ফেনী আদালতের চালকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

ফেনী :
ফেনীর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের গাড়ি চালক মোবারক হোসেন জুয়েলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন এক গৃহবধূ।

রোববার ফেনীর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ ওসমান হায়দার অভিযোগটি গ্রহণ করে ফেনী পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

বাদী পক্ষের অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু জানান, নির্যাতিত গৃহবধূ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের গাড়ি চালক মোবারক হোসেন জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ফেনী পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মোবারক হোসেন জুয়েল ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বাথানিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। সে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের গাড়ি চালক।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর ২০১২ সালে বিয়ে হয়। তার একটি মেয়ে রয়েছে। গৃহবধূর স্বামীর সাথে সোনাগাজী মহেশ্চর গ্রামের জনৈক সাইফুলের বন্ধুত্ব ছিল।

সাইফুলের সঙ্গে ২/৩ বার তার বাসায় আসা যাওয়া করে ছিল চালক জুয়েল। ২০১৭ সালের ১২ মার্চ আসামি মোবারক হোসেন জুয়েল ওই মেয়ের ভাড়া বাসায় গিয়ে তার স্বামীকে খোঁজ করে।

আসামি এক গ্লাস পানি খাওয়ার জন্য অনুরোধ করে ঘরে প্রবেশ রুমাল দিয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে। স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী ও সামাজিক লোক লজ্জার কারণে স্বামীকে না বলে চুপ থাকে ধর্ষনের শিকার গৃহবধু ।

ধর্ষণের ঘটনা ও তার নগ্ন অবস্থার ছবি মোবাইলে ধারণ করে জুয়েল। ভিডিও নেটে ছাড়ার কথা বলে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা দাবি করে । বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। একইভাবে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময়ে প্রায় শতবার ধর্ষণ করে। মহিলার শিশু কন্যা সন্তান ও ক্যান্সার আক্রান্ত স্বামীর কথা চিন্তা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করিয়া ব্যর্থ হয়।

প্রায় ২ বৎসর পূর্বে আসামির নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে বাসা পরিবর্তন করিয়া সোনগাজী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে বেলায়েত মিয়ার বিল্ডিং এর বাসা ভাড়া নেয়। নতুন ভাড়া বাসায়ও আসামি পূর্বের মত ভয়ভীতি দেখাইয়া একাধিকবার ধর্ষণ করে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় বাদীনির স্বামী দোকানে থাকায় ও সন্তান মাদ্রাসায় থাকার সুযোগে জুয়েল তাকে ধর্ষণ করে এবং দুই লাখ টাকা দাবি করেন।

জুয়েলের দৃষ্ট্রান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন ধর্ষণের শিকার গৃহবধুর স্বামী ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *