বিএনপি-জামায়াতের আমলনামাঃ পর্ব ১- অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যাকাণ্ড

নিউজ ডেস্কঃ 

২০০১ সালে দেশী বিদেশী গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই সন্ত্রাসী দল হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত বিএনপি-জামায়াত। ২০০১ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে তাদের অপকর্ম সীমা ছাড়াতে থাকে।

দেশব্যাপী তারা চালাতে থাকে নৈরাজ্য, খুন-রাহাজানি। প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের খুন করা যেন ছিল তাদের নেশা। ২০০১ থেকে ২০০৬, কেবল এই পাঁচ বছরেই আওয়ামী লীগের ৩৭ হাজার নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে খুন করে দেশবিরোধী এই অপশক্তি।

জামায়াত-শিবিরের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসে দেশে নেমে আসে ঘোর অমানিশা, প্রবলভাবে ব্যাহত হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। একের পর এক খুন করা হয় অন্যধর্মের, মতের মানুষগুলোকে।

পবিত্র ধর্ম ইসলামের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে কতটা নৃশংসতা, অধার্মিকতা, কূটকৌশল আর স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কার্যকলাপ যে করে চলেছে জামায়াতের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির, তা অনেকেই জানেন না।

২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর, শুক্রবার। সকাল সোয়া ৭টার দিকে চার অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারী যুবক চট্টগ্রাম মহানগরীর ব্যস্ততম জামাল খান রোডের বাসায় হাটহাজারী কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীকে (৬০) মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। খুনিদের সকলেই জামায়াত শিবিরের ক্যাডার।

এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ১৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর জামাল খান, মোমিন রোড এলাকায় অঘোষিত হরতাল পালিত হয়।

গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীর মতো একজন সজ্জন, নিখাদ ভালো মানুষকে এভাবে মেরে ফেলা হবে, এমনটা কি কেউ কখনো ভেবেছিলেন!

জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত নাজিরহাট ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীর নৃশংস হত্যাকান্ডে তাঁর স্ত্রী রেলওয়ে অডিট কর্মকর্তা উমা মুহুরী বাদী হয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কোতোয়ালি থানার মামলা নং-৪২ তাং ১৬-১২-২০০১ ধারা ৩০২/১২০(খ)। মোট ১১ আসামির বিরম্নদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার শেষে গিট্টু নাসির, তসলিম উদ্দীন ওরফে মন্টু, আজম ও আলমগীর কবির ওরফে বাইজা আলমগীরের ফাঁসির আদেশ হয়। পরবর্তীতে গিট্টু নাসির ক্রসফায়ারে মারা যায়।

আসামি মহিউদ্দিন ওরফে মাইন উদ্দীন, হাবিব খান, শাজাহান এবং সাইফুল ওরফে ছোট সাইফুলসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। বলাই বাহুল্য যে এরা সকলেই চিহ্নিত শিবির ক্যাডার।

নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী মনেপ্রাণে ছিলেন স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী একজন ব্যক্তি। ভালোবাসতেন আওয়ামী লীগকে।

এছাড়া তিনি সকল ধরনের অন্যায়, অনিয়ম ও অবৈধ চাপের বিরম্নদ্ধে সোচ্চার থেকে কলেজ পরিচালন করতেন। এ কারণে জামায়াত-শিবিরের চিহ্নিত খুনীরা তাঁকে পরিকল্পিতভাবে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার বন্ধের দিনকে সন্ত্রাসীরা বেছে নেয়।

অধ্যৰ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীর মৃতু্যর পর পরই চট্টগ্রামবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। কালো পতাকা উঁচিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কে মিছিল বের হয়। হতবিহবল জনতার সকল মিছিল এসে জামাল খান রোডে জড়ো হয়। হত্যাকান্ডের পর থেকে জামাল খান সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবাদ আর মিছিলের জনপদে পরিণত হয় গোটা চট্টগ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *