ঐক্যফ্রন্টের নামে বিএনপি বাঁচানোর মিশনে কাজ করছেন ড. কামাল, নেপথ্যে জামায়াত

নিউজ ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসানোর অভিপ্রায়ে কাজ করছেন ড. কামাল বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা উঠেছে। অন্যদিকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে জামায়াত। জামায়াতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তায় আওয়ামী লীগ বিরোধী জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ গঠিত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে।

মূলত জঙ্গিবাদ, যুদ্ধাপরাধ ও সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার কারণে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা হারানো জামায়াত বিএনপির ছায়ার আড়ালে থেকেই যুক্তফ্রন্টের কলকাঠি নাড়ছে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে। বলা হচ্ছে, জামায়াতের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েই সরকারবিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠন করে নির্বাচন করার জন্য আটঘাট বেঁধে নেমেছেন ড. কামাল।

তথ্য মতে, যুদ্ধাপরাধ, জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়ার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক দল হিসেবে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। এমন প্রেক্ষাপটে রাজনীতির মাঠ থেকে জামায়াত কিছুটা সরে গিয়ে নিজেদেরকে বিএনপির অংশ হিসেবে দেখতে শুরু করে। এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সহায়তা লাভের আশায় জামায়াতকে বিএনপি অঙ্গ সংগঠন হিসেবে স্বীকার করে নিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমেছেন জাতীয় এক্যফ্রন্টের প্রধান পুরোধা ড. কামাল।

অন্যদিকে বিএনপিকে রাজনীতির মাঠে টিকিয়ে রাখতে এবং সংসদে ফিরিয়ে রাজনীতির মাঠে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে ড. কামালকে ভরসা মানছে জামায়াত। সূত্র বলছে, জামায়াতের আর্থিক ও লজিস্টিক সাপোর্টে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। শুরুতে অবশ্য জামায়াতকে বিশ্বাস করতে রাজি হননি ড. কামাল। পরবর্তীতে চলতি বছরের মে এবং সেপ্টেম্বরে দুই দফা লন্ডন সফর করে জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের সাথে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে বিএনপি ও জামায়াতকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর জোট গঠন করার জন্য রাজি হন ড. কামাল।

জানা যায়, ব্যারিস্টার রাজ্জাক ড. কামালকে সারা জীবনের রাজনৈতিক চর্চার জন্য শূন্য ফলাফলের বিপরীতে ‘প্রধানমন্ত্রী পদ’ দেওয়ার প্রলোভন দেখালে ড. কামাল বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনের ব্যাপারে সায় দেন। ব্যারিস্টার রাজ্জাক জামায়াতের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বিএনপিকে তাদের মূল দল বিবেচনা করার জন্য ড. কামালকে অনুরোধ জানান। বিএনপিকে নির্বাচনে জয়ী করতে পারলে জামায়াত তাকে জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার দেবে বলেও ওয়াদা করেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক লন্ডনে অনুষ্ঠিত সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ বৈঠকে ড. কামালকে আশ্বস্ত করেন যে, জামায়াত বৃহত্তর রাজনৈতিক জোটে প্রকাশ্যে কোন ভূমিকা পালন করবে না। জামায়াত বৃহত্তর আওয়ামী লীগ বিরোধী জোটটির পেছনের শক্তি হিসেবে কাজ করবে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক এও জানান, জামায়াত ড. কামাল ও বিএনপির সমর্থক বিদেশি রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন সংস্থার সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখবে যাতে নির্বাচনের পূর্বে সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বহাল থাকে। এই মিশন সফল করার জন্য যাবতীয় অর্থ ব্যয় করবে জামায়াত। সরকার যদি ড. কামালের নেতৃত্বে জোটের দাবি মেনে নিয়ে নির্বাচন আয়োজন করে তবে জামায়াত সেটিকে সাধুবাদ জানাবে। আর যদি সরকার তাদের দাবি-দাওয়া না মেনে নেয় তবে বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে অ্যাকশনে যাবে জামায়াত।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে নিজেকে নতুন করে দেউলিয়া করছেন ড. কামাল। জামায়াতের মতো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিদের নতুন জীবন দিতে গিয়ে স্বৈরশাসক জিয়ার মতো ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছেন ড. কামাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *