Main Menu

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রাসঙ্গিক নাগরিক ভাবনা | বাংলারদর্পন 

নিউজ ডেস্ক :

বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম, সুন্দরবনকে বুকে ধারণ করা খুলনা বিভাগ তথা দক্ষিণ বঙ্গের রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আগামী ১৫ই মে ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে খুলনাবাসীর মধ্যে নির্বাচনী আমেজ বইছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং প্রায় এক যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি তাদের মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন সাবেক সফল, জননন্দিত মেয়র ও দলের মহানগর সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

দক্ষিণ অঞ্চলের রাজনীতির স্তম্ভ বলে পরিচিত তালুকদার আব্দুল খালেক বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সফল ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব পালন শেষে মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়নি এমন ঘটনা বিরল। তালুকদার আব্দুল খালেক সেই বিরলদের একজন। তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব এতটাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সততার সঙ্গে পালন করছিলেন যে ১/১১ এর সময়ও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করার মতো কোনো উপাদান খুঁজে পায়নি তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাঁর এই সততার নজির খুলনাবাসী আজও স্মরণ রেখেছে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে তিনি এ যাবতকালের সর্বাধিক ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ আনতে পেরেছিলেন। বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে প্রায় ২৭৫ কোটির প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। এ সময়ের মধ্যে ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। নগরপিতা ইসেবে দায়িত্ব ছেড়ে আসা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭শ’ কোটি টাকার নানা প্রকল্প পাইপ লাইনে রেখে এসেছিলেন। দায়িত্বকালে নেয়া প্রকল্পগুলো মধ্যে স্বল্পমেয়াদী প্রকল্পের কাজগুলো তিনি নগরপিতা থাকা অবস্থাতেই শেষ হয়েছিল। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের কাজও বাস্তবায়ন হয়েছিল।

খুলনাবাসীর সাথে নির্বাচন সম্পর্কিত ভাবনা জানতে গিয়ে জানা যায় তালুকদার আব্দুল খালেক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে কেসিসি ছিল একটি দেনাগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব আয়ের তেমন কোন উৎস ছিল না। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন উন্নয়ন খাত ও আয়ের উৎস সৃষ্টি করে কেসিসিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিলেন তালুকদার আব্দুল খালেক, যার সুফল আজও ভোগ করছে নগরবাসী। ৫ বছরে তালুকদার আব্দুল খালেকে নির্বাচনের পূর্বে দেয়া অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়িত করেছিলেন বলে অধিকাংশ নগরবাসী দাবি করেন।

ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং খুলনাকে আধুনিক ও ডিজিটাল সিটি কর্পোরেশন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। তার এই নির্বাচনী ইশতেহারে নগরবাসীর মনের আশা আকাঙ্খা শতভাগ প্রতিফলিত হয়েছে বলে দাবি নগরবাসীর। তালুকদার আব্দুল খালেকের বিপুল জনপ্রিয়তা, সততা এবং জবাবদিহিতার সহিত নগরপিতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অতীত ইতিহাস এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সারাদেশব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সারাদেশসহ দক্ষিণ অঞ্চলে আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন জনপ্রিয়তা বিবেচনায় রেখে নগরবাসী দাবি করেন তালুকদার আব্দুল খালেক তথা নৌকার পক্ষে ইতিমধ্যেই খুলনা নগরীতে গণজোয়ার বইছে। এই গণজোয়ারের প্রভাবে নৌকার পক্ষে ব্যালট বিপ্লব হবে বলে নগরীর বিশিষ্টজন মত দিয়েছেন। তাঁদের মতে সরকারদলীয় নগরপিতা পেলে খুলনা নগরবাসী অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক উন্নয়নের স্বাদ পাবে।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নগরবাসী সহ নগর বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীরা দক্ষিণ অঞ্চলের বিএনপিতে দলীয় কোন্দল তৈরির প্রধান কারিগর হিসেবে দায়ী করে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। তাছাড়া বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারিগর নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে মনোনয়ন দেয়ায় নগর বিনএনপির নেতাকর্মীর মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ বিরাজ করছে। নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে দলীয় কোন্দল সৃষ্টির অভিযোগ সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১৬ সালে। খুলনা মহানগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়ে রাজপথে নেমেছে। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব তখন মারামারি-হানাহানি বহিষ্কারে রূপ নিয়েছিল। এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে মিছিল সমাবেশ কুশপুত্তলিকা দাহ ও সংবাদ সম্মেলন করেছিল। মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর একক কতৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে খুলনার বিএনপির রাজনীতিতে তাকে প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছিলেন নগর বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীরা। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে অন্যতম ছিল, নগর বিএনপি কমিটিতে ভূমিদস্যু, শিশু নির্যাতনকারী, মাদকবিক্রেতা ও চাঁদাবাজরদের স্থান করে দেওয়া। পূর্বের এই দ্বন্দ্বের জের ধরে নগর বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীকে নির্বাচনী প্রচারে পাশে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী।

উল্লেখিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে নগরবাসী দাবি করেন গত বারের ন্যায় বিএনপি প্রার্থীকে ভোট দেয়ার মতো ভুলের পুনরাবৃত্তি খুলনা নগরীতে এইবার ঘটবে না। মনিরুজ্জামানের বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সরকারের সাথে সুসম্পর্ক না থাকায় নগরবাসী প্রত্যাশিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে মনে করেন নগরীর বিশিষ্টজনেরা।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *