Main Menu

ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কোন্দল চরমে: সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ওএসডি

 

বাংলার দর্পন ডেস্কঃ

ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে চরম কোন্দল দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে রাত প্রায় সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলা সাধারণ সভাটি শেষ হয় চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে। এ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ইউনিটির সভাপতি শাহজালাল রতন ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খানকে ওএসডি করা হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে এরা নামকাওয়াস্তে সভাপতি-সম্পাদক থাকলেও তাদের কোন ক্ষমতা বা কার্যকারিতা থাকছেনা। এদের পরিবর্তে এখন থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন সহ সভাপতি ইসমাইল হোসেন সিরাজী ও যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল আমিন রিজভী। এর ফলে এরা এখন ‘ঠুঁটো জগন্নাথে’ পরিণত হলেন।

 

সূত্রমতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউনিটি অফিসে প্রথমে নির্বাহী কমিটির সভা ও পরে সাধারণ সভা সংগঠনের সভাপতি শাহজালাল রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিটির প্রায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন সিনিয়র কর্মকর্তা ও সদস্যরা। মূল আলোচ্য বিষয় ছিল কয়েক মাস ধরে পিয়নের বেতন দিতে না পারা, উপ কমিটিসমূহকে মূল্যায়ন না করা, বিভিন্ন সময় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, একই ব্যক্তি দুটি সংগঠনে থেকে (একইসাথে ইউনিটি ও বিদ্রোহী প্রেসক্লাব) সুবিধা গ্রহন করা, -সর্বোপরি সভাপতি-সম্পাদকের ক্লাব চালাতে ব্যর্থতা ইত্যাদি। সভার শুরুতেই বিভিন্ন ইস্যুতে সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন সভাপতি-সম্পাদক। তাদের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ আনা হয়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ক্লাবে আগত অনুদানের বন্টনে অনিয়ম, কারো সাথে আলোচনা ছাড়া কম্পিউটার ক্রয়, দির্ঘদিন ধরে ক্লাবে সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতি, সদস্যদের সাথে দূর্ব্যাবহার, ৭ মাসে কোন সাধারণ সভা করতে না পারা ইত্যাদি। এক পর্যায়ে দু’চারজন ছাড়া প্রায় সকলেই সভাপতি-সম্পাদককে ক্লাব চালাতে “চরমভাবে ব্যর্থ”-বলে অভিহিত করেন এবং তাদের ওএসডি করার দাবি করেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে তাদের ওএসডি করা হয়। এ ধরণের ঘটনা ইউনিটির আট বছরের ইতিহাসে আর ঘটেনি। এর মধ্য দিয়ে অনেকের মনে জমে থাকা চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

 

আজ থেকে আট বছর আগে ২০১০ সালে আমরা ফেনীর কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক এক হয়ে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি গঠন করি। আমি এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। পরবর্তীতে নানা অনিয়মে সংক্ষুদ্ধ হয়ে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আমি আমার সদস্য পদ নবায়ন না করে অনেকটা নীরবে অব্যাহতি নিই এবং গতবছর ফেনী প্রেসক্লাবে সদস্য পদের জন্য আবেদন করে সদস্য পদ লাভ করি। ইতোমধ্যে রিপোর্টার্সে নানা কারণে সদস্যদের মাঝে কোন্দল ছড়িয়ে পড়ে ও তা প্রকট আকার ধারণ করে। বর্তমানে সংগঠনটি একাধিক ভাগে অনেকটা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গত বছর প্রেসক্লাবের দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে রিপোর্টার্সের নেতারা সমঝোতার উদ্যোগ নেবার পরিবর্তে প্রেসক্লাবের একটি ভগ্নাংশের পক্ষ নিয়ে নানা কর্মসূচী দিয়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবারের ঘটনা থেকে এটাই বোঝা গেল-অন্যের ঘরে আগুন দিতে গেলে নিজের ঘরই রক্ষা পায়না। ভবিষ্যতে ইউনিটির পরিস্থিতি প্রেসক্লাবের চেয়ে খারাপ হবেনা-এটা কেইবা বলতে পারে।

 

আসাদুজ্জামান দারা, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি।

 






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *