শেখ সিরাজুদ্দৌলা লিংকন :
ঘুর্ণিঝড় আম্পানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয় সমুদ্র উপকূলবর্তী খুলনার কয়রা উপজেলা। মুহূর্তেই লন্ডভন্ড হয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় গোটা উপজেলা। এলাকা বাসির সেচ্ছা-শ্রমের মাধ্যমে কয়রা সদর, দক্ষিণ বেদকাশী ও মহারাজপুর ইউনিয়নে পাউবোর ভাঙ্গা বাঁধ আটকিয়ে পানি থেকে মুক্তি পেলেও নোনা পানির হাত থেকে মুক্তি পায়নি উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ।
উত্তর বেদকাশী ইউপির গাজিপাড়া ও হাজত খালি এলাকায় পাউবোর ভাঙ্গা স্থান দিয়ে প্রতিনিয়ত নোনা পানিতে তলিয়ে রেখেছে গোটা ইউনিয়ন। এখনো তারা জানে না কবে তাদের বাধ হবে, আর কবে তারা নোনাপানি মুক্ত হবে। তবে কয়রা সদর দক্ষিণ বেদকাশী ও মহারাজপুর ইউনিয়ন জোয়ারের নোনা পানি মুক্ত হলেও প্লাবিত অঞ্চল গুলোর মানুষের কমেনি দুর্ভোগ।
ঘরবাড়ির চারপাশে এখনও পানি থাকায় পানিবন্দি হয়ে আছেন লক্ষধিক মানুষ। দুর্গত মানুষদের অভিযোগ, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পায়নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা না থাাকায় দুর্গত মানুষ যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করছে। তারা গবাদি পশু নিয়ে ও পড়েছেন বিপাকে। খাদ্য ও বাসস্থান অভাবে কম দামে গবাদি পশু গুলো বিক্রয় করে দিতে হচ্ছে । চারিদিকে পানি বদ্ধ থাকায় রাস্তায় ঝুপড়ি বেধে থাকা মানুষ গুলো পারছেনা ফিরতে তাদের ঘরে। বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও মিলছে না চিকিৎসাসেবা।
ক্ষতি গ্রস্ত এলাকায় ঘুরে জানাযায়, খেটে খাওয়া দিনমজুরদের নাই কোন কর্ম, বিত্তবান ও মধ্যবিত্তরা নেমে এসেছে নিম্ন আয়ের কাতারে। কোন কর্ম না থাকায় এসব মানুষ গুলো রয়েছে বিপাকে।
পর্যাপ্ত সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সামগ্রী এলেও চলছে পুকুরচুরি। সমন্বয়হীনতার কারণে ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের ত্রাণ দেওয়ায় বেড়েছে স্বজন প্রীতি। সামনে নির্বাচন তাই ত্রাণের নামে তাদের আখের গোছানোর চেষ্টা চলছে, ফলে একই ব্যক্তি বারবার পেলেও সিংহভাগ দুর্গত বঞ্চিত হচ্ছে ত্রাণসামগ্রী থেকে। । ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া দুর্গত মানুষেরা পাচ্ছেনা সু- ব্যাবস্থা । অপর দিকে ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলো রাস্তা বা উঁচু ঢিবির উপর ঝুপড়ি অথবা বদ্ধ বিষাক্ত লবন পানিতে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অধ্যাহারে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের সমন্বয়হীনতার মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলাম, তাদেরকে ডেকে সমন্বয় করা হয়েছে, পরবর্তীতে আর এ ধরনের সমস্যা হবে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদীপ বালা জানান, পানিবাহিত কোন রোগী এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়নি, তাছাড়া এখন মানুষ সচেতন। আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে পর্যাপ্ত ঔষধ মজুত রাখা আছে, সেখান থেকে তারা সেবা ও ঔষধ নিচ্ছে। বাংলারদর্পন