Main Menu

শিবালয় যমুনার তীরে পুরাতন পলিথিন বাণিজ্য রমরমা

শিবালয়(মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের জাফরগঞ্জ নদীবন্দর হাটে গড়ে উঠেছে পুরাতন পলিথিনের রমরমা বানিজ্য। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন মারফত থেকে পুরাতন পলিথিন নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করে।

পরে সেগুলো নিজেদের কারখানায় এনে জনবল দিয়ে যমুনা নদীতে ধৌত করে শুকিয়ে প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন পলিথিন কারখানায় বিক্রি করে বেশি অর্থের বিনিময়ে। এদেরই একজন দৌলতপুর উপজেলার রৌহা গ্রামের মো.সিদ্দিকুর রহমান। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ এ অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন। বেশ কয়েক বছর পূর্বে তিনি উথলী ইউনিয়নের ধূসর বাজারে গড়ে তোলেন তার কারখানা। কিন্তু পর পর দুইবার স্থানীয়দের বাঁধার মুখে সেখান থেকে তার ব্যবসায় গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন তিনি। স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, পরবর্তীতে জাফরগঞ্জ এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক তার কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে পরোক্ষভাবে সেখানে তাকে ব্যবসা করার অনুমতি প্রদান করেন। কিন্তু কে বা কারা সমর্থন দিয়েছেন-সেটি এখনও পর্দার অন্তরালে।

সরেজমিনে পলিথিন ধৌতকরণ স্থানে গিয়ে দেখা যায়, ৯জন পুরুষ মহিলা কর্মচারি পলিথিন ধৌতকরণ কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এদের একজন ময়ূরজান হাতে পায়ে ঘা নিয়ে অতি কষ্টে কাজ করছেন। তার হাতে পায়ের ঘায়ের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, পুরান এ পলিথিনগুইল্যা তো বিষ। পলিথিনের কাম করলে ঘাও হইবোই। এ ঘাও খালি আমার না। এ কাম যারাই করবো, তারই কম বেশি হইবো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাফরগঞ্জ যমুনার পাড়ে দর্শনার্থীদের বসার জন্য শিবালয় উপজেলা প্রশাসন বেশ কয়েকটি বেঞ্চ বানিয়ে দিয়েছিলেন। বিকেল বেলা নদীর মনোরম দৃশ্য এবং সূর্য্য অস্তমিত দেখতে বেশ লোক সমাগম হতো।

কিন্তু এখানে পুরাতন পলিথিন ব্যবসা শুরু হওয়ার পর থেকে দুর্গন্ধে এখন আর কেউ আসে না। নদীতে যখন পানি কম ছিল তখন পলিথিন ধৌত করার কারণে এখানকার পানি কালো এবং দুর্গন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নদী পাড়ের লোকজন এখানে গোসল করতে পারতো না। এসব কারণে এখান থেকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে আমিসহ এলাকার গণ্যমান্য লোক মিলে বেশ কয়েকবার সিদ্দিকুর রহমানকে অনুরোধ করেছি, কিন্তু সে আমাদের কথা কর্ণপাত করেনি।

পরবর্তীতে আমি তেওতা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের সাহেবকে বলেছিলাম তাকে এ বিষয়ে তাকে নোটিশ করতে। কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেব তাকে নোটিশ করেছেন কিনা আমি জানি না। সর্বোপরি আমরা এলাকাবাসী চাই এখান থেকে পুরাতন পলিথিন কারখানা চলে যাক। এলাকায় সুষ্ঠ, সুন্দর এবং নির্মল পরিবেশ ফিরে আসুক।

পলিথিন ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান মোবাইল ফোনে জানান, তেওতা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের আমাকে ব্যবসা করার লিখিত অনুমতিপত্র দিয়েছেন। তবে এখনও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাইনি। এ মর্মে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেছি। আশা করছি অতি দ্রুত ছাড়পত্র পেয়ে যাব।

তেওতা ইউপি চেয়ারম্যান মো.আব্দুল কাদের জানান,সিদ্দিকুর রহমানকে এ ব্যবসায় করার জন্য কোন লিখিত বা মৌখিক অনুমতি দেইনি। আমি তাকে বেশ কয়েকবার নোটিশ করেছি, কিন্তু সে আমার সাথে দেখা করেনি। সিদ্দিক অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির লোক।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নূর আলম প্রতিবেদককে জানান, আমি জেলায় নতুন যোগদান করেছি। এ সংক্রান্ত কোন আবেদন আমার দপ্তরে জমা আছে বলে আমার জানা নেই। আমি পলিথিন কারখানায় লোক পাঠিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা জানান, এ ধরনের ব্যবসায় পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *