মাহফিলে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সামনে আলেমদের সমালোচনা করে ওয়ায়েজীনগণ

নুর নবী লিটন >>>

লক্ষ লক্ষ টাকা খরছের মাধ্যমে কি হবে তাদের ওয়াজ শুনে ? যারা প্রকাশ্যে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সন্মুখে এক আলেম তথা ওয়ায়েজীন অন্য আলেম ও ওয়ায়েজীনদের সমালোচনা তথা গীবত করে, তাদের মূর্খ , মোনাফেক, কাফের বলে ঘোষনা দেয়, এমন কি অনেক নাম করা বড় বড় আলেমরাও একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করে জনসমুক্ষে খাটো করার প্রতিযোগিতা করে যা মুলত হীংসা তথা প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এরা মাঝে মধ্যে দেশের বড় বড় আলেম তথা এশিয়ার বিখ্যাত মুরুব্বীদের ও বদনাম করতে ছাড়েনা। কি আশ্চর্য ?

যত বড় আলেম হউক তারা মানুষতো তাই যে কারো ভুল হওয়া স্বাভাবিক। ভুল শুধরে দেয়ার জন্য কিছু বলা ভাল তবে ভুল জেনে স্বিকার করার পর কোন প্রকার সমালোচনা কাম্য নয় তবে ভুল করে কেউ ভুল স্বিকার না করলে ভিন্ন কথা। আমি মনে করি কাউকে খাট করতে কোন আলেমেরই এমন কোন কথা বলা ঠিকনা যাতে সমাজে আলেম সমাজকে খাটো হতে হয়।কাউমি, খারেজী, মুফতী, সুন্নি, মাজহাবি, লা মাজহাবি, আহলে হাদিস, ওহাবী যে বা যারা হউক সবাই এক বাক্যে কাউকে খাটো ছোট না করে সাধারণ মানুষদের বিব্রান্তিতে না ফেলে সহজ সরল ভাবে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল তথা কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যা তাফসির ফতোয়া বর্তমান সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে করা ও বলাই ভাল।

বিশেষ করে নামাজ, রোজা, হজ্ব,যাকাত নিয়া আলোচনা করে মানুষদের আল্লাহ ও তার রাসুলের পথে কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক জীবন যাপনের পথে আহবান ও আখেরাত বা পরকালের ভয় তথা পরকালের আযাব জান্নাত জাহান্নাম নিয়েই বয়ান করা যৌক্তিক। শীয়া সুন্নি, ওহাবী, কাউমি খারেজী, আহলে হাদিস, মাজহাবি লা- মাজহাবি এসব ভেদাভেদ ও পরনিন্দা, সমালোচনা, প্রকাশ্য বিভক্তি আজ আমাদের সরলমনা সাধারণ মুসলমানদের দ্বীনের সঠিক পথে আনার পরিবর্তে বরং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

নামাজ দাঁড়িয়ে বসে না শুয়ে, নিয়ত পড়া আস্তে না জোরে, নিয়ত বাঁধা কোমরে না বুকে, দোয়াল্লিন না জোয়াল্লিন, মুনাজাত হবে কি না হবে এসব নিয়ে ওয়াজ না করে সবাই একবাক্যে সকল আলেমদেরই সবাইকে নামাজ পড়তে উদ্ভুদ্ধ করার ওয়াজ করলেই অন্তত আমাদের মত বেনামাজিদের মধ্যে কাউকে না কাউকে নামাজ পড়ার অভ্যাশ করাতে পারলে ভাল নতুবা কোন কাজে আসবে বলে আমার মনে হয়না।
আজকের যুগে মুসলমানদের এসব ভিবক্তিই মুসলমানদের পদে পদে মার খাওয়ার একমাত্র কারন। সেই চেচনিয়া, হার্জেগোবেনীয়া, ইরাক, ফিলিস্থিন, মিশর, ইয়েমেন, সিরিয়া, ভারতের জম্বু কাস্মীর, চিনের কিছু অংশে ও সর্বশেষ ইরানের বিপ্লবী গার্ড প্রধান সোলাইমানী হত্যা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে আমরা মুসলমানরাই আজ নির্যাতিত নিপিড়িত, শোষিত বঞ্চিত লাঞ্চিত তথা চরম অবহেলিত।

আজকে সব দোষ আমাদেরই, আমরা মারিনা বরং বরাবরই মরি তবু আমরা হই জঙ্গি, সন্ত্রাসী। হায়রে দুঃখ, মুসলিম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো তবু নিশ্চুপ, ওহাবী শীয়া সুন্নী ইস্যুতে আমরা বিভক্ত হয়ে কাফের বেইমানদের আমাদের রক্ত নিয়ে হোলী খেলার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে ট্রাম্প বেঞ্জামিন মেতানিয়াহুর সাথে বসে আঙ্গুর ফলের রসে বানানো হালাল মদে বুদ হয়ে আছি। হায় হায়, মুসলমান মারে কাফের তবু সন্ত্রাসী বলা হয় মুসলমানদেরই, কি জঘন্য তামাশা ?

কোরআন হাদিস, ফিকাহ এসব আমরা বুঝিনা বুঝার সাধ্য ও আমাদের নাই। এসব নিয়ে আপনারা যারা আলেম তারা সম্মেলন করে বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে প্রকাশ আলোচনা করেন কিন্তু আমাদের সামনে ওয়াজের নামে আর কোন ভেদাভেদকে উস্কে দিয়ে আমাদের ধ্বংস করবেননা প্লিজ। আলেমরা আল্লাহর অতি প্রিয় মর্ষাদার অধিকারী সম্মানিত মানুষ, নবীদের ওয়ারিশ, আমাদের মাথার মুকুট।

আমাদের মাঝে হেদায়াত সৃষ্টিতে আপনাদের ওয়াজ যদি ভুমিকা না রেখে বরং বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে তবে ৭৩ কাতারের মধ্যে জাহান্নামগামী ৭২ কাতার আলেমদের মধ্যে আপনারাও কিন্তু থাকবেন হকপন্থি এক কাতারের জান্নাতি আলেমদের মধ্যে স্থান আপনাদের হবেনা কারন আপনারা ইহুদী খ্রিষ্টানদের দালাল হয়ে মুসলমানদের মাঝে ভিবক্তির সৃষ্টি করে আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য হয়েছেন।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক করে দ্বীন বোঝার তৌফিক দান কিরুন, আমাদের মাঝে হেদায়াত দেন আর অবহেলিত বিশ্ব মুসলমানদের একই কাতারে এনে ইহুদী খ্রিষ্টানদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করে ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠাকল্পে ক্ষমতা দান করুন, আমিন।

লেখক :সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলির, আওয়ামীলীগ নেতা ও কলামিস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *