Main Menu

নাঙ্গলকোটে রাবেয়া খুন নয়, ফেসবুকে অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় আত্মহত্যা করেছে !

জামাল উদ্দিন স্বপন-কুমিল্লা :
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গত রবিবার সকালে প্রবাসীর স্ত্রী রাবেয়া আক্তারের (২০) আত্মহত্যার ঘটনাকে সু-পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের পর হত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। রাবেয়ার মা জাহানারা বেগম তার বৃদ্ধা মা জমিলা খাতুনকে নিয়ে মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনাকে ধর্ষণের পর হত্যার নিখুঁত নাটক সাজান। রাবেয়া উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামের মোহাম্মদ আলী মিয়ার ছোট মেয়ে।

জাহানারা বেগম মেয়ে রাবেয়ার আত্মহত্যার ঘটনাকে হত্যার নাটক সাজিয়ে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই, ডিবি এবং সাংবাদিকদের পুরোপুরি বোকা বানিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠে। রাবেয়ার আত্মহত্যার আগেরদিন শনিবার রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে ‘‘তোকে নিয়ে দেখা’’ একটি ফেসবুক আইডি থেকে একটি ছেলের সাথে রাবেয়ার ইমো সেক্সের একটি অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় মায়ের সাথে অভিমান করে লোক লজ্জ্বার ভয়ে রাবেয়া পরেরদিন রবিবার সকাল ১১টার দিকে ঘরের ভিতর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠে।

রাবেয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তার পিতার থানায় মামলা দায়েরের পর, সোমবার সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, রাবেয়াকে ধর্ষনের পর হত্যা মামলা হলেও সিআইডি, পিবিআই ও ডিবির দল রাবেয়াকে ধর্ষণের কোন আলামত পাননি বলে তারা জানিয়েছেন। তখনই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রাবেয়া আত্মহত্যা করার পর তার মায়ের কান্নারত অবস্থায় বাড়ির মহিলা ও পুরুষদের উপস্থিতিতে মেয়ের উড়না দিয়ে আত্মহত্যা করার উড়না ঘরের ভিতরের সিলিং থেকে নামিয়ে ঘরের মেঝেতে রাখা মৃত রাবেয়া আক্তারের পাশে বসার একটি ভিডিও এবং শনিবার রাতে “তোকে নিয়ে দেখা’’ একটি ফেসবুক আইডি থেকে রাবেয়ার ইমু সেক্সের একটি অশ্লীল ভিডিও এর স্ক্রিন সট স্থানীয় যুবকরা সংগ্রহ করে। ভিডিওতে রাবেয়ার আত্মহত্যার দৃশ্য ফুটে উঠে। এতে করে রাবেয়ার আত্মহত্যার বিষয়টি সামনে চলে আসে।

প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন যখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ওই সময়ে আত্মহত্যার ভিডিওটি তাদেরকে কেন দেখানো হয়নি ? ঘটনার পর-পরই নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই এর স্পেশাল ক্রাইম সিম ম্যানেজমেন্ট টিম ও ডিবির এল আই টিমকে কে খবর দিল ? এ ঘটনায় রাবেয়ার মাকে দিয়ে দ্বিতীয় একটি পক্ষকে ফাঁসানোর জন্য তৃতীয় প্রভাবশালী একটি পক্ষ কাজ করেছে না তো ? এধরণের অনেক প্রশ্ন এলাকাবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। রাবেয়ার মা জাহানারা বেগমকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে রাবেয়ার হত্যা নাটকের নেপথ্যে জড়িতদের বের করা সম্ভব বলে এলাকাবাসী জানান।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, গত রবিবার সকাল ১১টার দিকে রাবেয়া আত্মহত্যা করার পর রাবেয়ার মা এবং বৃদ্ধা নানী জমিলা খাতুন ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য রাবেয়ার মা জাহানারা বেগমের স্থানীয় মান্দ্রা বাজারে যায় এবং ব্যাংকের তিনজন লোক মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি এসে বলে জানায়।

তিনজনের মধ্যে একজন ঘরের বাহিরে অবস্থান করে এবং অন্য দুই যুবক ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে রাবেয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বলে এলাকায় প্রচার করে। খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই এর স্পেশাল ক্রাইম সিম ম্যানেজমেন্ট টিম ও ডিবির এল আই টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে থানা পুলিশ রাবেয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। রাবেয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তার পিতা মোহাম্মদ আলী মিয়া বাদি হয়ে ৪জন নামীয়সহ ৩/৪জন অজ্ঞাতনামাকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

থানায় মামলা হওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়ত মান্দ্রা গ্রামে আসামী গ্রেফতারে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানের প্রেক্ষিতে এলাকার যুবকশ্রেণী এলাকা ছাড়া হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে মান্দ্রা গ্রামের ইউছুফের ছেলে সোহেলকে (২৩) থানা পুলিশ আটক করলেও স্বীকার করেনি।

এতে করে এলাকার যুবকশ্রেণী মামলার হয়রানি থেকে বাঁচতে রাবেয়ার আত্মহত্যার পর মায়ের কান্নারত ভিডিও এবং মৃত্যুর আগেরদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িযে পড়া রাবেয়ার খোলামেলা দৃশ্যের ইমো সেক্স ভিডিও সংগ্রহে মাঠে নামে। তারা আত্মহত্যার ভিডিও সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও ইমো সেক্সভিডিও সংগ্রহ করতে না পারলেও একটি স্ক্রিন সট সংগ্রহ করে। পরে মান্দ্রা গ্রামের যুবকশ্রেণী গত মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। যুবকরা ওই সময়ে সাংবাদিকদের রাবেয়ার আত্মহত্যার ভিডিও এবং একটি অশ্লীল ছবির স্ক্রিন সট হস্তান্তর করেন। সাংবাদিকরা মেয়ের মা-বাবাসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনের সাথে কথা বলেন। যা এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

এলাকাবাসী জানান, রবেয়া আক্তারের সাথে এলাকার একাধিক ছেলের সম্পর্কসহ তাদের বাড়িতে এলাকার যুুবকসহ বিভিন্ন বয়সী লোকের অবাধ যাতায়াত ছিল বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। রাবেয়ার এ পর্যন্ত তিনটি বিয়ে হয়েছে। দু‘টি বিয়ে ভেঙ্গে যায়। সর্বশেষ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ডের নুরপুর গ্রামের মাসুদ মজুমদারের ছেলে কাতার প্রবাসী মেহেদী হাছানের সাথে রাবেয়ার মোবাইল ফোনে বিয়ে হয়। রাবেয়া আক্তারের বাবা আলী মিয়া গত ৫বছর পূর্বে জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়নের ভবানিপুর গ্রাম থেকে এসে পাশ্ববর্তী জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে বাড়ি করে বসবাস করে আসছেন।

এলাকাবাসী আরো জানায়, মান্দ্রা গ্রামের বয়োবৃদ্ধ ইউনুছ মিয়া (৬৫) রাবেয়াদের বাড়ির পাশে নিজের সম্পত্তি দেখাশুনা করতে গিয়ে প্রায়ই রাবেয়াদের বাড়ি আসতেন। এনিয়ে ইউনুছ মিয়ার স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন রাবেয়াকে দিয়ে ইউনুছ মিয়াকে সন্দেহ করতেন। গত ৫/৬ মাস পূর্বে একদিন রাতে রাবেয়ার পিতা মোহাম্মদ আলী মিয়া স্থানীয় বাজার থেকে বাড়িতে আসছিলেন। এসময় পিছন দিক থেকে কে বা কারা তার উপর হামলা করে। এঘটনায় ইউনুছ মিয়ার নাতীদের সন্দেহ করা হয়। পরে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে ইউনুছ মিয়ার নাতীরা দোষী সাব্যস্ত হয়। এতে ইউনুছ মিয়ার পরিবারের ৪০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, যে ফেসবুক আইডি থেকে রাবেয়ার অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে রাবেয়া আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে ওই ফেসবুক আইডির লোক এবং যে ছেলের সাথে তার অশ্লীল ভিডি দেখা যায় তাদেরকে খুঁজে বের করলে ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হবে।

জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড স্থানীয় ইউপি সদস্য ছোয়াব মিয়া মজুমদার বলেন, ঘটনার দিন দুপুর দুইটার দিকে আমিসহ স্থানীয় চেয়ারম্যান মাসুদ রানা ভুঁইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সাংবাদিকসহ পুলিশ এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে রাবেয়ার মা এবং নানী যা বলেছে আমাদেরকেও তা বলেছে। ঘটনার পর এত দ্রুত. থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই ও ডিবির দল ঘটনাস্থলে পৌছা নিয়ে আমি আশ্চর্য হয়েছি!

রাবেয়ার আত্মাহত্যার পর তার মায়ের কান্নাকাটির ভিডিও আমি দেখেছি। এতে রাবেয়া আত্মহত্যা করেছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। তবে অশ্লীল ভিডিও এর স্ক্রিন সট আমি দেখিনি। যে ছেলেদের নামে মামলা হয়েছে। তার নির্দোষ। রাবেয়া খারাপ বলে এলাকায় প্রচার থাকলেও আমি কখনো তার খারাপ আচরণ দেখিনি। মান্দ্রা গ্রামের বৃদ্ধা ইউনুছ মিয়ার পরিবারের বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে ৪০হাজার টাকা জরিমানার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।

রাবেয়ার আত্মহত্যার ভিডিও নিয়ে তার মা জাহানারা বেগমের সাথে কথা বলতে চাইলে, সে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, এ মুহুর্তে আমি কোন বক্তব্য দেব না। আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে বিষয়টি জানাবে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *