Main Menu

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

দর্পন নিউজ ডেস্কঃ প্রকাশ- ১০ নভেম্বর ১৬।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিস্ময়কর’ বিজয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ট্রাম্পের অভিবাসী, মুসলমান ও অন্যান্য গোষ্ঠীকে আক্রমণ করে দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে স্লোগান দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে সান ফ্রান্সিসকোর বে এলাকা, ওকল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ শুরু হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দোকানের সামনে ভাঙচুর করে, টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশের রায়ট কারের দিকে ঢিল ছুড়লে পুলিশও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।
বুধবার ভোরে বার্কলে ও ওকল্যান্ড শহরে কয়েকশ মানুষ রাস্তায় নেমে ‘ট্রাম্প আমার প্রেসিডেন্ট নয়’ বলে স্লোগান দেয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস পিটসবার্গ, সিয়াটল, পোর্টল্যান্ড ও ওরেতেও বিক্ষোভের খবর দিয়েছে।
এছাড়া পেনসিলভানিয়া থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন থেকে ওয়াশিংটন স্টেট- সব জায়গায় শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিক্ষোভকারীরা একটি সড়কে ঢোকার সময় গাড়ির ধাক্কায় একজন আহত হন বলে স্থানীয় হাইওয়ে পেট্রোল জানিয়েছে।
ওরেগনে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি রেল চলাচলেও বাধা দেয়। সেখানে তিনশ বিক্ষোভকারী ‘ট্রাম্প আমার প্রেসিডেন্ট নয়’ স্লোগান দেয়। কেউ কেউ আমেরিকার পতাকাতেও আগুন ধরিয়ে দেন।
বুধবার নিউ ইয়র্কে হাজারো বিক্ষোভকারী ট্রাম্প টাওয়ার এলাকার আশপাশজুড়ে বিক্ষোভ করে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ম্যানহাটান মিডটাউনের ফিফথ এভিনিউয়ের ওই টাওয়ারেই বসবাস করেন ট্রাম্প। শতাধিক বিক্ষোভকারী ম্যানহাটান পার্কের কাছে একত্রিত হয়ে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।
শিকাগোর ডাউনটাউনে প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারী ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড টাওয়ারের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। তারা ‘নো ট্রাম্প’ , ‘নো কেকেকে’ এবং ‘নো রেসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দেন।
ওই এলাকার রাস্তা আটকে বিক্ষোভকারীদের বাধা দেয় শিকাগো পুলিশ। সেখানে কোনো ধরণের সহিংসতা বা আটকের খবর পাওয়া যায়নি।
“এ দেশের কী হতে যাচ্ছে, তা ভেবে আমি সত্যিই আতঙ্কিত,” বলেন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আদ্রিয়ানো রিজ্জো।
২২ বছর বয়সী তরুণ যে টি-শার্ট পরেছিলেন, তাতে লেখা- “যতখানি পারো অধিকার উপভোগ কর।”
সিয়াটলে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভের সময় কাছাকাছি এলাকায় এক অস্ত্রধারীর গুলিতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ বলেছে, ওই ঘটনা বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।
বিক্ষোভকারীরা মেক্সিকো সীমান্তে ট্রাম্পের দেয়াল তোলার পরিকল্পনা এবং তার অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় শত শত বিক্ষোভকারীরা ফিলাডেলফিয়া, বোস্টন, পোর্টল্যান্ড, ওরেগনে বিক্ষোভ করেন। রিপাবলিকানদের ঘাঁটি বলে পরিচিত টেক্সাসের অস্টিনেও বিক্ষোভ হয় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। সেখানে প্রায় চারশ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে।
সিয়াটলে প্রায় একশ বিক্ষোভকারী ক্যাপিটল হিলের কাছে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে। স্কুল-কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী সিয়াটল, ফিনিক্স, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওকল্যান্ড, রিচমন্ড ও এল ক্যারিতোতে বিক্ষোভ দেখায়।
পেনসিলভেনিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের কয়েকশ শিক্ষার্থীও রাস্তায় নামেন ট্রাম্পের বিরোধিতায়।
বুধবার দিনের শুরুর দিকে ১৫শ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সান ফ্রান্সিসকো বার্কলে হাইস্কুলের সামনে বিক্ষোভ করে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে অগ্রসর হয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র এডাম ব্রেভার বলেন, “আমরা বসে থাকতে পারি না। একজন বর্ণবাদী ও নারীবিদ্বেষীকে প্রেসিডেন্ট হতে দিতে পারি না।”
ট্রাম্পের বিজয়কে ‘খুব দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেন ড্যানিয়েল কলিন নামের আরেক শিক্ষার্থী, যিনি গুয়েতেমালা থেকে আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
আরও কয়েকজন লাতিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া কলিন বলেন, লাতিন আমেরিকা থেকে আসা অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের কারণে তার আমলে তাদের বন্ধু ও স্বজনদের কী হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
অকল্যান্ডের ক্যালিফোর্নিয়া কলেজ অব দ্য আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফ্রিকান-আমেরিকান ড্যানিয়েল অস্টিন বলেন, ট্রাম্পের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে তার।
“আমার মনে হচ্ছে, আমার অস্তিত্বের একটা অংশ চুরি হয়ে গেছে- একজন উভকামী হিসেবে নয়, একজন কালো হিসেবে নয়, একজন আমেরিকান হিসেবে।”
লস অ্যাঞ্জেলেসে বুধবার ভোরে লাতিন আমেরিকার শিক্ষার্থী অধ্যুষিত তিন শতাধিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে সিটি হলের সামনে বিক্ষোভ করে।
স্প্যানিশ ভাষায় তারা স্লোগান দেন- ‘জনগণের ঐক্য পরাজিত হবে না’, ‘অভিবাসীরাই আমেরিকাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছে’।
এই শিক্ষার্থীদের ‘ড্রিমার্স’ প্রজন্মের প্রতিনিধি বলা হয়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে। এদের বাবা-মা অবৈধ উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ায় এখন তাদের দেশ ছাড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
“একজন শিশু কখনোই দেশ ছাড়ার ভয় নিয়ে জীবন ধারণ করতে পারে না,” বলেন এই বিক্ষোভের সংগঠক স্টেফানি হিপোলিতো। তিনি জানান, তার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রেরই নাগরিক।
trump_protests_%281%29

বিভিন্ন শহরে ট্রাম্পবিরোধী এ বিক্ষোভের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট হবেন।
নির্বাচনের আগে এ মাসের ‍শুরুতে ক্লু ক্লুক্স ক্ল্যান বলে পরিচিত উগ্রগোষ্ঠীর সমর্থক একটি পত্রিকার সমর্থনও প্রত্যাখ্যান করেছিল ট্রাম্প শিবির।
ওই সময় তার প্রচার শিবির থেকে বলা হচ্ছিল- ট্রাম্প এবং তার প্রচার শিবির বিদ্বেষমূলক যে কোনো ঘটনার বিরোধী।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *