Main Menu

জঙ্গী সাইফুল নিজেই বোমা হামলা চালিয়ে নিহত হয়- ডিএমপি

 

বাংলার দর্পন ডটকম : রাজধানীর পান্থপথে আবাসিক হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে তল্লাশির সময় হোটেলের কক্ষের ভেতরে থেকে আত্মঘাতী হওয়া জঙ্গি সাইফুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘সকাল হলে দরজা খুলব, তার আগে না’ এমনটা দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

অভিযান শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে পান্থপথে সাংবাদিকদের এ কথা জানান সিটিটিসি প্রধান মনিরুল।

কাউন্টার টেররিজম প্রধানের ভাষ্য, হোটেল ওলিওতে জঙ্গির অবস্থান শনাক্ত করার পর মঙ্গলবার রাতে রুমে রুমে গিয়ে তল্লাশি করা হয়। তখন সব কক্ষের ভেতরে অবস্থানরত ব্যক্তিরা দরজা খুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু চতুর্থ তলার ৩০১ নম্বর কক্ষের দরজায় নক (কড়াঘাত) করলে, দরজা না খুলে ভেতরে থেকে একজন বলেন, ‘সকাল হলে দরজা খুলব, তার আগে না।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, এর পর ওই কক্ষের ভেতরে থাকা ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ হয়। তখন কৌশলে বাইরে থেকে কক্ষটির দরজায় তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় হোটেলের বাইরে থেকে কক্ষের জানালা দিয়ে ভেতরে কিছু বৈদ্যুতিক তার ঝোলানো দেখা যায়। তখনই নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই কক্ষেই জঙ্গি অবস্থান করছে।

তিনি বলেন, বরিশাল বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন সাইফুল। ৭ আগস্ট চাকরির কথা বলে বাড়ি থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। ঢাকায় আসার পর সংগঠন থেকে শোক দিবসে আত্মঘাতী হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। এরপর বিভিন্নস্থানে থাকার পর সে এই হোটেলে অবস্থান নেয়।’

সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডিতে প্রচুর মানুষের জনসমাগম হয়ে থাকে। নব্য জেএমবি’র একটা সেল বড় নাশকতার পরিকল্পনা করেছে। সেই প্রক্রিয়ার অস্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছিলাম। নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার জন্য তারা মরিয়া হয়ে ওঠে একটা হামলার জন্য।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, শোক দিবসের মিছিলে আত্মঘাতী হামলা চালানো হবে বলে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। আর জঙ্গিরা ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরকে টার্গেট করেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই ৩২ নম্বরের আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। যেহেতু ৩২ নম্বর, পান্থপথ, তিন রাস্তার মোড়—তিন দিক থেকেই মিছিল আসতে পারে, তাই জঙ্গিরা এর আশপাশে অবস্থান করবে পুলিশ খবর পায়। সেই খবরের ভিত্তিতেই সোর্সের মাধ্যমে সাইফুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, সাইফুল ইসলাম নব্য জেএমবির সদস্য। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মনিরুল জানান, মঙ্গলবার রাতে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল আবাসিকের প্রত্যেকটি কক্ষ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ৩০১ নম্বর কক্ষে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। রেইড চলাকালে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালের সব কক্ষ নক করার সঙ্গে সঙ্গে খুললেও সাইফুল তার কক্ষটি খোলেনি বলে জানান মনিরুল ইসলাম।

তিনি আরও জানান, নিহত জঙ্গি সাইফুল ট্রাভেল ব্যাগে করে তিনটি বোমা নিয়ে আসে, যার একটি বিস্ফোরণের ফলে রুমের দরজা, জানালাসহ ভবনের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। আর একটি বোমা বিস্ফোরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অপর একটি বোমা অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই ‘অপারেশন অগাস্ট বাইট’ শেষ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাঙালি জাতি যখন শোক পালনে ব্যস্ত ঠিক তখনি রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের ১ কিলোমিটারেরও কম দূরুত্বে হোটেল ওলিও ড্রিমে তখন অবস্থান করছিল জঙ্গি সাইফুল। বার বার সাইফুলকে আত্মসমর্পণ করার জন্য আহ্বান জানানো হলেও সে সাড়া দেয়নি। পরবর্তীতে অপারেশন ‘অগাস্ট বাইট’ পরিচালনা করা হলে সাইফুল নিজেই বোমা হামলা চালিয়ে মৃত্যুর পথ বেছে নেয়।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *