সিলেট সংবাদদাতাঃ
শ্রীমঙ্গলে বিষাক্ত পটকা মাছ খেয়ে বউ শ্বাশুড়ির মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সরজমিন ঘুরে জানা গেছে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন,উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামের জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী সাহিদা বেগম ( ৪০) ও তার পুত্রবধু নুরুন নাহার (২৫) মৃত্যু বরণ করেছেন,এঘটনায় জয়নাল আবেদীন এর শিশুপুত্র নাঈম (৮) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।বিষাক্ত মাছ খেয়ে একই পরিবারের বউ শ্বাশুড়ির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্তের শেষে লাশ আসলে দুটি লাশ ধুঁয়ার ও দাফনের জন্য সব ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে।খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ সিনিয়র পুলিশ সার্কেল আশরাফুজ্জামান,থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুছ ছালেক,,শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভানুলাল রায় সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পরিদর্শন করেছেন।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা থেকে জানা যায়,পটকা মাছে ‘নিউরোটক্সিন’ জাতীয় বিষ থাকে,যার কোন প্রতিষেধক নেই।বিষাক্ত পটকা মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
বিষাক্ত মাছ পটকা। দেশের সব জায়গায় এ মাছ পাওয়া যায়। পটকা মাছ খেয়ে মানুষ মারা যাওয়ারও খবর পাওয়া যায়। এ মাছ এতই বিষাক্ত যে একটি মাছ খেয়ে মারা যেতে পারে অন্তত ৩০ জন। জাপানে পটকা মাছ খুবই জনপ্রিয়। তবে তারা রান্না করার আগে এ মাছ থেকে বিশেষভাবে বিষ আলাদা করে নেয়। তবে সে প্রযুক্তি এখনো আসেনি বাংলাদেশে। তাই এ মাছের বিষক্রিয়া থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়, এই মাছ না খাওয়া।
এটি আসলে বিষাক্ত জলজ প্রাণী বা মাছ। এ মাছে রয়েছে ক্ষতিকারক টিটিএক্স (TTX) বা টেট্রোডোটোক্সিন (Tetrodotoxin) বিষ। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি যে পটকা মাছের প্রজাতি পাওয়া যায়, তার বৈজ্ঞানিক নাম Tetraodon Cutcutia, ইংরেজিতে এ প্রজাতিকে Ocellated Pufferfish বলে। মাছটিকে স্থানীয়ভাবে টেপা বা ফোটকা মাছও বলা হয়। তবে যে নামেই ডাকা হোক না কেন তার বিষাক্ততা কোন অংশে কমে যায় না।
বিষাক্ত পটকার চামড়া, যকৃত এবং ডিম্বাশয়ে সবচেয়ে বেশি বিষ থাকে। পটকার বিষ পটাশিয়াম সায়ানাইডের চেয়েও অনেক বেশি বিষাক্ত। প্রায় ১ হাজার ২০০ গুণ বেশি বিষাক্ত। একটি পটকা মাছের বিষে ৩০ জনের মৃত্যুও হতে পারে।