রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির রামগড়ের ১১ মাইল এলাকায় দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে গভীর রাতে ১ টি আম ও ১ টি ফলন্ত পেঁপেঁ বাগান কেটে ধ্বংস করেছে পাহাড়ের আঞ্চলিক সন্ত্রাসী দল। কিন্তু পেঁপেঁ বাগানের মালিকের সাথে ভূমি নিয়ে বিরোধ থাকা প্রতিপক্ষ মনির গংদের ফাসানোর অভিযোগ উঠেছে।
একটি সূত্রে জানা গেছে ,পাতাছড়া ইউনিয়নের মাহবুব নগরে মো. রহিম কোম্পানির সুরক্ষিত বাগানের ফলন্ত প্রায় দেড় হাজারের পেঁপেঁ গাছ গত ২৪ আগষ্ট রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলে। এই ঘটনায় বাগান মালিক ভূমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে পাশ্ববর্তী স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির হোসেন ও তার কলেজ পডূয়া ছেলে হাসান শান্ত ও পার্শ্ববর্তী মো. সুফিয়ানের নাম উল্লেখ করে মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে ফাসানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
বাগান মালিক রহিম তাদের বিরুদ্ধে থানায় গাছ কাটার মামলা দায়ের করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। প্রকৃত পক্ষে সরজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানাযায়, মূলত ঐদিন রাতে রহিমের বাগানের পাশাপাশি একই সময়ে একই এলাকার সাবেক মেম্বার জামাল উদ্দিনের আম বাগানটিও কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা।
জামাল উদ্দিন মেম্বার এ ঘটনায় সরাসরি পাহাড়ের সন্ত্রাসীদল ইউপিডিএফ কে দায়ী করেছে। তিনি জানান, তার কাছে চাঁদা চেয়ে না পাওয়ায় তারা গাছগুলি কেটে ফেলে। এ ধরনের ঘটনা পার্বত্য এলাকায় অহরহ ঘটছে।
স্থানীয় সমাজ কমিটির সভাপতি মো: ওসমান বলেন, গাছ কেটেছে ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরা আর ফাসানো হচ্ছে প্রতিপক্ষকে। আমরা জানি মনিররা গাছ নাই। এদেরকে ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে ফাঁসানো হচ্ছে। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেড়িয়ে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: সুজন বলেন, বাগানটি সীমানা প্রাচীর দিয়ে নিরাপত্তায় ঘেরা, সেইসাথে বাগানে পাহারাদার ও প্রশিক্ষত ৭/৮টি কুকুরও রয়েছে এসব নিরাপত্তার মধ্যে মনিরদের দ্বারা গাছ কাটা কোনভাবেই সম্ভব না। আমরা শুনেছি একই দিন দুটি বাগান ইউপিডিএফের লোকেরাই কেটেছে।
এদিকে বাগানের কেয়ারটেকার মনি চাকমার একটি অডিও রেকর্ডে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। কেয়ারটেকার মনি চাকমা প্রথম দিন সাংবাদিকদের পেঁপেঁ গাছ কাটেছে মনির গংরা এ কথা বললেও এখন বলছে চাকরীর কারনে মালিক রহিমের শেখানো কথা বলেছে।
উল্লেখ্য, রহিম ও মনিরের মধ্যে জায়গাটি নিয়ে বিরোধ অনেক পুরোনো, আদালতে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে। দুর্বৃত্তরা গাছে কাটার আগেও রহিম মনিরদের বিরুদ্ধে গাছ কাটার একটি গায়েবি মামলা করেছে বলে জানা গেছে।