Main Menu

বিপুল পরিমাণ সিম ও ভিওআইপি সরঞ্জামসহ আটক চার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, বাংলার দর্পন:–  রাজধানীর মধ্যবাড্ডা ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জাম ও সহস্রাধিক অবৈধ সিম কার্ড ও সিম বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করার সরঞ্জামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ভিওআপি পরিচালনার ডিন স্টার গেটওয়ে মেশিন ছয়টি, এক হাজার ২৮৪টি সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার ও বায়োমেট্রিক করার দুটি মেশিন, কম্পিউটারে প্রিন্ট করা বিভিন্ন মানুষের ছবি ও সিল।

বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায় ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য জানান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফোরকান আহম্মেদ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন যাত্রাবাড়ি এলাকার ২৪/ক কাজলা নয়ানগর এলাকার মৃত মমতাজুর রহমানের ছেলে আবু নোমান খসরু (৪২), একই এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে আলমগীর হোসেন ওরফে মিশু (২৪), মধ্যবাড্ডা ৭২/৩ বৈশাখী সরনি রোড এলাকার মৃত আব্দুল হাশেমের ছেলে ফয়েজ আহম্মেদ রাজু (৩৫) ও সিদ্ধিরগঞ্জ সানারপাড় এলাকার ৫২/৪ নাহার ভিলা এলাকার মৃত মানিক মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৫)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বুধবার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় লন্ডন মার্কেটে এম কে টেলিকমের পাশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আলমীর হোসেন মিশু নামের এক ব্যক্তিকে ৩২টি গ্রামীণ ফোনের সিমসহ গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্য মতে, এম কে টেলিকম থেকে ভুয়া বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করার বিভিন্ন মানুষের বিপুল পরিমাণ ছবি ও বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের সরঞ্জামানসহ দোকান মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাজধানীর মধ্যবাড্ডা এলাকায় একটি পাঁচ তলা বাড়ির ফ্ল্যাট থেকে ফয়েজ আহম্মেদ রাজু ও আবু নোমান খসরু নামের দুই ভিওআইপি ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বাসা থেকে ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালনার ডিন স্টার গেট ওয়ে মেশিন ছয়টি, ১২৮৪টি সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার ও বায়োমেট্রিক করার দুটি মেশিন, বিভিন্ন মানুষের ছবি, সিল উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া সিম কার্ডের মধ্যে ১১০০টি সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের, রবির শতাধিক আর গ্রামীণফোনের রয়েছে ৮৪টি।

গ্রেপ্তারকৃতরা ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালনা ছাড়াও এসব অবৈধ সিম কার্ড দিয়ে প্রতারণা করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন মানুষের ছবি তারা বিভিন্ন স্টুডিও থেকে সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়া ওই দোকানে বিভিন্ন মানুষে বায়োমেট্রিক করতে এলে কৌশলে তারা ওই মানুষের হাতের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে অবৈধ সীম বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করে রাখে। এসব অবৈধ সিম কার্ড দিয়ে শুধু ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালনা নয়, তারা বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া নানা অপরাধে ব্যবহার করে থাকে। এই ঘটনায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণে আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় র‌্যাব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই চক্রের সঙ্গে বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটরদের কেউ জড়িত থাকতে পারে। এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *