নোয়াখালী :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর দারুল ফালাহ ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজার বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্ণীতি ও বিধি বহির্ভূত নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করার পরও কোন প্রতিকার মিলছে না।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানান, দারুল ফালাহ ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা গভর্নিং বডির নিয়মিত সভার সিদ্ধান্ত ব্যতিত ২০২১ সালের ১ এপ্রিল পত্রিকায় গ্রন্থাগারিক পদে একজন ও অন্যান্য পদে কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে গ্রন্থাগারিক পদে মো. আবুল কালাম ও মো. শরিয়ত উল্যাহসহ কয়েকজন ব্যক্তি আবেদন করেন।
আবেদন গ্রহনের পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বদরুদ্দোজা নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্যান্য কার্য সম্পাদন না করে অনিয়মের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে মো. শরিয়ত উল্যাহ নামের আবেদনকারীকে ২০১৪ সালের ০৮ জুলাইয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে নিয়োগকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকায় অন্তভূক্ত করেন।
ভুক্তভোগী আবুল কালাম বলেন, ২০১৪ সালের ০৮ জুলাইয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে গ্রন্থাগারিক পদে আবেদন আহবান করা হয়নি।
২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর ডিজি’র প্রতিনিধি মনোনয়ন সংক্রান্ত অফিস আদেশে গ্রন্থাগারিক পদের বিপরীতে কোন প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি গোপন রেখে ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর মো. শরিয়ত উল্যাহকে নিয়োগ দেখিয়ে সাম্প্রতিক তাহার প্রতি নিয়োগপত্র ইস্যু এবং ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর তারিখ উল্লেখ করে মো. শরিয়ত উল্যাহর কাছ থেকে যোগদানপত্র গ্রহন করেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা।
ভুক্তভোগী আবুল কালাম আরো বলেন, মো. শরিয়ত উল্যাহকে গ্রন্থাগারিক পদে ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর নিয়োগ দেখালেও চলতি বছরের ৬ জুন জনতা ব্যাংক চৌমুহনী শাখায় তার নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। তিনি বলেন, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজার এসব অনিয়ম ও দূর্ণীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ইসলামী আরবি বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক, দুদক নোয়াখালী, বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
আমানত উল্যা, জিল্লুর রহমান, মো. আবদুল কাদের, আবদুস সোবহান ও জামাল উদ্দিনসহ মাদ্রাসার অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, খানপুর দারুল ফালাহ ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা এই মাদ্রাসায় অসাধু উপায়ে যোগদানের পর থেকে দীর্ঘ দুই যুগ যাবৎ গভর্নিং বডি গঠন, প্যাটার্ন বহির্ভূত পদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও এমপিও ভুক্তি, জ্যেষ্ঠতা লঙ্গণপূর্বক এপি স্কেল প্রদান, বিধি বহির্ভূত দন্ডারোপ, মালিকানাবিহীন ব্যক্তি হতে জাল দলিল সৃজনসহ নানা অনিয়ম ও দূর্ণীতি করে আসছেন।
২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর এসব অনিয়ম ও দূর্ণীতির বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারের তদন্ত চলাকালীন মাদ্রাসার অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সাথে সমঝোতা বৈঠকে স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে সকল অভিযোগের দায় স্বীকার করেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সরকারি ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৫ টাকা আত্মসাতের তদন্ত করছে দুদক।
দারুল ফালাহ ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজার কাছে এসব অনিয়ম ও দূর্ণীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, মাদ্রাসার গভর্নিং বডি নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলছে। যার কারণে নিয়োগসহ যাবতীয় কর্মকান্ডে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত শেষ হলে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে মো. শরিয়ত উল্যাহকে গ্রন্থাগারিক পদে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়ে সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেননি এই অধ্যক্ষ।
বেগমগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গাউসুল আজম পাটোয়ারী জানান, খানপুর দারুল ফালাহ ফাযিল মাদ্রাসায় গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
লকডাউন শেষে এবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ দেওয়ার এখন কোন সুযোগ নেই। এমনটি হয়ে থাকলে তা সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূত।
এদিকে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজার সীমাহীন দুর্নীতি ও বিধি বহির্ভূত নিয়োগ বাণিজ্য এবং জাল জালিয়াতির নিরপেক্ষ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান অভিভাবক ও এলাকাবাসী।