ফেনী প্রতিনিধি:
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আ.ক.ম ইসহাক’ এর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিবসটি উপলক্ষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পারিবারিকভাবে দোয়া, মিলাদ মাহফিল, কোর’আন তেলাওয়াত ও স্থানীয় মসজিদ গুলোতে মিলাদ ও দোয়ার অায়োজন করা হয়েছে।
তিনি ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন।
মানবিক গুনাবলীর অধিকারী, আপামর গন-মানুষের পরম আস্থাভাজন, নির্লােভ, নিরহংকারী দল-মত নির্বিশেষে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন আ.ক.ম ইসহাক। মাটি মানুষের জন্য আজীবন লড়াকু সাংগঠনিক নেতা ইসহাক মিয়া নামে সর্ব পরিচিত ছিলেন । দক্ষসংগঠক আ.ক.ম ইসহাক মিয়ার বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম বর্তমান প্রজন্মের তরুন রাজনীতিকদের অনেকেরই অজানা।
তিনি ১৯৪৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সোনাগাজী থানার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হন । প্রায় ত্রিশ বছর তিনি সোনাগাজী থানা আ’লীগের দায়ীত্বে ছিলেন । তিনি সোনাগাজী থানা সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
আ ক ম ইসহাক সোনাগাজীর বাখরিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন তাঁর পিতার নাম আলহাজ্ব আবদুস সাত্তার ও মাতার নাম নজমুন নেছা বেগম।
দেশ মাতৃকার এ বীর সন্তানের সংগ্রামী জীবন ইতিহাস ভবিষ্যত প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুকরনীয় হতে পারে।
আ.ক.ম ইসহাক সম্পর্ক তথ্য অনুসন্ধানকালে তার পুত্র জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা খালেদ মাসুদ জানান- আমার বাবা দেশ মাতৃকার কল্যানে নিজের ব্যাক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ বিসর্জন দিয়ে অসীম ত্যাগ স্বীকার করে আমরন আন্দােলন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি ব্যাক্তিগতভাবে কোন কিছু পাওয়ার আশায় রাজনীতি করেন নি।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মসজিদসহ অনেক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে পৃষ্ঠপােষকতা করেছেন। অনেক গরীব শিক্ষার্থীর পড়া-লেখার সুযােগ করে দিয়েছিলেন। গৃহহীনকে ঘরের ব্যাবস্থা করে দিয়েছিলেন। ভূমিহীনকে সরকারী খাসজমি বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি একজন সরলপ্রান ধার্মিক মানুষ ছিলেন।
সারা জীবনের সংগ্রাম সাধনাকে অমর করে রাখতে তার নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারী স্থাপনা ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরনের জন্ যপরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জােরদাবী জানান।