আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকের মসুলে সেনা অভিযানে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার শহরের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।
বিবিসির প্রতিবেদন বলা হয়, নিহত ওই নেতা আইএসের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ফতোয়া দানকারী আব্দুল্লাহ আল-বাদরানি। উত্তর ইরাক জুড়ে চালানো পাশবিকতার মূল পরিকল্পনাকারী আল-বাদরানিকে এই গোষ্ঠীর অনেকে আবু আইয়ুব আল-আতার বলে ডাকত। ইরাকি বেসামরিক নাগরিকদের নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের নির্দেশ জারি করা ছিল এই জঙ্গি নেতার প্রধান কাজ।
ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে খেলাফত ঘোষণার পর এসব এলাকায় ব্যাপক মানবতাবিরোধী অপরাধ চালায় আইএস জঙ্গিরা। যেসব নেতা এসব পাশবিকতা চালানোর নির্দেশ দিতেন আল-আতার তাদের শীর্ষে ছিলেন।
উত্তর ইরাকের হাজার হাজার ইয়াজাদি পুরুষকে হত্যা করে তাদের নারীদের আটক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। পরে তারই নির্দেশে এসব নারীকে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করে আইএস জঙ্গিরা। সম্প্রতি তিনি পূর্ব মসুলের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালাতে জঙ্গিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইরাকের মসুল দখল করেছিল আইএস। গত অক্টোবরে মসুল উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়। প্রায় ১০০ দিনের লড়াই শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের হাত থেকে পূর্ব মসুল উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ইরাকি সেনা। তখন থেকেই ইরাকে কোণঠাসা হতে শুরু করেছিল আইএস। যদিও এর মধ্যে ঘুরে দাঁড়নোর বার্তাও দেয় তারা। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে টাইগ্রিস নদীর পশ্চিম ভাগে অভিযান শুরু করে ইরাকি বাহিনী। এতে আইএস আরো দূর্বল হয়ে পড়ে।
বর্তমানে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের হাত থেকে প্রাচীন এ শহরটির আল-নুরি মসজিদ পুনর্দখল করতে অভিযান চালাচ্ছে ইরাকি বাহিনী। ২০১৪ সালে এই মসজিদ থেকে কথিত খেলাফতের ঘোষণা দিয়েছিলেন আইএস প্রধান আবুবকর আল-বাগদাদি।
সূত্র: বিবিসি