খুলনার কয়রা উপজেলা কৃষি অফিসার বেপরোয়া | বাংলারদর্পণ

শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন,কয়রা (খুলনা) থেকে,
খুলনার কয়রা উপজেলা কৃষি অফিসার মিজান মাহমুদের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি কৃষি অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত জানাজানি হয়েছে।

একাধারে চার বছর যাবত একই স্থানে থেকে বিভিন্ন মৌসুম ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ, উপজেলার বিসিআইসি সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতাদের নিকট থেকে বিভিন্ন অজুহাত ও মামলার ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া, অধীনস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে অসাধারণ, অফিস চলাকালীন সময়ে অফিসিয়াল কাজ রেখে খুলনা শহরে অবস্থানসহ গত চার বছর যাবৎ তিনি উপজেলা কৃষি অফিস কে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন।

সম্প্রতি তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে মেসার্স রমজান ট্রেডার্সের মালিক বিসিআইসি সার ডিলার আবুল হাসান গাজীর নিকট থেকে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। উপজেলা আমাদী, মহারাজপুর ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার ও সাব ডিলারদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তিনি এই টাকা নিয়েছেন। এছাড়া খুচরা সার বিক্রেতাদের জায়গা হস্তান্তরও বিভিন্ন সমস্যার অজুহাত সৃষ্টি করে নিজ অফিসে ডেকে, কখনো উপসহকারীদের মাধ্যমে, কৌশলে এসব টাকা আদায় করে থাকেন।

সম্প্রতি তিনি জায়গা হস্তান্তর ও বিভিন্ন অভিযোগ দেখিয়ে আমাদি ইউনিয়নের তিনজন খুচরা সার বিক্রেতার নিকট থেকে ২৭ হাজার টাকা ও বাগালী ইউনিয়নে চারজনের নিকট থেকে ২৯হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসকল নানান অভিযোগ তুলে ধরে উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার দের পক্ষ থেকে গত ১৫অক্টোবর দুপুরে কয়রা উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফাটিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কয়রা উপজেলা সার ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল হাসান গাজী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার মিজান মাহমুদের বিরুদ্ধে এ সকল দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের খুচরা সার ব্যবসায়ী বিধান চন্দ্র মন্ডল বলেন উপজেলা কৃষি অফিসার দেখা করতে বলেছিল, কিন্তু বিশেষ কারণে দেখা করতে না পারায় আমার সার দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে, এতে করে এলাকার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত এর আগে কৃষি অফিসার মিজান মাহমুদ পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় থাকাকালীন সময়ে ৩০% ভর্তুকিতে পাওয়ার টিলার গ্রহীতাগণের নিকট থেকে অর্থ-বাণিজ্যসহ সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল শেষ পর্যন্ত সেখানকার সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের সুপারিশে জরুরী ভিত্তিতে তাকে বদলি করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড.মো, আব্দুল মুঈদ ভোরের কাগজ কে বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই, তবে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সকল বিষয়ে জানতে কয়রা উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম মিজান মাহমুদের সাথে বারবার মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা সহ যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *