কয়রায় প্রেমিকের সহযোগিতায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগ | বাংলারদর্পণ

কয়রা(খুলনা) প্রতিনিধি,
পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় প্রেমিকের সহযোগিতায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক স্ত্রীর বিরুদ্ধে । ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ি গ্রামে। এলাকাবাসী জানায়,গত ২২জুন রাতে স্বামী বাবু রামের গলায় কাপড় পেচিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় স্ত্রী হেমলতা শীল। বিষয়টি জানাজানি হলে ঐ রাতে স্বামীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বামী ঘরের আড়ার সাথে কাপড় পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছিলো বলে হেমলতা এলাকাবাসীর কাছে প্রচার চালায়।

এলাকাবাসি জানায়, সাতক্ষীরা আশাশুনি থানার শ্রীউলিয়া ইউনিয়নের মহিষকুড় গ্রামের মৃত হাজী লাল শীলের পুত্র বাবুরাম শীল ও কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ি গ্রামের ভূপতি শীলের মেয়ে হেমলতা শীলের পারিবারিক সম্বন্ধের মাধ্যমে ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাবু শশুর বাড়িতে থাকতেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। দিনমজুরি কাজ করে তাদের সংসার চলে। পারিবারিক সচ্ছলতা ফিরেয়ে আনতে আনুমানিক দুই বছর আগে একটি চায়ের দোকান করেন বাবু শীল।

দিনমজুর কাজে ব্যস্ত থাকায় স্ত্রী হেমলতাই সামলাতেন এই চায়ের দোকান। নিয়মিত কাস্টমার হন পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ মঠবাড়ি গ্রামের বড় ব্রিজ সংলগ্ন মোজাফফর। মোজাফফরের অবাধ যাতায়াতের একটা পর্যায়ে হেমলতার সাথে গড়ে ওঠে প্রেমের অবৈধ সম্পর্ক এবং স্বামীর অবর্তমানে মোজাফফর কারণে-অকারণে তার দোকানে পড়ে থাকতে< শুরু করেন। একটা পর্যায়ে তাদের অবৈধ্য সম্পর্ক সকলেই যানাযানি হয়ে যায়। তখন স্বামী বাবুরাম তাদের সম্পর্কে বাধা সৃষ্টি করলে ২২ জুন সোমবার দিবাগত রাতে প্রেমিক ও প্রেমিকা মিলে তার গলায় কাপড় পেচিয়ে ও পুরুষাঙ্গে (অন্ডকোষে) আঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালায়। ঘটনাটি ধামা চাপা দেওয়ার জন্য মুমূর্ষ অবস্থায় ঐ রাতে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে কিছু দিন লাইফ সাপোর্টে রাখার পর তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে শশুর বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। দীর্ঘ তিন মাস বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে গত ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাতে বাবু শশুরবাড়িতে মারা যায়। তার মৃত্যুর খবর শুনে প্রেমিক মোজাফফর ও প্রেমিকা হিমু পালিয়ে যায়। এঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) গৌতম মন্ডল বলেন, খবর পেয়ে লাশ ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তবে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হয়। কেউ অভিযোগ না দেওয়ায় ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলারদর্পণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *