  রোল ১ উক্ত কমিটির সদস্য। নিয়মিত  প্রত্যেকের হাতে তুলে দেয়া হয় জঙ্গী প্রশিক্ষনের বই ও জিহাদি বই সহ নগদ অর্থ। বিভিন্ন লোভনীয় অপার দেয়া হচ্ছে মেধাবী ছাত্রদেরকে।  শিবির সংগঠনের মূল তার্গেট মেধাবী ছাত্ররা। সে অনুযায় নেয়া হয়েছে ৫ মেধাবী ছাত্র।

কিন্তু সম্প্রতি জঙ্গী প্রশিক্ষনের বই ও জিহাদি বই ধরা পড়লো অভিভাবকের হাতে। কয়েকজন অভিভাবক বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানালেন। আস্তে -আস্তে ঘটনাটি চার দিকে জানা জানি হয়। শিক্ষকেরা ৬ ছাত্রের হাত থেকে ৬ টি বই উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় শনিবারে( ১৯ আগস্ট) স্কুলে জরুরী মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দশম শ্রেণীর ২ ছাত্র শিবির সদস্য কে বহিষ্কার করা হয়। ছাত্র বহিষ্কার করা হলে ফুঁসে উঠে এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা। কিন্তু মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায়।

সূত্রে জানায়, এ স্কুলটিতে ৪৩ জন শিক্ষক /শিক্ষিকা রয়েছে। ১০ জন রয়েছে জামায়াত -শিবির । মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে এ ১০ জামায়াত -শিবির স্কুলের শিক্ষক হয়ে গেলেন।

এ ১০ শিক্ষকের একটি কমিটি আছে। তাদের দল নেতা মোসলেহ উদ্দিন আতাহার। তার বাবা ওই ইউনিয়নের জামায়াত নেতা।২ বছর আগে মোসলেহ উদ্দিন আতাহার পুলিশের উপ পরিদর্শক পদে চাকরি পেয়েছেন। শিবির হওয়ার কারনে চাকরি হারালেন। চাকরি হারিয়ে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত জামায়াত নিয়ন্ত্রিত কুঠির হাট দাখিল  মাদ্রাসায় চাকরি নেনন। ২০১৫ সালে  মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিঞ্চপুর  স্কুলে নিয়োগ পান। এর পর স্কুলটিতে সক্রিয় করেন শিবির সংগঠনকে।

২০১২ সালে স্থাপিত মাদ্রাসাটির  অর্থের যোগান দিচ্ছেন কুয়েত । ছাত্র- ছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ১০৫ জন। শিক্ষক আছেন ১৫ জন। শিক্ষদের কাজ নিয়মিত  মিটিং করা,  দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা। তবে, মাঝে -মাঝে বিলাস বহুল গাড়ি নিয়ে অনেকে যোগ দেন মিটিংয়ে। নিরিবিলি পরিবেশের এ মাদ্রাসায় রয়েছে কয়েকটি আলমারী। আলমারীতে কি এমন ও প্রশ্ন এলাকার আওয়ামীলীগ নেতাদের।

এ মাদ্রাসা থেকে বিঞ্চপুর হাই স্কুলটির দুরত্ব মাত্র ১শ গজ। এ বিদ্যালয়ে রয়েছে প্রায় ২,০০০ ছাত্র- ছাত্রী। মূলত মাদ্রাসা থেকে ইন্দন  দেয়া হচ্ছে স্কুলে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের সাথে স্কুলের জামায়াত- শিবিরের ১০ শিক্ষকের সাথে রয়েছে সু-সর্ম্পক। মোসলেহ উদ্দিন আতাহারের মাধ্যেমে স্কুল এবং মাদ্রাসার মধ্যে সৃষ্টি শিবিরের সর্ম্পক। সাপ্তাহ খানেক আগে মোসলেহ উদ্দিন আতাহার ছাত্রদের হাতে তুলে দেন “এসো আলোর পথে, অামরা কি চাই কেন চাই কিভাবে চাই, কিশোর পত্র,  ইসলামের পরিচিতি নামের নিষিদ্ধ বই গুলো।একই ভাবে অামিরাবাদ মোশারফ -মোয়াজ্জেম দাখিল মাদ্রাসা, সিনিয়র ডিগ্রি মাদ্রাসা,  ছাড়াইতকান্দি মাদ্রাসা, এনায়েত উল্যাহ কলেজ, অাল হেলাল একাডেমি, খাদিজাতুল কোবরা মাদ্রাসা সহ অধিকাংশ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন কৌশলে ওইসব বই বিতরন করা হচ্ছে।

এসকল বিষয়ে জানতে চাইলে বিঞ্চপুর  স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক শহীদ বলেন, কোন ছাত্র বহিষ্কার করা হয় নি। তবে, জামায়াত সমর্থীত শিক্ষক ও ছাত্র শিবির কর্মীকে  প্রাথমিক ভাবে সর্তক করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন,স্কুলে কোন প্রকারে রাজনীতি করা যাবে না।

এ দিকে ২০১২ সালে মোহাম্মদ আবু জাফর নামের এক জামায়াত নেতা কুঠির হাট  মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি চর মজলিশপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি। বর্তমানে মোহাম্মদ আবু জাফর একটি হত্যা মামলায় জেল হাজাতে রয়েছেন।

বর্তমানে দায়ীত্ত্বে থাকা মাদ্রাসার প্রধান মোহাম্মদ মোতের্জা বলেন, মাদ্রাসায় জামায়াত -শিবিরের কোর মিটিং হয় না। রাজনীতির প্রতি হিংসার কারনে অপপ্রচার চালাচ্ছে অনেকে।

আওয়ামীলীগ নেতা ও অত্র ইউপি চে্য়ারম্যান এম এ হোসেন বলেন, আমি মাইকে ঘোষনা করে বলেছি কেউ যেন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের সংগঠন না করে। স্কুল ও মাদ্রাসায় কোন অবস্থায় জামায়াত- শিবিরের রাজনীতি করা যাবে না।

জঙ্গী প্রশিক্ষন বই ও জিহাদি বই বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনাটি সত্য। । বিঞ্চপুর স্কুলে অভিযান চালিয়ে বই গুলো উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই জাকির হোসেন।  স্কুলের প্রধান শিক্ষক হোসেন অালমগীর সব কিছুর মুল হোতা। গত দুবছরে তার সম্পদ বেড়েছে বহুগুন।

এর অাগে সোনাগাজী সিনিয়র ডিগ্রী মাদ্রাসা থেকে বিপুল পরিমান নিষিদ্ধ বই, চাঁদা অাদায়ের রসিদ উদ্ধার করেছিল সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *