নিউজ ডেস্ক: তথ্য গোপনের নিমিত্তে একাধিক ভুয়া অডিট রিপোর্ট তৈরি করে তা ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জমা দিয়ে ঋণ গ্রহণ, রাজস্ব ফাঁকি, বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সন্দেহজনক লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হতে চলেছেন বিএনপির ব্যাংকখ্যাত আবদুল আউয়াল মিন্টু। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্যের বরাতে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দুদক উপ-পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে দুদক তার বিভিন্ন অপকর্মের ব্যাপারে জানতে পেরেছে। বিভিন্ন নথি ও ফাইলপত্র ঘেঁটে বাংলা নিউজ পোস্ট জানতে পেরেছে, বিগত বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানির নামে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করেছেন মিন্টু।
এছাড়া বিগত বিএনপি সরকারের শাসনামলে তৎকালীন সরকারের একাধিক মন্ত্রীর সহযোগিতায় লন্ডনের বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন মিন্টু। এছাড়া সরকারকে ফাঁকি দিয়ে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের একাধিক কোম্পানিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। পাশাপাশি বিগত কয়েক মাসে বিশেষ করে কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় মিন্টু সাহেবের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়ে অবগত হতে পেরেছে দুদক। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও চালিয়ে যাচ্ছে দুদক। মিন্টুকে এরইমধ্যে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং দুর্নীতির বিভিন্ন নথি-পত্র যোগাড় করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। যেকোন সময় মানি লন্ডারিং ও রাজস্ব ফাঁকির অপরাধে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে তাকে।
জানতে চাইলে মিন্টুর দুর্নীতির বিষয়ে বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মিন্টুর বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ অমূলক নয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিএনপির শাসনামলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছিলেন মিন্টু সাহেব। তখন তিনি প্রায়শই বিদেশ যেতেন। শুনতাম তিনি দলের কাজে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। কিন্তু এই সফরের অন্তরালে যদি তিনি বিদেশে অর্থ পাচার করে থাকেন তবে সেটির দায়ভার নিশ্চয় বিএনপি নেবে না। মিন্টু সাহেব দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে যদি গ্রেফতার হন তবে সেটি বিএনপির জন্য নেতিবাচক হবে। এখন এমনিতেই দলের অবস্থা ভালো না। এরমধ্যে দলের নেতারা চুরি-দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।