প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশের একটি বাসায় ডেরা বানিয়ে রক্ষিতা নিয়ে থাকতেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্রের সাথে বৈঠক করা বিতর্কিত সেই রকি বড়ুয়া। মঙ্গলবার (১২) সেহেরির সময় রকি বড়ুয়ার সেই আস্তানায় অভিযানে যায় র্যাব-৭ এর একটি দল। অভিযান টের পেয়ে তিনতলার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে পালাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন রকি বড়ুয়া। এ সময় রকি বড়ুয়ার আরও চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারীও আছেন।

অভিযানের বিষয়ে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, রকি বড়ুয়াকে নগরের পাঁচলাইশ এলাকার একটি বাসা থেকে গতকাল রাতে গ্রেপ্তার করেছি আমরা। একই অভিযানে তার আরও চার সহযোগি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এরমধ্যে একজন নারীও আছেন। তিনি বলেন, র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে রকি বড়ুয়া তিনতলার ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিলেন। ছাদ থেকে পড়ে পায়ে ফ্রাকচার হয়ে গেছে। এখন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, রকি বড়ুয়ার কাছ থেকে বিদেশী পিস্তল, বিদেশী মদ পাওয়া গেছে। সে যে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করে, সে সম্পর্কিত বিভিন্ন ডকুমেন্টস, ভান্তে সাজার গেরুয়া রঙের কাপড়সহ আরো অনেক কিছু পেয়েছি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হবে।
র্যাব-৭ এর অপারেশন অফিসার মো. মাশকুর রহমান বলেন, আমরা যখন তাকে ধরতে গিয়েছিলাম, সে একটা বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। পালানোর জন্য সে ছাদ থেকে নিচের সানশেডে লাফ দেওয়ার সময় পরে যায়। যে কারণে পায়ে আঘাত পায়। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দেখা যায় যে, তার পায়ে ফ্র্যাকচার (ভেঙে যাওয়া) হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযানে রকি বড়ুয়ার সহযোগি একজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি রকি বড়ুয়ার স্ত্রী নয়। মুসলিম মেয়ে। আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তার নাম আমেনা।
এর আগে গত ৭ মে রাতে ‘সাঈদীর মুক্তির জন্য বৈঠক, সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া কে এই রকি বড়ুয়া?’ শিরোনামে একুশে পত্রিকায় অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার মানুষ ভয়ঙ্কর ধর্মব্যবসায়ী, ভণ্ড, প্রতারক ও সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টিকারী রকি বড়ুয়ার গ্রেপ্তার ও দৃ্ষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠে। স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করে তার গ্রেপ্তার দাবিতে।