Main Menu

সোনাগাজীর ঐতিহ্য খেজুর রস হারিয়ে যাচ্ছে

ফেনী :
সাগরস্নাত উপজেলা সোনাগাজীতে শীতের সকালে একযুগ আগেও চোখে পড়তো রসের হাড়ি ও খেজুর গাছ কাটার সরঞ্জামসহ গাছিদের ব্যস্ততার দৃশ্য। শীতের সকালে খেজুরের রস নিয়ে গাছিরা বাড়ি বাড়ি হাকডাক দিতেন। মৌসুম শুরু হতেই বাড়ি বাড়ি চলতো খেজুরের রস কিংবা রসের পাটালি গুড় দিয়ে মজাদার পিঠাপুলির আয়োজন।
এছাড়া সোনাগাজীর খেজুরের রস দিয়ে তৈরি গুড়, খেজুর রস ও রাব ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হত। গ্রামবাংলার এ দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। এর প্রধান কারণ বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছ নিধন। এতে কমছে খেজুরের গাছ। দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে খেজুরের রসও । হারিয়ে যাচ্ছে উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজীর ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস।

উপকুলীয় গ্রাম দক্ষিণ চর ছান্দিয়ার কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানাগেছে, পৌষ ও মাঘ এই দুই মাস মিলে শীতকাল। হেমন্তের নতুন চালের গুঁড়ো আর শীতের খেজুরের রস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা পায়েস বানানো হত । ঘরে ঘরে সব বয়সের লোকদের আনন্দ ছিল। এক সময়ে শীত মৌসুমের শুরুতেই গ্রামগঞ্জের মানুষরা খেজুর গাছ কাটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। খেজুর রসে তৈরি নানা প্রকার পিঠা-পায়েস ছিল এ অঞ্চলের মানুষের নবান্নের সেরা উপহার। রস দিয়ে তৈরি করা হতো বাটালি গুড়, ভীড় মিঠাসহ নানা রকমের মজার মজার খাবার সামগ্রী। খেজুর গাছ কাটার সঙ্গে নিয়োজিতদের এ অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় গাছি। আগের সেই ঐতিহ্য এখন আর নেই।

ঋতু বৈচিত্রের ধারায় প্রকৃতিতে ফোঁটায় ফোঁটায় শিশির বিন্দু গায়ে জড়িয়ে আসতে শুরু করেছে শীত। তবে এখন শীতের সঙ্গে খেজুর রসের ঐকান্তিক সম্পর্ক যেন বিলুপ্তির পথে। কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার বহু ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস।
উপজেলার চর ছান্দিয়া গ্রামের গাছি আবদুল হালিম বলেন, আগে শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতাম। সংগৃহীত রস বিক্রি এবং গুড় তৈরী করে মৌসমে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করতাম। কিন্তু খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় মৌসমী এই ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।

চর দরবেশ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগেও শীত মৌসুমে খেজুর রসের তৈরি নানা প্রকার পিঠা-পায়েসসহ সুস্বাদু নবান্নের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে উৎসাহ ও আনন্দের মধ্যে নবান্নকে বরণ করত এ অঞ্চলের মানুষ।
এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় সিডর, মহসিন, আইলা, বুলবুল, ফণীর কারণে বেড়িবাঁধ ও বাড়ীর চতুর্পাশে থাকা সারি সারি খেজুর গাছ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে এ অঞ্চলের খেজুর রস আগের মত নেই। উপজেলার দক্ষিণ চর দরবেশ, দক্ষিণ-পূর্ব চর ছান্দিয়া, পূর্ব বড় ধলী, শাহাপুর, চর খোয়াজ ও চর খোন্দকার এলাকায় কিছু খেজুর গাছ রয়েছে। চলতি মৌসমেও রস পাওয়া যাচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় কম। নতুন লাগানো হচ্ছেনা খেজুর গাছ। অচিরেই হারিয়ে যাবে আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।

ডাঃ গোলাম মাওলা বলেন, খেজুরের রস মানবদেহের জন্য অনেক উপকারি। ফল হৃদরোগ, জ্বর ও পেটের পীড়ায় উপকারি, বলবর্ধক। ফলে প্রচুর লৌহ জাতীয় খনিজ উপাদান আছে।

উপ-বিভাগীয় বন কর্মকতা মাসুদ আলম বলেন, এখানকার আবহাওয়া ও মাটি খেজুর গাছের উপযোগী। শুষ্ক থেকে আর্দ্র যে কোনো স্থানে খেজুর গাছ জন্মাতে পারে। খেজুর গাছের জন্ম ও বৃদ্ধি লাভ সেখানে বেশি ভালো হয় যেখানে দিনের তাপমাত্রা ২৫-৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থাকে। তবে তাপমাত্রা কমে গেলেও খেজুর গাছ বেঁচে থাকতে পারে। খেজুর গাছের জন্য রোদেলা জায়গা চাই। বিভিন্ন ধরনের মাটিতে খেজুরগাছ জন্মাতে পারে। তবে মাটি অবশ্যই সুনিষ্কাশিত হতে হবে। লবণাক্ত মাটিতে খেজুর গাছ ভালো হয়। সোনাগাজী অঞ্চলে এক সময় প্রায় ২০হাজার গাছ ছিল। এখন দুই হাজার গাছ আছে মাত্র । কেউ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে চাইলে বন বিভাগ সহযোগিতা করবে।
ফেনীর সাগরস্নাত উপজেলা সোনাগাজীতে শীতের সকালে একযুগ আগেও চোখে পড়তো রসের হাড়ি ও খেজুর গাছ কাটার সরঞ্জামসহ গাছিদের ব্যস্ততার দৃশ্য। শীতের সকালে খেজুরের রস নিয়ে গাছিরা বাড়ি বাড়ি হাকডাক দিতেন। মৌসুম শুরু হতেই বাড়ি বাড়ি চলতো খেজুরের রস কিংবা রসের পাটালি গুড় দিয়ে মজাদার পিঠাপুলির আয়োজন।
এছাড়া সোনাগাজীর খেজুরের রস দিয়ে তৈরি গুড়, খেজুর রস ও রাব ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হত। গ্রামবাংলার এ দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। এর প্রধান কারণ বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছ নিধন। এতে কমছে খেজুরের গাছ। দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে খেজুরের রসও । হারিয়ে যাচ্ছে উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজীর ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস।

উপকুলীয় গ্রাম দক্ষিণ চর ছান্দিয়ার কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানাগেছে, পৌষ ও মাঘ এই দুই মাস মিলে শীতকাল। হেমন্তের নতুন চালের গুঁড়ো আর শীতের খেজুরের রস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা পায়েস বানানো হত । ঘরে ঘরে সব বয়সের লোকদের আনন্দ ছিল। এক সময়ে শীত মৌসুমের শুরুতেই গ্রামগঞ্জের মানুষরা খেজুর গাছ কাটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। খেজুর রসে তৈরি নানা প্রকার পিঠা-পায়েস ছিল এ অঞ্চলের মানুষের নবান্নের সেরা উপহার। রস দিয়ে তৈরি করা হতো বাটালি গুড়, ভীড় মিঠাসহ নানা রকমের মজার মজার খাবার সামগ্রী। খেজুর গাছ কাটার সঙ্গে নিয়োজিতদের এ অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় গাছি। আগের সেই ঐতিহ্য এখন আর নেই।

ঋতু বৈচিত্রের ধারায় প্রকৃতিতে ফোঁটায় ফোঁটায় শিশির বিন্দু গায়ে জড়িয়ে আসতে শুরু করেছে শীত। তবে এখন শীতের সঙ্গে খেজুর রসের ঐকান্তিক সম্পর্ক যেন বিলুপ্তির পথে। কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার বহু ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস।
উপজেলার চর ছান্দিয়া গ্রামের গাছি আবদুল হালিম বলেন, আগে শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতাম। সংগৃহীত রস বিক্রি এবং গুড় তৈরী করে মৌসমে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করতাম। কিন্তু খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় মৌসমী এই ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।

চর দরবেশ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগেও শীত মৌসুমে খেজুর রসের তৈরি নানা প্রকার পিঠা-পায়েসসহ সুস্বাদু নবান্নের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে উৎসাহ ও আনন্দের মধ্যে নবান্নকে বরণ করত এ অঞ্চলের মানুষ।
এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় সিডর, মহসিন, আইলা, বুলবুল, ফণীর কারণে বেড়িবাঁধ ও বাড়ীর চতুর্পাশে থাকা সারি সারি খেজুর গাছ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে এ অঞ্চলের খেজুর রস আগের মত নেই। উপজেলার দক্ষিণ চর দরবেশ, দক্ষিণ-পূর্ব চর ছান্দিয়া, পূর্ব বড় ধলী, শাহাপুর, চর খোয়াজ ও চর খোন্দকার এলাকায় কিছু খেজুর গাছ রয়েছে। চলতি মৌসমেও রস পাওয়া যাচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় কম। নতুন লাগানো হচ্ছেনা খেজুর গাছ। অচিরেই হারিয়ে যাবে আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।

ডাঃ গোলাম মাওলা বলেন, খেজুরের রস মানবদেহের জন্য অনেক উপকারি। ফল হৃদরোগ, জ্বর ও পেটের পীড়ায় উপকারি, বলবর্ধক। ফলে প্রচুর লৌহ জাতীয় খনিজ উপাদান আছে।

উপ-বিভাগীয় বন কর্মকতা মাসুদ আলম বলেন, এখানকার আবহাওয়া ও মাটি খেজুর গাছের উপযোগী। শুষ্ক থেকে আর্দ্র যে কোনো স্থানে খেজুর গাছ জন্মাতে পারে। খেজুর গাছের জন্ম ও বৃদ্ধি লাভ সেখানে বেশি ভালো হয় যেখানে দিনের তাপমাত্রা ২৫-৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থাকে। তবে তাপমাত্রা কমে গেলেও খেজুর গাছ বেঁচে থাকতে পারে। খেজুর গাছের জন্য রোদেলা জায়গা চাই। বিভিন্ন ধরনের মাটিতে খেজুরগাছ জন্মাতে পারে। তবে মাটি অবশ্যই সুনিষ্কাশিত হতে হবে। লবণাক্ত মাটিতে খেজুর গাছ ভালো হয়। সোনাগাজী অঞ্চলে এক সময় প্রায় ২০হাজার গাছ ছিল। এখন দুই হাজার গাছ আছে মাত্র । কেউ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে চাইলে বন বিভাগ সহযোগিতা করবে।
#সৈয়দ মনির আহমদ

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *