বাঘাইছড়িতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট | বাংলারদর্পন

বাঘাইছড়ি (রাঙামাটি)সংবাদদাতাঃ
দেশের বৃহত্তর ও দূর্গম রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় খাবার বিশুদ্ধ পানিয় জ্বলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।বর্তমান শুস্ক মৌসমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়ে স্থানীয়দের ডোবা, খুয়া ও নদীর পানি পান করার খবর পাওয়া গেছে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে।

দূষিত পানি পান করার ফলে রোগবালায়ে ভুগার আশংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলার জীবতলী, বাঘাইছড়ি, উগলছড়ি,লাল্যাঘোনা,বটতলী,মডেল টাউন,বৈদ্যকলোনী,উলুছড়ি,খেদারমারা, দুরছড়ি,সারোয়াতলী ও সাজেক পর্যটন এলাকা সহ বিভিন্ন গ্রামে খাবার পানির তীব্র সংকটে রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

জানা যায় , প্রতি বছর শুস্ক মৌসমে খাবার পানিয় জলের সংকট দেখা দিলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের আশানুরুপ কোন প্রতিকার বা উদ্যোগ গ্রহনে নজরে আসেনি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘবছর যাবাৎ বাঘাইছড়ি উপজেলার জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি রাঙামাটি জেলার সদর ও জুরাইছড়ি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।যার ফলে তিনি উপজেলার কোন এলাকা পরিদর্শন করেনি এবং ভুক্তভোগীর কোন আবেদন গুরুত্ত্বের সহিত সরোজমিন পরিদর্শন করেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আভিযোগে জানা যায়,তিনি প্রকপ্ল বরাদ্ধ নামের তালিকা গোপন রেখে অন্যের মুখের আবদার বেশি রক্ষা করে থাকেন। বরাদ্ধ নামীয় তালিকা পরিবর্তন করে প্রতিটি টিউবওয়েল থেকে ১০/১৫ ও ডিব টিউবওয়েল থেকে ১৫/২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।অভিযোগে জানাযায়, টিউবওয়েল আছে পূঁণরায় এমন পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে দিবেন বলে কন্ট্রাক্ট নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাঘাইছড়ি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক’র বিরুদ্ধে।

অপরদিকে বাঘাইছড়ি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিশুদ্ধ পানিয় জল সরবরাহে ১কোটি ৮০ লক্ষ টাকার প্রকপ্লটি অদৃশ্য কারনে মাঝ পথে থেমে যাওয়ার দীর্ঘ ১০ বছরেও প্রকপ্লটি আলোর মুখ দেখেনি। ফলে ২২.৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ৬৮ হাজার মানুষের বিশুদ্ধ নিরাপদ খাবার পানি সংকটে পড়েছে। সরকারের উন্নয়নমূখী কর্মকান্ড মূখ থুব্রে পড়ায় অসমাপ্ত প্রকপ্লের ইলেকট্রিকেল অনেক যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়েছে ফলে সরকারী অর্থের অপচয় ঘটে। এব্যাপারে প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাকের মতামত জানতে চায়লে , প্রকপ্লটি আদৌ চালু হবে কিনা তার কোন স্বদোত্তর তিনি দিতে পারেনি। অর্থের বিনিময়ে টিউবওয়েল বরাদ্ধ দেওয়ার বিষয়টি তিনি অম্বিকার করেন।

সাজেকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেনশন চাকমা বলেন, শুকনো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি অসহায় সাজেক ইউনিয়নের জনসাধারণ। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় গভীর নলকূপ বসানো যাচ্ছে না। ঝর্না শুকিয়ে যাওয়ায় এখন একমাত্র ভরসা বৃষ্টির উপর কিন্তু দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে এই পাহাড়ি মানুষগুলোর।

বাঘাইছড়ি জনসাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, শুকনো মৌসুমে পানির সংকট দেখা দেওয়ার কারণ হচ্ছে পানির লেয়ার কমে যাওয়া। আমরা আগে রিংওয়েল করেছিলাম কিন্তু রিংওয়েল গুলো শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে যায়। তাই আমরা ডীপ টিউবওয়েল (গভির নলকূপ)স্থাপন করে যাচ্ছি এবং পাহাড়ের মানুষের শতবাক বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম বলেন, পানির সংকটের বিষয়ে আমরা অবগত আছি, যে সকল গ্রামে পানির তীব্র সংকট সেখানে পানি সরবারাহের ব্যবস্থা করার জন্য কার্যক্রম চালাচ্ছি। খুব তাড়াতাড়ি বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা হবে বলে তিনি আশাবাদী।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পানির সংকট নিরসনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, তবুও পানির সংকট নিরসন করা যাচ্ছে না। পানি সংকট নিরসনে নানামুখী কাজ হাতে নিয়েছি এবং বিভিন্ন গ্রামে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *