Main Menu

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে সাংবাদিক গাজী হানিফকে হয়রানি

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি :
সরকারি রাস্তা দখল ও জনগণের চলাচলের পথ বন্ধ করার অভিযোগে সোনাগাজীর সোলায়মান নামে সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দৈনিক অগ্রসর পত্রিকার ফেনী জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক গাজী মোহাম্মদ হানিফ’কে চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করছে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী লায়লা আক্তার।

ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক গাজী মোহাম্মদ হানিফ এর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফেনীর সোনাগাজীতে থাক খোয়াজের লামছি মৌজার মুহুরী প্রকল্প এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ীবাঁধ ও সরকারী রাস্তা দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী সোলায়মান (প্রকাশ- মেজর সোলায়মান) নামক ব্যক্তি লোহার গেইট স্থাপন করে জনগণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও সড়কের পাশে তারকাঁটার ঘেরা দেওয়ায় দুর্ঘটনা আশংকায় স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা উম্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ দখলদার প্রভাবশালী হওয়ায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তারকাঁটার ঘেরা ও সড়কে স্থাপিত লোহার গেইট অপসারণ করেনি সাবেক ঐ সেনা কর্মকর্তা।

বিষয়টি নিয়ে সরকারি মিডিয়া ভুক্ত জাতীয় পত্রিকা ও ফেনীর স্থানীয় নিবন্ধিত একাধিক পত্রপত্রিকা ও নিবন্ধিত একাধিক অনলাইন সহ শতাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। নিউজটি স্ব-স্ব পত্রিকার প্রতিনিধিগণ তাদের পত্রিকায় প্রকাশ করে। অথচ উক্ত সংবাদ প্রকাশের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ঐ সাবেক সেনা কর্মকর্তা শুধুমাত্র স্থানীয় সাংবাদিক গাজী মোহাম্মদ হানিফ’কে অভিযুক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ও ২৯ ধারায় মামলা দিয়ে হয়রানি ও গ্রেফতার করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তার ছেলে ওমর বিন সোলায়মানকে বাদী করে সাইবার পিটিশন মামলা নং ২২৭/২০২১, ফেনী। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫ ও ২৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। সাংবাদিক গাজী হানিফের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও হয়রানির প্রতিবাদে ফেনীর সোনাগাজীতে সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে একাধিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

যার সংবাদ দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক আলোকিত সকাল, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা, হাজারিকা প্রতিদিন, দৈনিক লাখো কণ্ঠ, দৈনিক আজকের জনবাণী, দৈনিক আলোকিত দেশ, দৈনিক স্টারলাইন, দৈনিক নয়াপয়গাম, দৈনিক প্রভাত আলো, দৈনিক ফেনীর সময়, দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিন, সাপ্তাহিক ফেনীর ডাকসহ অসংখ্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

লায়লা আক্তার জানায় প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে তার স্বামী সাংবাদিক গাজী মোহাম্মদ হানিফ এর বিরুদ্ধে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠায় ফেনীর পিবিআই। অথচ সংবাদ প্রকাশের পর ঐ সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্তৃক সরকারি ৫ একর ৭৬ শতক খাস জায়গা সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখলের সত্যতা পাওয়া যায়। সোনাগাজীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে সোলায়মানের দখলে থাকা ৫ একর ৭৬ শতক খাস জমি উদ্ধার করেন যাহা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। অথচ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলায় সাংবাদিক গাজী হানিফ হয়রানির শিকার হচ্ছে।

২০০৮ সালে আলোকিত ফেনী ও ফেনী সংবাদ সহ একাধিক পত্রিকায় “সোনাগাজীতে মেজর সোলেমানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রান্তিক কৃষকদের ৩৮০ একর জমি জবরদখলের অভিযোগে ফেনীর পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত টিম ৪০৩৮ নং স্মারকে সোলায়মান কর্তৃক ভূমি দখলের চেষ্টা চালাইতেছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

সোলায়মান কর্তৃক দায়েরকৃত ২০০৬ সনের ১৩৭ নং জিআর মামলার রায়ে একস্থানে উল্লেখ করা হয় “যুক্তিতর্ক কালে আসামি পক্ষের বিজ্ঞ কৌসুলি বলেন, এজাহারকারী সেনাবাহিনীর সাবেক অফিসার হওয়ার সুবাধে প্রভাব খাটাইয়া মিথ্যা ও ভূয়া মামলায় আসামীগণকে জড়াইয়াছেন। অবশ্য সাপ্তাহিক ফেনী সংবাদ পত্রিকায় ভূমিদস্যু হিসাবে তাহার নাম উল্লেখ আছে” প্রকৃতপক্ষে এজাহার কারী এই দাগের জমির মালিক নয়।

কৃষক সফিউল্লা, নাছির, মিলন, ইব্রাহিম, কেফায়েত, নজরুল, নিজাম সহ স্থানীয় লোকজন জানান সোলায়মানের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলেই তিনি এলাকার লোকজনকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং স্থানীয় জনসাধারণের পক্ষ থেকে সোনাগাজী সদর ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর রাস্তা উম্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন পেশ করা হয়। সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আরেফিন জানান সোলায়মানের বিরুদ্ধে এর আগেও তার পল্লী আদালতে মানুষের জমি দখলের ৮/১০টা অভিযোগ দায়ের করেছে লোকজন। তাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নোটিশ করা হলে সে পল্লী আদালতে হাজির নাহয়ে উল্টো চেয়ারম্যান ও অভিযোগ কারীদের বিবাদী করে এডিএম কোর্টে মামলা দায়ের করে হয়রানি করেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ সোনাগাজী মুহুরী প্রজেক্ট আঞ্চলিক মহাসড়কে সোলায়মান কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভূমি মালিকগণ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। ১৩ ই সেপ্টেম্বর ২০২১ ফেনীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর জনগণের চলাচলের জন্য সড়ক উম্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়, অভিযোগের অনুলিপি ফেনী-৩ আসনের সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, এএসপি সার্কেল, আইএসপিআর, সোনাগাজী মডেল থানা ও গণমাধ্যম অফিসে পাঠানো হয়।

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সরেজমিন তদন্ত করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নুরুন্নবী, তিনি বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন এই সড়ক কাউকে ইজারা দেওয়া হবেনা, এটি সকলের চলাচলের জন্য উম্মুক্ত থাকবে। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং বিকেলে বাংলাদেশ মানবাধিকার সম্মিলন (বামাস) চেয়ারম্যান এড. জাহাঙ্গীর আলম নান্টু সহ গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দখলদার সোলায়মান’কে উক্ত সড়ক উম্মুক্ত রাখার অনুরোধ জানান। ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নির্দেশে ১২অক্টোবর ২০২১ ইং দুপুরে সরেজমিন তদন্ত করেন সোনাগাজী মডেল থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) আবদুর রহিম সরকার, সাব ইন্সপেক্টর মোবারক হোসেন ও বেলায়েত হোসেন।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা সোলায়মান সরকারি রাস্তায় গেইট ও গাছ লাগানোর বিষয়টি স্বীকার করেন, উক্ত সড়কে কাউকে চলাচলে বাঁধা দেওয়া হবেনা বলে জানান। তবে সড়কে স্থাপিত প্রতিবন্ধকতা (লোহার গেইট) অপসারণ করতে তিনি রাজি হননি।

২০ অক্টোবর ২০২১ ইং (বুধবার) সকাল ১১টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন- ফেনীর জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান। সেখানে উপস্থিত এলাকাবাসী ও সাংবাদিকগণ সোলায়মান কর্তৃক রাস্তায় গেইট ও তারকাঁটা লাগিয়ে রাস্তা অবরুদ্ধ করার বিষয়টি আবারও উপস্থাপন করলে জেলা প্রশাসক সোলায়মানকে সড়কে স্থাপিত তারকাঁটার ঘেরা ও লোহার গেইট সরিয়ে নিতে বলেন। বিষয়টির সংবাদ শতাধিক প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা দেওয়ার প্রায় ১ বছর পেরিয়ে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি রাস্তায় তারকাঁটার ঘেরা ও সড়কে স্থাপিত লোহার গেইট অপসারণ করেনি দখলদার সোলায়মান।

সোলায়মান কর্তৃক জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মঞ্জুরুল হক জানান- আমি সোনাগাজীতে বদলি হয়ে আসার আগেকার ঘটনা এটি, জেলা প্রশাসক স্যারের কি নির্দেশনা ছিলো এই বিষয়ে আমি অবগত নয়, বিষয়টি জেনে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক গাজী হানিফকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি যতন মজুমদার।

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *