সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে জামায়াতের দলীয় কার্যক্রম চলছে | বাংলারদর্পন

ফেনীর অসংখ্য সামাজিক সংগঠন পরিচালনার মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছে জামায়াত শিবিরের লোকজন।

 

এতো ছোট্ট একটি জেলায় কয়শত নামমাত্র সামাজিক সংগঠন আছে তার হিসাব পাওয়া মুসকিল। এসব সংগঠনের পরিচালন ব্যয় নির্বাহ হচ্ছে সাধারন মানুষের মানবিক কারনে দেয়া চাঁদা থেকে। এই চাঁদার ঠিক কতটুকু অংশ সামাজিক কাজে ব্যয় হয় তা নিয়েও সন্দেহ আছে প্রচুর।

 

হয়তো কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে তারা ভালো কাজ করছে এর মধ্যে তাদের সাংগঠনিক স্বার্থ কতটুকু। তাহলে বলতে হয়, এসকল সামাজিক সংগঠন গুলোর  বেশিরভাগ সহয়তাকারী ও উপদেষ্টা করা হয় সরকারদলীয় জনপ্রতিনিধি  এবং ব্যবসায়ী ও সিনিয়র নেতাদের। তাদের অগোচরে গোপনে এবং সুক্ষ কৌশলে রাজনৈতিক আইডিন্টিটি হাইড করে তারা সংগঠিত হয়ে সুবিধাজনক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে।

 

এবার আরেকটা প্রশ্ন উঠতে পারে যে তাহলে তারা আলাদা আলাদা নামে কেনো সংগঠন গড়ে তুলে বিচ্ছিন্ন থাকে? এর সহজ উত্তর হলো- কৌশলগত কারনে তারা প্রকাশ্যে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। কিন্তু সরকারের প্রতিকূলে যাবে এমন ইস্যুতে তারা একই মঞ্চে হাতে হাত ধরে দাড়ায়। তাদের কে সনাক্ত করতে যাতে বেগ পেতে হয়,সেজন্যই তারা ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত থেকে এক্টিভিটিজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

সবাই নিশ্চই দেখেছেন,

কোটা সংষ্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশই নিজেদের সাধারন ছাত্র পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে।আন্দোলনে ব্যাপক সক্রিয় সকলের ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম যদি নিখুতভাবে পর্যালোচনা করা হয় তবে একটি ক্যাটাগরি তে তাদের কমন আইডিন্টিটি পাওয়া যাবে। সেটা হলো তারা অধিকাংশই সামাজিক সংগঠনের পরিচালনায় জড়িত।

 

আরেকটি বিষয় ক্লিয়ার করছি। আপনারা হয়তো ভাববেন সকল সামাজিক সংগঠন বা সামজিক সংগঠকই কি একই কাজ করছে? উত্তর – না না না।

 

সামাজিক সংগঠনে যারা কাজ করে তারা অনেকেই প্রকৃতভাবে সমাজসেবক।  সবার কাছে তাদের গ্রহনযোগ্যতা আছে এবং পাবলিক সিম্প্যাথি ও অনেক বেশি। সেহেতু জামাত শিবিরের সুকৌশলে এখান থেকেই নিরাপদে এক্টিভিটিজ চালিয়ে যাওয়া সহজ মনে করে।

 

মনে রাখবেন জামাত শিবিরের কার্যক্রম পরিচালনা হয় বায়তুলমাল নামক ফান্ড থেকে। বায়তুলমাল আদায় হয় সদস্য ও সমর্থকদের কাছ থেকে।  তারা এখন প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে বাধাগ্রস্ত তাই এ সময়ের সবচাইতে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে তারা নামে বেনামে তথাকথিত সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

 

আমাদের আরেকটু সচেতন হওয়া অতীব জরুরী। মানবিক কারনে যাদের কে আশ্রয় দেয়া হচ্ছে তারা যেনো অমানবিক আগুনসন্ত্রাসের জন্য শক্তিশালী না হয়। সমাজসেবার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার,কিন্তু এর আড়ালে যেনো হায়েনারা ঐক্যবদ্ধ না হয়।

 

রবিউল হক রবিন,

জিএস, ফেনী সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদ।

সাধারন সম্পাদক, ফেনী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *