ধরা-ছোঁয়ার বাইরে গণপূর্তের শামীমের সেই গডফাদার মানিক বাবলু | বাংলারদর্পন

নিউজ ডেস্কঃ

একসময় যার ইশারায় চলতো গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বড় বড় ঠিকাদারী কাজ কে পাবেন তা নির্ধারণ করতেন তিনি। গোটা মন্ত্রণালয়, রাজউক, গণপূর্ত বিভাগ, গৃহায়ন অধিদপ্তর সবকিছুই ছিলো তার নিয়ন্ত্রনে। ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের খুব ঘনিষ্ঠজন। এক নামে সবাই তাকে চিনতেন ‘মানিক বাবলু’ নামে।

ফ্রান্সে ছিলেন দীর্ঘদিন। পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে দেশে এসে ঘাঁটি গাড়েন এই মানিক বাবলু। বাড়ি চট্টগ্রামে হবার সুবাদে মন্ত্রীর ছিলেন খুব কাছের লোক। ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিক বাবলু প্রথমে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্তণালয়ের তদবীর কাজে ব্যস্ত থাকল্রেও পরবর্তীতে তার নেটওর্য়াক সব জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়ে।

 

মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হবার সুবাদে রাজউকের বড় বড় তদবীরগুলো তার হাত দিয়েই শুরু হয়। পরবর্তীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বড় বড় কাজগুলো বিশাল অংকের কমিশনের ভিত্তিতে তা পাইয়ে দিতেন তিনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দায়িত্বে থাকাকালে জি কে শামীমকে কমিশনের ভিত্তিতে বড় বড় ঠিকাদারী কাজ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন এই বাবলু। রাজউকের পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতেন এই মানিক বাবলু। সেখানে থেকে তিনি হাজার কোটি টাকা লুটে নেন। জি কে শামীমের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজসহ বড় বড় বেশ কয়েকটি কাজ করছেন এই বাবলু।

মানিক বাবলুর রাজনৈতিক পরিচয় তেমন না থাকলেও তিনি অনুদান দিতেন ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগকে। চট্টগ্রাম সিনিয়রস ক্লাবের নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এই মানিক বাবলু। সেই সুবাদে অনেক রাঘব-বোয়ালের সাথে তার ছিলো ওঠাবসা। চলাফেরা করেন রাজকীয় স্টাইলে।

চট্টগ্রামের বড় বড় সাংবাদিকদের সবসময় হাতে রাখতেন তিনি। ঢাকার বেশকিছু নামী-দামী সাংবাদিকদের সাথেও তার ছিল সখ্যতা। বিভিন্ন মহলকে প্রতিমাসেই দিতেন মোটা অংকের মাসোয়ারা। চট্টগ্রামে গোল পাহাড় মোড়ে চায়না গ্রিল নামে তার বিশাল একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট রয়েছে। যা পুরোটাই চাইনিজ আদলে করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, থাইল্যান্ড এ তাঁর রয়েছে ৪/৫টি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। অধিকাংশ সময় থাকেন থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দুবাই এবং নিউইর্য়ক এ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রেও তার বেশকিছু ব্যবসা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *