Main Menu

বিশ্বের দূর্ধর্ষ জিহাদী সংগঠন হিজবুল্লাহ ও হামাস

 

 

অানোয়ারুল হক অানোয়ার : বিশ্বের অালোচিত দুই জিহাদী সংগঠন হিজবুল্লাহ ও হামাস। উভয় দলের উদ্দেশ্য এক স্বাধীন সার্বভৌম ভুখন্ড প্রতিষ্ঠা। এজন্য বছরের পর বছর সশস্ত্র সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে সংগঠন দুইটি।  এদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে, শক্তিশালী ইসরাইলী সরকার। ফিল্লিস্তিন সংকট হচ্ছে বিশ্বের প্রাচীনতম সংকট। গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পথে ঘাটে যাযাবরের ন্যায় বসবাস করছে হতভাগ্য ফিলিস্তিন জাতি। এক সময় ওঅাইসিসহ মুসলিম বিশ্ব ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরব থাকলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। উপসাগরীয় রাজা বাদশারা এখন ইসরাইলের মিত্র। এছাড়া ফিলিস্তিন ইস্যুতে যে দেশটিকে কাটখড় পোহাতে হয়েছে সেই সিরিয়ায় গৃহযুদ্ব বাঁধিয়ে দেয়া হয়েছে। মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারনে ফিলিস্তিন ইস্যুটি ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। এত সত্বেও মাতৃভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ব এবং ইসরাইলী অাগ্রাসন মোকাবেলায় সেখানে গড়ে উঠেছে বিশ্বের দূর্ধর্ষ জিহাদী সংগঠন হিজবুল্লাহ ও হামাস। এর মধ্যে হিজবুল্লাহ লেবাননে এবং হামাস অবরুদ্ব গাজা উপত্যাকায় অবস্থান করছে। হিজবুল্লাহর সাথে ইসরাইলী বাহিনীর তিনবার সন্মুখ যুদ্ব হয়। প্রতিবারই ইসরাইলী বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সন্মুর্খীন অবস্থায় পিছু হটতে বাধ্য হয়। তেমনি গাজা উপত্যাকায় মাত্র কয়েক শতাধিক হামাস সদস্যের নিকট পরাস্ত হয় শক্তিশালী ইসরাইলী বাহিনী।

 

মূলত: এসব জিহাদি সংগঠন একদিনে গড়ে উঠেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের পর বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির গাদ্দারী কর্মকান্ডের চরম খেসারত দিতে হয়েছে নীরিহ ফিলিস্তিন জাতিকে। বৃটেন ও অামেরিকার প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে ফিলিস্তিন ভূখন্ডে ইসরাইল নামক দেশের অভ্যূদয় ঘটলে ফিলিস্তিন জাতির অাশা অাকাংখা চুরমার হয়। নবসৃষ্ট ইহুদী রাস্ট্রকে স্বীকৃতিপ্রদানসহ সর্বক্ষেত্রে সহযোগীতা প্রদান করে বৃটিশ, অামেরিকা ও জার্মানীসহ পশ্চিমা বিশ্ব। ফলে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে শক্তিধর দেশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অাসন পেতে বসে ইসরাইল। এরপর শুরু হয় ফিলিস্তিন জাতির উপর নিপীড়ন এবং উচ্ছেদ। জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদ নিয়ন্ত্রন করে থাকে পশ্চিমা বিশ্ব। ফলে ইসরাইলের দখলদারিত্ব কিংবা হত্যা নির্যাতনের প্রতিকার পাচ্ছেনা ফিলিস্তিন জাতি। অর্থাৎ এভাবে চলছে ফিলিস্তিন ভূখন্ডে ইসরাইলী বাহিনীর কর্মকান্ড। দিনের পর দিন ফিলিস্তিন জাতির উপর সীমাহীন নির্যাতন, হত্যা, গুম, উচ্ছেদ অব্যাহত থাকায় জনমনে ক্ষোভের বর্হি:প্রকাশ ঘটে। এক সময় ফিলিস্তিন মুক্তি সংগঠন ( পিএলও) অাত্নপ্রকাশ করে। তখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুক্তিকামী শত শত যুবক পিএলও’র পতাকাতলে সমবেত হয়ে ইসরাইলী সেনার বিরুদ্বে সন্মুখ সমরে অবতীর্ণ হয়। ফিলিস্তিন সংগ্রাম বেগবান হবার পাশাপাশি পশ্চিমারা সংগঠনটিকে ধ্বংশ করার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। এক পর্যায়ে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে পিএলও’কে অকার্যকর করা হয়।

 

ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পর ফিলিস্তিন নেতৃত্ব পশ্চিমা নির্ভরতার পাশাপাশি পিএলও সশস্ত্র শাখার গুরুত্ব হ্রাস পায়। এসময় ইসরাইল বিরোধী বনাম মধ্যপন্থী গ্রুপগুলোর দ্বন্ধ প্রকট অাকার ধারন করে। ফলে সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষে বহু ফিলিস্তিন যোদ্বা হতাহত হয়। এক কথায় ইসরাইলী অাগ্রাসনের বিরুদ্বে সশস্ত্র প্রতিরোধ স্তিমিত হয়। এ সময় লেবাননে হিজবুল্লাহর অাত্নপ্রকাশ এবং ইসরাইলের বিরুদ্বে একমাত্র সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেয়া হয়। বর্তমান বিশ্বে হিজবুল্লাহকে দূর্ধর্ষ জিহাদি সংগঠন বলা হয়। হিজবুল্লাহ যোদ্বার যুদ্ব কৌশলের ধারেকাছে নেই অনেক শক্তিধর দেশের সেনাবাহিনী। অামেরিকা ও ইসরাইলসহ সামরিক শক্তিধর বহুদেশ হিজবুল্লাহর যুদ্ব কৌশল এবং ক্ষপনাস্ত্র শক্তিতে দিশেহারা। ইসরাইলের সাথে তিনবারের যুদ্বে হিজবুল্লাহ যোদ্বার যে বীরত্ব প্রদর্শন করেছে সেটা স্বরনীয় হয়ে থাকবে। হিজবুল্লাহ যোদ্বারা পশ্চিমা শক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ড্রােনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি অায়ত্ব করেছে। বছরের পর বছর যাবত ইসরাইলী বাহিনীর বিরুদ্বে  প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুবাদে হিজবুল্লাহ যোদ্বারা প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে সমান পারদর্শী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলেছে। সিরিয়া গৃহযুদ্বে হিজবুল্লাহ যোদ্বারা বাসার অাল অাসাদ সরকারের পক্ষে প্রাচীর হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। ফলে উপায়ান্তর না দেখে ওয়াশিংটন হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অাখ্যায়িত করে। লেবানন সেনাবাহিনীতেও হিজবুল্লাহর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।

 

গাজা উপত্যাকায় ইসরাইল অবরোধ অারোপ করে রেখেছে। গাজা’র সাথে মিশরের স্থল সংযোগ থাকলেও কয়েক বছর যাবত মিশর সরকার সেটা বন্ধ করে রেখেছে। ফলে বর্হিবিশ্ব খেকে গাজাবাসী বিচ্ছিন্ন। ইসরাইলী যুদ্ব বিমানগুলো খোঁড়া অজুহাতে প্রায়ই গাজা উপত্যাকায় হামলা চালিয়ে অাসছে। দুই বছর পূৃৃর্বে ইসরাইলী বাহিনী অবরুদ্ব গাজা উপত্যাকায় স্থল অভিযান চালায়। ইসরাইলী সামরিক কমান্ডারদের ধারণা ছিল মাত্র কয়েক ঘন্টায় গাজা উপত্যাকা পদানত করা যাবে। কিন্তু হাতে গোনা মাত্র ৪/৫ শত হামাস যোদ্বার দূর্বার প্রতিরোধে পরাস্ত হয় শক্তিশালি ইসরাইলী বাহিনী। যুদ্বে ইসরাইলী বাহিনীর প্রচুর হতাহত ছাড়াও অনেক যুদ্বযান খোয়াতে হয়েছে। শেষতক এক তরফা ঘোষনার মাধ্যমে পিছু হটে ইসরাইলী বাহিনী। গাজা উপত্যাকায় হামাস যোদ্বরা যে বীরত্ব প্রদর্শন করেছে তা নিয়ে তেলঅাবিব বেশ শঙ্কিত। একদিকে হিজবুল্লাহ অন্যদিকে হামাস। এই দুই শক্তি মিলে একটি অপরাজেয় শক্তি। ইসরাইল লেবাননের হিজবুল্লাহ ও হাজা’র হাসামকে নিয়ে দারুন অস্বস্থিতে ভুগছে। এ দুটি জিহাদি সংগঠনের হামলা থেকে অাত্নরক্ষাকল্পে ইসরাইলের প্রায় সব এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ অাশ্রয় কেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রতিটি ইসরাইলী নাগরিকের সার্বিক নিরাপত্তায় শঙ্কিত সে দেশের সরকার। ফলে ভবিষ্যতে ইসরাইল অাবারো সামরিক অাগ্রাসন চালালে হিজবুল্লাহ ও হামাস যোদ্বাদের বীরত্ব প্রত্যক্ষ করবে বিশ্ববাসী।

 

লেখক : সিনিয়র রিপোর্টার এবং অান্তর্জাতিক বিশ্লেষক।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *